1. [email protected] : Rangpur24.com : Mahfuz prince
রংপুরে পাঁচ মাসে ১৩ জনের প্রাণহানী - rangpur24
সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ১২:১১ অপরাহ্ন

স্যামসাং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড শপ এখন আর,এ,এম,সি শপিং কমপ্লেক্স এর পঞ্চম তলায়। শপ নংঃ- ২,৩,৪ প্রয়োজনেঃ- ০১৩২২৭১৪৮৪৭, ০১৮১৮৭০১৮৭২

রংপুরে পাঁচ মাসে ১৩ জনের প্রাণহানী

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
  • ১৪১ Time View

তিস্তার চরের মানুষের মাঝেও লেগেছে দিন বদলের হাওয়া। পাল্টে যাচ্ছে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থাও। অনাবাদী জমিগুলো পরিণত হয়েছে উর্বর মাটিতে। সেই সাথে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের আচার আচরণও। এখানকার প্রভাবশালীরা হয়ে উঠছেন অপ্রতিরোধ্য, প্রতিনিয়তই ঘটছে আইনশৃঙ্খলার অবনতি। রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছায় তিস্তার বিন্তীর্ণ চরে গত পাঁচ মাসে ঘটেছে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা। এতে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৩ জনের, মামলা হয়েছে শতাধিক। এসবের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে গ্রাম্য রাজনীতি ও জমি সংক্রান্ত বিবাদে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে সামান্য বিষয়ে বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন চরের মানুষ।

বদলে যাওয়া উত্তরের প্রধান ১৬ নদ-নদীর সাদা বালি এখন উর্বর জমিতে পরিণত হয়েছে। চোখ মেললেই দেখা যায় সবুজের সমারোহ। এই ফসল চাষে চরবাসী মিতালী গড়েছেন সবুজের সাথে। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের প্রায় ১২৩টি চরের মধ্যে আবাদযোগ্য জমিতে পরিণত হয়েছে ৮১ হাজার হেক্টর বালুচর। পরিবর্তন যেমন হচ্ছে ভাগ্যের, তেমনি এখানকার সাদামাটা মানুষদের উশৃঙ্খলতাও বেড়েছে বহুগুন। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ প্রবাদটি যেন সত্যি হয়েছে চরের বাসিন্দাদের কাছে। প্রভাবশালীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এলাকায়। দখলে নিচ্ছেন সরকারের পরিত্যাক্ত শত শত বিঘা জমি। শক্তিহীন মানুষগুলোর আবাদী জমিসহ বসতবাড়ি জবর দখল করছে প্রভাশালীদের এই চক্রটি। সেই সাথে গ্রাম্য রাজনীতির মারপ্যাচে ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে চর। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, বিদ্যৎহীনতাসহ মোবাইল নেটওর্য়াক না থাকায় অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে চরগুলো।

বর্তমানে চর জীবন সম্পর্কে জানতে সম্প্রতি সরেজমিনে যাওয়া হয় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা চর বাগডোহরা গ্রামে। জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়েছে গ্রামটিতে। কখনও পাঁয়ে হেটে, কখনো নৌকায় তিস্তা পেরিয়ে সবুজের বুক চিরে মোটরসাইকেল চালিয়ে। গত ৬ এপ্রিল এই গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য আজিজুল ইসলামকে (৫৫) তার প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে অর্তকিত হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে শত শত মানুষের সামনে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনা সবাই তাকিয়ে দেখলেও প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি স্থানীয়রা। বলতে গেলে ভূমিদস্যু সাইফুল ইসলাম বাহিনীর কাছে জিম্মি পুরো বাগডোহরা গ্রাম। তপ্ত রোদে পুড়িয়ে গ্রামে ঢোকার সাথেই শত শত মানুষ ছুটে আসেন অসহায়ত্বসহ তাদের না বলা কথাগুলো প্রকাশ করার জন্য। শুধু ন্যায় বিচারের দাবির প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছিল নারী-পুরুষের কণ্ঠে।

তারা জানান, ঘটনার দিন স্থানীয় বাজার থেকে দুপুরে বাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম। পথে চর বাগডোহরা পাড়ায় তাকে পথরোধ করে সাইফুল ইসলাম। এরপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আহত করে। প্রাণ বাঁচাতে স্থানীয় মমিন আলীর বাড়িতে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। কাঁচাপাকা বাড়ির টিনের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে হত্যা করা হয়। বৃষ্টিতেও মুছে যায়নি-ঢাকেনি পথের ধুলায়, এখনও মাটিসহ টিনের বেড়ায় লেগে আছে ছোপছোপ রক্তের দাগ।

ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হারুন অর রশিদ, মাহফুজার রহমান, সাইফুল ইসলাম, মজিবর রহমান ও সাহানারা বেগম জানালেন, ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আজিজুল ইসলাম সামান্য ভোটে পরাজিত হন সাইফুলের কাছে। এরপর থেকে গ্রাম্য রাজনীতির অশনি সংকেত নেমে আসে তার দিকে। সাইফুলের সব অনিয়নম, দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় আজিজুল প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের কাছে একজন সৎ, নির্ভীক দায়িত্ববান পরোপকারী এবং অলিখিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আস্থা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাইফুলকে পরাজিত করে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন আজিজুল ইসলাম। আর এই জয়ই কাল হয় তার জীবনে। পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিতে না পেরে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল সাইফুল। চরে গড়ে তোলেন একক আধিপত্য। সরকারি জমি থেকে শুরু করে নৌঘাট, চর দখল, অসহায় গরিব মানুষের বাড়ি জবরদখলসহ সব ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। আর এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে আজিজুলকে। এর আগেও জমি দখলকে কেন্দ্র করে রেয়াজুল, কোনা ও আছিমুদ্দিন নামের তিনজনকে সাইফুল খুন করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ঘটনার দিন জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগ মূহুর্তে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে কাটা মুরগির মত ছটফট করতে করতে জীবন ভিক্ষা চাইলেও এতটুকু গলেনি খুনিদের মন। ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে প্রচার চালানো হয় জমি দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে আজিজুলের। শুধু তাই নয়, আজিজুলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সাইফুল বাড়িতে ফিরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত নিজের জ্যাঠাতো বড় ভাই রেয়াজুল ইসলামকে (৮৬) জবাই করে হত্যা করে। যদিও এই ঘটনায় রেয়াজুলের স্ত্রী রোসনা বেগম বাদী হয়ে নিহত আজিজুলের পক্ষের ৪৫জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এনিয়ে সাইফুল ও নিহত রেয়াজুলের স্বজনদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে কেউই সহযোগিতা করেননি। তাদের নিকটতম কাউকেই এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর পরে যাওয়া হয় নিহত আজিজুল ইসলামের বাড়িতে। স্বজন হারানোর বেদনায় এখনও সেখানে চলছে কান্নার রোল। স্বামীকে হারিয়ে শুধুই বিলাপ করে চলছেন স্ত্রী রোজিনা বেগম। দুই মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে নির্ঘুম রাত পার করছেন তিনি।

এ ঘটনায় নিহত আজিজুলের ছেলে রেজাউল হক বুলেট বাদী হয়ে সাইফুলসহ ৫২জনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে দাবি করেন। সাইফুলের লাঠিয়াল বাহিনী মামলা তুলে নিতে নানাভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে ভোটের রাজনীতি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছিল। কিন্তু ওই বিষয়কে ঘিরে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটবে ধারণা ছিল না।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুশান্ত কুমার সরকার জানান, ঘটনার দিন এলাকার কিছু মানুষ মুঠোফোনে তাকে জানিয়েছিলেন জমি নিয়ে বিরোধে দু’পক্ষের সংর্ঘষ বেধেছে। প্রকৃত ঘটনাকে আঁড়াল করাসহ সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানিয়েছেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও চরাঞ্চলগুলো নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত আছেন। তুচ্ছ ঘটনাগুলো সেখানে বড় রূপ ধারণ করছে। ঘটছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। বিশেষ করে ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা নড়েচড়ে বসেছেন। চরে বসবাসকারী মানুষের জীবন চলার পথ স্বাভাবিক রাখতে নতুন করে ছক আাঁকা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ চর গ্রামগুলোতে ইতোমধ্যে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালী হোক বিন্দুমাত্র ছাড় পাবে না। totho- kalekontho

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 রংপুর২৪ডটকম-সত্য প্রকাশে সারাক্ষণ[email protected]
Md Prince By rangpur24.com