September 16, 2021, 10:14 am

রংপুরে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 15, 2021
  • 112 Time View

সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুনাম ও চাহিদার প্রেক্ষিতে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি বিদেশে কর্মরত রয়েছে এবং দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় আমাদের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু বাংলাদেশের এক শ্রেণীর অসাধু দালাল চক্র স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজসে বিদেশে অবৈধভাবে মানব পাচার করছে। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ তারা গ্রামের সহজ সরল লোকদেরকে টার্গেট করে বিভিন্ন প্রকার প্রতারণার ফাঁদ সৃষ্টি করে মানব পাচার করত। নিরিহ লোকজনদের সর্বশান্ত করাই তাদের একমাত্র নেশা ও পেশা। তাদের এহেন কর্মকান্ডের ফলে আজ বহু মানুষ শারীরিক, মানুষিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার। এমনি একজন ভুক্তভোগী সহজ সরল গ্রামের বাজারে একটি মোবাইল মেরামত দোকানের মালিক পরিবারবর্গ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। একদিন ভুক্তভোগীর দোকানে তারা ফ্লেক্সিলোড করার জন্য আসলে এক কথায় দুই কথায় আলাপ চারিতায় ঐ ভুক্তভোগীর সাথে পরিচয় হয়। তারা জানায় যে, অতি অল্প টাকায় অধিক সুযোগ সুবিধায় মধ্যপ্রাচ্যে লোক পাঠিয়ে থাকে এবং এক পর্যায় ভুক্তভোগীকে মধ্যপ্রাচ্যে নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করে। ভুক্তভোগী বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের কথায় রাজি হয়। গত ২৬ জুন ১৭ ইং তারিখে তারা ভুক্তভোগীর দোকানে আসলে ভুক্তভোগী তার পাসপোর্ট প্রদান করে। তাদের দেওয়া ভিসা অনুযায়ী ভুক্তভোগী ৮ সেপ্টেম্বর ১৮ইং তারিখে কাতার হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গমন করে। সেখানে গমন করার পর সেখান থেকে মোঃ নাজমুল ইসলাম (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন তাদের (মানব পাচারকারী) দলের সদস্য ভুক্তভোগীকে রিসিভ করে ইরাকস্থ একটি ভবনের কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। ভুক্তভোগীর মতে আরো ২১ জন লোক ছিল ঐ কক্ষে । উক্ত কক্ষে আটকে রেখে ভুক্তভোগীদেরকে শারীরিক নির্যাতনসহ ২/৩ দিন কিছু না খেতে দিয়ে বিভিন্ন রকমের কষ্ট দিতে থাকে এবং বাড়িতে ফোন করে আরো অর্থের দাবী করে। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী এক মাস পর গোপনে আটকে রাখা কক্ষ থেকে পালিয়ে যায় এবং বিভিন্ন লোকজনের সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ দুতাবাসের সাহায্যে বাংলাদেশে চলে আসে। তারা সম্প্রতি গ্রেফতারকৃত পাচার চক্রের মূল হোতা লিটন ডাক্তার লিটন (৪৫) এর সহযোগী বলে তারা স্বীকার করেছে। তাদের সাথে জড়িত অন্যান্য মানব পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য র‍্যাব ১৩ এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আটককৃত মানব পাচারকারীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) মাহমুদ বশির আহমেদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category