1. [email protected] : Rangpur24.com : Mahfuz prince
রংপুরের কৃতিসন্তান কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ডা. হামিদুল হক খন্দকার এবং অর্থপেডিক্স চিকিৎসা - rangpur24
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

স্যামসাং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড শপ এখন আর,এ,এম,সি শপিং কমপ্লেক্স এর পঞ্চম তলায়। শপ নংঃ- ২,৩,৪ প্রয়োজনেঃ- ০১৩২২৭১৪৮৪৭, ০১৮১৮৭০১৮৭২

রংপুরের কৃতিসন্তান কিশোর মুক্তিযোদ্ধা ডা. হামিদুল হক খন্দকার এবং অর্থপেডিক্স চিকিৎসা

  • Update Time : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
  • ২৯১ Time View

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একদিনের ঘটনা। তখন দিন-তারিখ মনে রাখাও অসম্ভব ব্যাপার ছিল বীর মুক্তিযােদ্ধাদের। রাজারহাটের সিংগেরডাবড়ি রেলস্টেশনের কাছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কিছু সেনা স্থানীয় বাজারে চালাচ্ছিল লুটতরাজ। ঠিক সেই সময় সেখানে হাজির হয় অকুতোভয় এক কিশোর মুক্তিযােদ্ধা। একদম সামনাসামনি পড়ে যান তিনি হানাদার পাকসেনাদের। তার দিকে অস্ত্র তাক করছে পাকিস্তানি হানাদার।
যতই সাহসী বীর হোক না কেন মানুষ তো! জল্লাদের অস্ত্র বুকের দিকে তাক করা হয়েছে বুঝতে পারেন কিশোর বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল। একটা ঢোক গেলেন। মৃত্যু একদম কাছাকাছি স্পষ্ট বুঝতে পারেন। চোখের পলকে ভেসে ওঠে প্রিয় জনদের মুখ। মনের মধ্যে ক্রোধ জাগে পাকিস্তনি হায়েনাদের থাবা থেকে মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ দেখে যেতে পারবেন না! কী যেন অকস্মাৎ হয়ে যায়। শরীরের পেছনে লুকানো আগ্নেয়াাস্ত্র বের করে
ঠা ঠা ঠা। ফায়ার শুরু করে একদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন গর্তের মধ্যে কাভার নিতে। এর মধ্যে আরও কয়েকজন সহযােগী মুক্তিযােদ্ধা তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন। দুই পক্ষের সামনাসামনি গােলাগুলি চলতে থাকে। তারপর আত্মরক্ষার্থে ক্রোল করে কীভাবে কীভাবে যেন মুক্তিযােদ্ধারা নিজেদের রক্ষা করেন। একদম মৃত্যুর মুখ থেকে প্রাণে বেঁচে যান বীর মুক্তিযােদ্ধা হামিদুল হক খন্দকার। বরেণ্য অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক, রংপুরের অর্থোপেডিক্স চিকিৎসার পুরোধা,
বীর মুক্তিযােদ্ধা, সংগঠক ও সমাজসেবক অধ্যাপক ডা. হামিদুল হক খন্দকার একজন আলােকিত গুণীজন। ১৯৫৫ সালের ১২ মার্চ কুড়িগ্রাম জেলার বর্তমান ফুলবাড়ি উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা ডাক্তার নজির হোসেন খন্দকার ও মাতা আফরােজা বেগম। বাবা-মা দুজনেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। ফুলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন ফুলবাড়ি জসিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৭১-এর ব্যাচের মেধাবী এই শিক্ষার্থী ১৯৭২-এ এসএসসি পাস করে ভর্তি হন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে। এখান থেকে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করে অংশ নেন এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায়। ভর্তি যুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের প ম
ব্যাচে ভর্তির সুযােগ পান। ১৯৮২ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন যােগ্যতার সাথে এবং ওই বছরেই রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে কর্মজীবন শুরু করেন। বিসিএস চিকিৎসক হিসেবে ১৯৮৩-তে প্রথম পোস্টিং পান নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ১৯৮৫-তে রংপুর মেডিকেল কলেজে আসেন সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে অর্থপেডিক্স বিভাগে। ১৯৮৯ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য পোস্টিং নিয়ে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল (নিটোর) -এ যোগদান করেন। ১৯৯৭ পর্যন্ত নিটোরে থাকেন।
এখানে তিনি অর্থপেডিক্স চিকিৎসায় উচ্চতর কোর্স এমএস সম্পন্ন করেন। এর বাইরেও তিনি অপারেশনের বিভিন্ন কৌশল আত্মস্থ করার জন্য অগ্রজ শিক্ষকদের করতেন সহযােগিতা। তিনি দেশবরেণ্য অনেক গুণী অর্থপেডিক্স বিশেষজ্ঞের কাছে এ-সংক্রান্ত অনেক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। এরপর ফিরে আসেন প্রিয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। ২০০৫ সালে এখানে সহযােগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁর পূর্বতন তিনজন সহকারী অধ্যাপকের সাথে রংপুর মেডিকেলে অর্থপেডিক্স চিকিৎসার আধুনিকায়নের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে হামিদুল হক খন্দকারের ঐকান্তিকন্ত্রচেষ্টায় এই বিভাগে আধুনিক চিকিৎসা বিশেষ করে জটিল ও কঠিন হাড়ভাঙা রােগীর অপারেশনের ব্যাপ্তি লাভ করে। এই বিভাগের জুনিয়র শিক্ষক, চিকিৎসক ও ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁর সাহচর্যে লাভ করে অর্থপেডিক্স চিকিৎসার আধুনিক কলাকৌশলের শিক্ষা। একসময় এই অ লের মানুষকে এ-সংক্রান্ত অপারেশন কিংবা চিকিৎসার প্রয়োাজনে যেতে হতো রাজধানীতে। ২০০৮ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করলেন তিনি। এরপর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগগদান করেন। তার সময়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ ঘটে। নিরসন হয় দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের।
২০১৩-এর ডিসেম্বরে তিনি জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল বা ২০১৩-এর ডিসেম্বরে তিনি জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল বা নিটোরের পরিচালক হিসেবে যোগগদান করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে এই অ লের আর কেউ দায়িত্বপ্রাপ্ত হননি। ২০১৫ সালে এখান থেকে চাকরি জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি রংপুরে প্রাকটিস করছেন। চিকিৎসক হিসেবে তিনি অপারেশনের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতেন।
উল্লেখ্য যে, অর্থপেডিক্স অপারেশনে ভাঙার ধরনের ভিন্নতার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কিছু কৌশল অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়ে থাকেন। তিনি নতুন নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে তাঁর দীর্ঘ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিতেন। এই অঙ্গনে তিনি একজন বটবৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। তিনি দেশের একজন প্রখ্যাত অর্থপেডিক্স চিকিৎসক ও সার্জন। দেশজুড়ে রয়েছে তার অসংখ্য গুণমুগ্ধ চিকিৎসক ও রোগী।
অধ্যাপক ডা. হামিদুল হক খন্দকার একজন বিশিষ্ট মুক্তিযােদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়াাশোনা করতেন। জীবনবাজি রেখে একের পর এক সম্মুখযুদ্ধ এবং গেরিলা যুদ্ধে লড়াই করে গেছেন স্বাধীনতার জন্য। প্রথমে কুড়িগ্রামে ধরলা বেল্টে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে শুরু করেন যুদ্ধ। কিছুদিন ক্যাপ্টেন নওয়াজেশের অধীনে যুদ্ধ করেছিলেন। আরও উচ্চপ্রশিক্ষণের জন্য ভারতের দার্জিলিংয়ের পাদদেশে মুজিব ক্যাম্পে যান। এখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধের বিভিন্ন অস্ত্র ও কৌশল প্রশিক্ষণ দিত। এখানে বাছাই পর্বে ১০৬ জনের মধ্যে তিনিসহ আরও ৪১ জনপ্র্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হন। সেখানে শেখ কামালের সাথে প্রশিক্ষণের সুযোগ হয়েছিল। অত্যন্ত কঠিন ছিল এই ট্রেনিং। বিভিন্ন অস্ত্র ও আর্টিলারি প্রশিক্ষণ এক মাস সময়ের মধ্যে গ্রহণ করতে হয়। এরপর সরাসরি চলে আসেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। তাদের ৪২ জনের দলের জন্য অস্ত্র পেয়েছিলেন ২১ টি। এই অর্ধেক অস্ত্র আর বুকভরা সাহস নিয়ে প্রশিক্ষিত পাকিস্তনি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। লেখক- নিজস্ব প্রতিবেদক আমাদের নতুন সময়। ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 রংপুর২৪ডটকম-সত্য প্রকাশে সারাক্ষণ[email protected]
Md Prince By rangpur24.com