• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
ad728

রংপুরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি


FavIcon
Rangpur24
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 1, 2026 | সংবাদটি দেখেছেন : 167
ছবির ক্যাপশন : ad728

রংপুর, ১৬ আগস্ট: চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির বিভিন্ন পদে কর্মরত প্রায় চার শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রংপুরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করলেও স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়ায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

রবিবার নগরীর সিও বাজার এলাকায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর আঞ্চলিক অফিসের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর অঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘স্থায়ীকরণের ঘোষণা চাই’, ‘বৈষম্যের অবসান চাই’, ‘দীর্ঘদিনের কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে’সহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আইটি সাপোর্ট অফিসার লতিফুর রহমান, ফিল্ড টেকনিশিয়ান সাখাওয়াত হোসেন, সাজু মিয়াসহ আন্দোলনরত কর্মীরা।

বক্তারা বলেন, এমএসএম লজিস্টিক প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রংপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, আল্লাহর দরগা, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী একইভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কাজ করেও তারা স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ পাননি।

আইটি সাপোর্ট অফিসার লতিফুর রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু এখনো আমাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়নি। চাকরির নিরাপত্তা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অনেকের বয়স অন্য কোথাও নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তাই স্থায়ী নিয়োগ ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করলেও স্থায়ী কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা পান না তারা। ফলে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও দুই ধরনের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক।

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায়ে তারা ধাপে ধাপে কর্মসূচি পালন করে আসছেন। প্রথম ধাপে গত ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত টানা সাত দিন কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ২৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আরও ১০ দিন কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এরপর ৬ আগস্ট থেকে তৃতীয় ধাপে নতুন করে ১০ দিনের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে, যা এখনো চলমান রয়েছে।

কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। এতে আর্থিক নিরাপত্তা, পদোন্নতি, অবসর সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে চাকরি স্থায়ীকরণের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাবে।

...