রংপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
Rangpur24
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 1, 2026 | সংবাদটি দেখেছেন : 53
রংপুর, ১৬ ভাদ্র (৩১ আগস্ট):
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুলবিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার (৩১শে আগস্ট) সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রংপুর জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “নজরুল দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হতো। তবে স্বল্প সময়ে তিনি যে সৃষ্টি রেখে গেছেন, তা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, জাতীয় জীবন, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বিকাশে আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ২২ বছরের সৃজনশীল জীবনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য সাহিত্য ও সংগীতে অবদান রেখেছেন। নজরুলের জীবনের নানা বেদনাবিধুর অধ্যায়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে দুঃখ-কষ্ট ও আর্থিক সংকট থাকলেও এসব প্রতিকূলতা তাঁর প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছেন। তাঁর জীবন ও সাহিত্য প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রতিভা বিকাশের দৃষ্টান্ত।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আমাদের জীবনকে সুন্দর, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িকভাবে পরিচালনার প্রেরণা দেয়। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সৃষ্টি পৌঁছে দেওয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ হামিদুল হক বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ পৌঁছে দিতেই ‘নজরুল বর্ষ’ পালন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে যথেষ্ট জানে না। তাই শিক্ষার্থীদের নজরুলচর্চায় সম্পৃক্ত করতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, গজল, হামদ-নাত, অভিনয় ও চিত্রাঙ্কনসহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
যুগ্মসচিব বলেন, মাত্র ২২ বছরের সৃজনশীল জীবনে নজরুল কবিতা, গান, গজল, ইসলামি সংগীত ও শ্যামাসংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্টি রেখে গেছেন। তাঁর সাহিত্য বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ৫ মে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত ‘নজরুল বর্ষ’ পালন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নজরুলের সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তাঁর মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যের চেতনা সম্পর্কে জানতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী, রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী মো. জুননুন, রংপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রফেসর মোঃ মোতাহার হোসেন এবং জেলা কালচারাল অফিসার কে.এম. আরিফউজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :