• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
ad728

মৃত্যুর দুই বছর পর বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ, সুন্দরগঞ্জে তোলপাড়


FavIcon
Rangpur24
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 1, 2026 | সংবাদটি দেখেছেন : 93
ছবির ক্যাপশন : ad728



**গাইবান্ধা প্রতিনিধি**

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০২৪ সালে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির বিয়ে ২০২৬ সালে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ উঠেছে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজী) বিরুদ্ধে। একই বিয়ের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি—দুই ভিন্ন তারিখে নিকাহনামা বা রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত নথি থাকার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই মৃত মতিয়ার রহমান ও শারমিন আক্তারের বিয়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে মারা যান। তিনি ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাটশালা গ্রামের নায়েব আলীর মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে মতিয়ার রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মতিয়ার রহমান মারা গেলে শারমিন আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেন।

মতিয়ার রহমানের বাবা হোসেন আলীর অভিযোগ, ছেলের আগের বিয়ের নিকাহনামার নকল কপি প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাইয়ের কাছে যান। তার দাবি, পুরোনো রেজিস্ট্রেশন থেকে নকল কপি দেওয়ার পরিবর্তে কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মৃত মতিয়ার রহমান ও শারমিন আক্তারের বিয়ে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করেন।

হোসেন আলী বলেন, ‘আমার ছেলে ২০২৪ সালে মারা গেছে। শারমিনের সঙ্গে তার বিয়ে পারিবারিকভাবেই হয়েছিল। আমি শুধু আগের বিয়ের কপি চেয়েছিলাম। কিন্তু কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাজী আবার ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে একই বিয়ের আরেকটি নকল কপি দেন। ফলে একই বিয়ের নথিতে দুই ধরনের তারিখ কীভাবে এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় মৃতের বাবা কাজীর মূল রেজিস্টার, আগের বিবাহের নথি এবং ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির রেজিস্ট্রেশন এন্ট্রি যাচাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই বলেন, ‘মতিয়ার রহমানের বিয়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের কাজ করিনি। আমার রেজিস্টারে যে তথ্য রয়েছে, তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালে মারা গেছেন—এটি তিনি জানেন। পরিবারের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্রও নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘এ ধরনের কাজের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

একজন মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার নামে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ সত্য কি না, নাকি পুরোনো বিবাহের নথি সংশোধন বা নকল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে—তা এখন তদন্তের বিষয়। সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করা হলেই এর প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

...