• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
ad728

প্রবেশাধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি অধিকার


FavIcon
Rangpur24
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 1, 2026 | সংবাদটি দেখেছেন : 124
ছবির ক্যাপশন : ad728

ঢাকা, ১৮ আগস্ট : রেলস্টেশন ও রেলসেবাকে সবার জন্য সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য ও প্রবেশগম্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও অংশীজনরা। তাঁদের মতে, প্রবেশাধিকার কোনো বিশেষ সুবিধা বা অনুগ্রহ নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সবার জন্য প্রবেশগম্যতা : বাংলাদেশ রেলওয়ে’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় রেলস্টেশনের অবকাঠামো, সেবা ও ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ এবং সহায়তাপ্রয়োজনীয় যাত্রীদের জন্য বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যদি নিজে থেকে স্টেশনে গিয়ে টিকিট সংগ্রহ, প্ল্যাটফর্মে যাতায়াত, ট্রেনে ওঠা, আসনে পৌঁছানো, শৌচাগার ব্যবহার এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, তখনই রেলসেবা প্রকৃত অর্থে সবার জন্য প্রবেশগম্য হবে। তিনি পরিকল্পনা, নকশা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সহজে ব্যবহারযোগ্য রেলসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জানান, নতুন মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের চলাচল সহজ করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, যাত্রীবান্ধব রেলসেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কাজ করছে। অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও সকল যাত্রীর জন্য সহজ ও ব্যবহারবান্ধব সেবা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। কর্মশালায় পাওয়া সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আরও প্রবেশগম্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষণে নানা আইন ও নীতিমালা থাকলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে। বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক নাফিউল হাসান বলেন, দেশের চারটি রেলস্টেশনে পরিচালিত এক পর্যালোচনায় প্রবেশগম্যতার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। সবার জন্য বাধামুক্ত রেলসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম জানান, নতুন রেলস্টেশন নির্মাণ ও কোচ ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা সংশোধনের সময়ও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

কর্মশালায় সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)-এর সহকারী পরিচালক আনিকা রহমান লিপি এবং ব্র্যাকের প্রতিবন্ধী ও উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক ডা. নাফিসুর রহমান রেলসেবায় প্রবেশাধিকার বিষয়ে পরিচালিত সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রবেশগম্যতাকে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে নয়, বরং রেলসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। দৃষ্টি, শ্রবণ, শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী যাত্রীদের প্রয়োজন ভিন্ন হওয়ায় রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, কোচ, টিকিট কাউন্টার ও তথ্যসেবার নকশা প্রণয়নের সময় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ, গবেষক, প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

...