রংপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নে শ্রমিক নয়-এমন লোকজন দিয়ে, নিজ অধিক্ষেত্রে শতাধিক শাখা কমিটি গঠন, শাখা নেতৃবৃন্দের আওতায় অন্য বহিরাগতদের সদস্য হিসেবে যোগ করে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা। বারবার নির্বাচনে জিততে নিজের পছন্দমত লোকজন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং কার্যনির্বাহী কমিটি বহাল রেখে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার ঘটনার প্রতিকার চেয়ে, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, রংপুর কার্যালয়ে-শ্রমিকদের পক্ষ হতে অভিযোগ জানানো হয়। যদিও দায়িত্বশীল নেতাদের এসব কাজ শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী এবং গুরুতর অপরাধের শামিল। কিন্তু শ্রম অধিদপ্তরে অভিযুক্ত নেতারাই কোলের সন্তান আর অভিযোগকারী শ্রমিকরা সৎ সন্তানের ভাগ্য বয়ে বেড়ায়। প্রতিকার পাওয়া এখানে ভাগ্যের ব্যাপার বললেন, অভিযোগকারী পক্ষের প্রবীণ ট্রাক শ্রমিকদের কয়েকজন।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র,শ্রমিক, জনতার আত্মাহতির মধ্য দিয়ে একটা নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে আমলে নিয়ে, এই শহীদদের কথা স্মরণে রেখে, সবার বদলানো উচিত ছিল। কিন্তু এই নৈতিক জাগরণ শ্রম অধিদপ্তরে ঘুষখোর কর্মকর্তাদের মূল্যবোধে কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি। ইউনিয়নের রিটার্ন দাখিল, স্বার্থান্বেষী নেতাদের ভোটব্যাংক অটুট রাখতে ভুয়া ভোটারদের তালিকা বহাল রাখা, কোরামহীন সাধারণ সভাকে কোরাম পূর্ণ দেখানো; এগুলোর ৯৮ ভাগ ক্ষেত্রে ঘুষ দিলে, সব কাজ জায়েজ হয়ে যায়। এর বাইরে আছে, আইন বহির্ভূত পন্থায় ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন দেয়ার ঘটনা।
এই লেখক সহ একাধিক সাংবাদিক আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, রংপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক(চলতি দায়িত্ব)-এর সাক্ষাৎ করে জানতে চেয়েছিল, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে বহু বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত যোগ্য কি-না? উত্তরে শ্রম আদালতের রেজিস্টার-এর পদ থেকে পদায়ন হয়ে আসা চলতি দায়িত্বের উপপরিচালক বলেছিলেন, 'গণমাধ্যম ব্যক্তিদের সামনে কথা বলতে উপর থেকে মানা।' তিনি কথা বলতে অস্বীকার করলেও, সাবদার হোসেন নামীয় একজন অফিস সহকারী,হাতে ভাতের প্লেট রেখে ভাত খেতে খেতেই অফিস কক্ষে দাঁড়িয়ে জবাব দিলেন, 'আপনাদের কিছু জানতে হলে ঢাকার সাথে কথা বলেন, স্যারকে অযথা বিরক্ত করবেন না।' পরে অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্য জানাজায়, "তিনি উপ-পরিচালকের মুখপাত্র হয়ে সব কাজেই দুতিয়ালি করে মধ্যস্বত্বভোগির ভূমিকায় থাকেন। তিনি সেবা নিতে আসা লোকজনের সাথে কথা বলা, বড় সাহেবের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া; অফিসের চিঠিপত্র তৈরি করা। এসব কাজে তার ফাই ফরমাস ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সবাইকে মানতে হয়। এই সাবদার একজন কেরানী হলেও, চাকরি করেন রংপুরে, অথচ তার পরিবার থাকেন ঢাকায়। আর অফিস প্রধান নিজের অদক্ষতা ঢাকতে শিখন্ডী করেছেন একজন অফিস সহকারীকে। অর্থাৎ পরামর্শক শাসনে চলছে, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর। যোগ করেন অফিস সূত্র।'
জলঢাকার একটি লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জোনাব আলী সাক্ষাৎকারে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনে অর্থনৈতিক লোভের প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৭৯(২) উপধারা অনুযায়ী, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত শ্রমিকদের ন্যূনতম ২০ ভাগ সদস্য আবশ্যক। এছাড়াও একটি উপজেলায় সর্বোচ্চ লেবার ইউনিয়নের সংখ্যা আইনত নির্ধারিত(উপজেলা ভিত্তিক
সর্বোচ্চ ৩ টি) হলেও, জলঢাকা উপজেলায়, বর্তমানে উপজেলা ভিত্তিক ৩ টি ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ৬ টি। অর্থাৎ জলঢাকা উপজেলায় নিবন্ধিত লেবার ইউনিয়ন সংখ্যা মোট ৯টি। তারপরও তারা নতুন একটি লেবার ইউনিয়ন নিবন্ধন দেয়ার জন্য আবেদন গ্রহণ,আপত্তি দাখিলের সুযোগ এবং নাম সর্বস্ব তদন্ত করেছেন।' জোনাব আলী,শ্রম অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোর দিয়ে বলেন, 'প্রস্তাবিত ওই ইউনিয়নটির সভাপতি নামযুক্ত ব্যক্তি যিনি, তিনি একই সাথে আমাদের ইউনিয়নেও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ চিঠিপত্র স্বাক্ষর করছেন। যা দ্বৈত সদস্য পদ দখলের অপচেষ্টা।
রংপুরের একজন প্রবীণ শ্রমিক নেতা বলেন, 'শ্রম পরিদপ্তর থেকে অধিদপ্তর হওয়া এবং আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর কার্যক্রম শুরুর পর, যারা-এই কার্যালয়ে যোগদান করেছেন। তাদের মধ্যে পিওন, কেরানিও আছেন। এই পিয়ন কেরানিরাও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর বিরোধীপক্ষ খুঁজে বের করেন। তাদের কাছে টাকা পয়সা নিয়ে, তাদেরকে কু-পরামর্শ দিয়ে, ট্রেড ইউনিয়নগুলোতে বিভাজন সৃষ্টি করেন। এত দীর্ঘ সময় এক কার্যালয়ে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, এই শ্রমিক নেতা।
আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, রংপুর কার্যালয়ে সেবা প্রার্থী শ্রমিকদের হয়রানি করা নিয়ে, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী সাবেক ট্রাক শ্রমিক নেতা বলেন,"আমরা অভিযোগ করেছি, অবৈধ শাখা, ভুয়া ভোটার ও কোরামহীন সাধারণ সভায় গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি দিয়ে প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বিষয় নিয়ে।, সেক্ষেত্রে আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের পুনঃনির্বাচনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে বললেও, ভুয়া ভোটার এবং অশ্রমিক দিয়ে গঠন করা শতাধিক শাখা বাতিল করা সম্পর্কে নিরব।' তিনি অভিযোগ করে বলেন,'আমরা লক্ষ্য করেছি, শ্রম দপ্তরের সাবদার নামের একজন কেরানী নেতাদের কুপরামর্শ দিয়ে, অনিয়ম বহাল রাখতে সাহায্য করছেন।