1. [email protected] : Rangpur24.com : Mahfuz prince
রক্তে মাংসে অভিন্ন হলেও সমাজের দৃষ্টিতে অবহেলিত হরিজন সম্প্রদায় - rangpur24
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

স্যামসাং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড শপ এখন আর,এ,এম,সি শপিং কমপ্লেক্স এর পঞ্চম তলায়। শপ নংঃ- ২,৩,৪ প্রয়োজনেঃ- ০১৩২২৭১৪৮৪৭, ০১৮১৮৭০১৮৭২

রক্তে মাংসে অভিন্ন হলেও সমাজের দৃষ্টিতে অবহেলিত হরিজন সম্প্রদায়

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১
  • ১৪২ Time View

চিলমারী (কুড়িগ্রাম):
সুইপার, ঝাড়ুদার, আবার কেউ কেউ বলেন হরিজন। শহর কিংবা গ্রামে পেশা হিসেবে আবর্জনা পরিষ্কার ও মলমূত্র নিষ্কাশনের কাজে নিয়োজিতদেরই বলা হয় ‘হরিজন। হরিজন সম্প্রদায় সমাজের অবহেলিত একটি জাতি। পরিচয় নিয়ে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গে মেশা তো দূরের কথা, হোটেলে বসে খেতেও পারেন না এ সম্প্রদায়ের মানুষজন। সবার মত সেলুনে বসে চুল কাটার অধিকারও নেই তাদের! স্কুলে পড়তে গেলেও পরিচয় দিলে ভর্তিও নিতে চায় না এ সম্প্রদায়ের শিশুদের। যেন তারা মানুষ নয়, শুধুই হরিজন!
হরিজনরা ভোরের আলো ফোটার আগেই নগর, বাজার পরিষ্কার করে সৌন্দর্যমন্ডিত করে, সেই হরিজনদের জীবনের আঁধারই কাটছে না। হরিজনরা মূলত ঝাড়ুদার, মেথর, ডোম ও নোংরা পরিষ্কারের কাজ করে। তবে তারা শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা, চিকিৎসা, ভূমি মালিকানা সবদিক থেকেই বৈষ্যম্যের শিকার। মানুষে মানুষে বিভাজনই আসলে হরিজনের জন্ম দিয়েছে।
হরিজনদের দেশের নাগরিক হিসেবে যে অধিকারগুলো আছে সব ক্ষেত্রেই এ অধিকারগুলো তাদের ভাগ্যে জোটে না । তারা হোটেল কিংবা রেস্তোরায় একসাথে খাওয়া তো দুরের কথা একই পুকুরে গোসল করতেও নানান সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তাদের স্পর্শ করাও যেন দায়। যুগের পর যুগ ​অস্পৃশ্যতার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে প্রতিবেশী বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন তো দূরের কথা, কথা বলতে পর্যন্ত ভয় পায় তারা।
সরেজমিনে চিলমারী উপজেলায় দেখা যায়, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানসহ নানা সংকটে যেন না মরে বেঁচে আছেন এ পল্লির বাসিন্দারা। আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে তারা চরম ব নার শিকার। নিজ সমাজের কাছেই অস্পৃশ্য তারা। তাদের এই করুণ জীবনের গল্পগুলো যেন শোনার মতো সময়ও নেই কারও। অথচ তারাই শহরের নোংরা-আবর্জনা ঘাটার অসাধ্য কাজটি করে সহজ-স্বাভাবিক করে তুলছেন নগরজীবনকে।
ফুলমতি (৬০) এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা অনেকদিন ধরে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন, লকডাউনে দোকান পাট বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের পথ ও বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় কেউ এখন পর্যন্ত খবর নেয় নি।
বেবী রানী বলেন, এই সমাজে আমাদের তো কেউ মানুষ মনে করে না, আমরা যদি কোন কিছু খাইতে হোটেলে যাই, তাহলে হোটেল মালিকরা আমাদের সাথে এমন ব্যবহার করে তা বলার মত না। তারা আমাদের কুকুরের মতো করে বাইরে খাবার ফেলে দেয় সেখান থেকে তুলে নিয়ে আমাদের খাইতে হয়। আমরা কি মানুষ নই ।
গীতা রানী বলেন, আমরা ময়লা পরিস্কার করি, আবার সেই ময়লায় এসে আমাদের ঘুমাতে হয়। আমরাতো এ দেশের নাগরিক তাহলে আমরা কেন ভালো কোন জায়গায় থাকতে পারি না। সরকার তো সবাইকে ঘর দিচ্ছেন আমাদের তো দেয় না।
শান্ত জানান, আমরা কেউ অসুস্থ হলে আমাদের পাশে কেউ এসে দাড়ায় না । হাসপাতালে গেলে তারা অন্য হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে তাড়িয়ে দেয়। শুধু চিকিৎসা নয় আমাদের বা””াদের স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে সেখানেও আমাদের নানান কথা শুনতে হয়, আমাদের বাচ্চারা কি লেখাপড়ার সুযোগও পাবে না, তারা যদি লেখাপড়ার সুযোগ পাইতো তাহলে তারা আমাদের ময়লা পরিস্কার করত না, তারাও দেশের একজন অফিসার হইত।
শিমুল বলেন, সরকার ভুমিহীনদের জন্য ঘর দেয় জায়গা দেয় আমাদের জন্য তো কিছুই দেয় না, আমরা সরকারী খাসের জায়গায় কোনমতে পরিবার নিয়ে থাকি, আমাদের ঘর দেয়া তো দুরের কথা উল্টো সেই জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। আমরা সুইপার বলে কি কোন সুযোগ সুবিধা পাবো না। আমরা ১০ দিন না খেয়ে থাকলেও এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা কোন দিনো খবর নেয় না। এই দুঃখের কথা কাকে বলব আমরা। আমাদের কেউ নেই।
রাষ্ট্রীয় সূযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, কাউকে অধিকার বি ত না করে তার প্রাপ্য প্রদান করলে আমাদের দেশের এই পিছিয়ে পড়া বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ রাষ্ট্রের সমাজের কাছে নিন্দিত না হয়ে সম্পদে পরিনত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 রংপুর২৪ডটকম-সত্য প্রকাশে সারাক্ষণ[email protected]
Md Prince By rangpur24.com