রংপুরে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে মুক্তির দাবিতে ভিন্নধর্মী প্রচারণা

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, দুপুর ২:৫৭ সময়
Share Tweet Pin it
[রংপুরে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে মুক্তির দাবিতে ভিন্নধর্মী প্রচারণা]

রঞ্জিত দাস।

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রংপুর তাজহাট থানা রোডে বাংলাদেশে্র জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে মুক্তির দাবিতে রংপুরে  ভিন্নধর্মী প্রচারণা শুরু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন ডপস, ক্লিন এবং বিডাব্লিউজিইডি এর একটি জোট। “জীবাশ্ম জ্বালানির শেকল ভাঙার ডাক” শীর্ষক এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশবাদী, নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত রূপান্তরের জোর দাবি তুলেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখনও প্রধানত জীবাশ্ম গ্যাস ও কয়লানির্ভর, যা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি এবং পুনরায় গ্যাসীকরণের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে। যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। আবার এই জ্বালানির ফলে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হচ্ছে তাও ভয়াবহ। এই প্রচারণার মাধ্যমে সংগঠনগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে। বক্তারা জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যয়বহুল এলএনজি দেশের অর্থনীতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সেই সঙ্গে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত CO2 জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। এই আয়োজনে পরিবেশবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ এর বিশাল সম্ভাবনা। তবে, সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বিনিয়োগের অভাবে এই খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হচ্ছে না। ডপস-এর নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল চক্রবর্তী বলেন—“ফসিল জ্বালানির দাসত্ব ভাঙা শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি একটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন । বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নেতৃত্ব দিতে পারে, কিন্তু তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। AvwbKv Bqvmwgb জলবায়ু কর্মী বলেন—“বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যয়বহুল এলএনজি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের নিজেদের নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস গড়ে তুলতে হবে, যা স্বল্পমূল্যে জনগণের জন্য টেকসই শক্তির ব্যবস্থা করবে। এই আন্দোলন শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য। সংগঠনগুলো সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়।