**গাইবান্ধা প্রতিনিধি | রংপুর২৪ ডটকম**
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই আদা চন্দ্র দাস ওরফে রাধানাথকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই, ভাবি ও দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা চার আসামিকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামের নিপেন দাস ওরফে খইলশা (৬১), তার স্ত্রী শংকরী রানী (৫১) এবং তাদের দুই ছেলে শঙ্করাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাশ (২৮) ও সত্য সেন ওরফে সত্য দাশ (২১)। মামলায় নিপেন দাসকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
নিহত আদা চন্দ্র দাস ওরফে রাধানাথ একই গ্রামের মৃত কার্ত্তিক চন্দ্র দাসের ছেলে। গ্রেপ্তার নিপেন দাস তার আপন বড় ভাই।
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ জায়গায় নিপেন দাস টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
গত ৩ জুলাই টয়লেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন ৪ জুলাই সকালেও এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ওইদিন সকাল ১০টার দিকে আদা চন্দ্র দাস তার বড় ভাইকে বিরোধপূর্ণ জায়গায় টয়লেট নির্মাণ করতে নিষেধ করেন।
পরে দুপুরে বাড়ির সামনে ছাগল চড়াতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদা চন্দ্রের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই সাদুল্লাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়ার নাটাইপাড়া এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে বগুড়া র্যাব-১১ ও গাইবান্ধা র্যাব-১৩-এর যৌথ দল চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে গড়ানোয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।