ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি | রংপুর২৪ ডটকম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া ও এমওপি সার নিয়ে গেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সারের বড় একটি অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় বিপুল সংখ্যক কৃষক সার নিতে সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ইউরিয়া ও এমওপি সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সার নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাওয়া কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরেই তারা সার সংগ্রহের জন্য ঘুরছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সারের একটি অংশ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পান না। এছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক হাজার ৩০০ টাকার ইউরিয়া সারের বস্তা খুচরা বাজারে এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, “সার বিতরণের প্রস্তুতি চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে গুদামের বেড়া ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া ও এমওপি সার নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, “১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এলাকায় সারের কোনো সংকট নেই এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও সঠিক নয়। লুট হওয়া সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।”
তবে কৃষি কর্মকর্তার এ দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কিছুটা অমিল পাওয়া গেছে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা আংশিকভাবে খুঁজে পায়।
অভিযানে দেখা যায়, কৃষকদের পরিবর্তে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে শিলখুড়ি ইউনিয়নের পাগলাহাট এলাকার এক ডিলারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ইউএনও অমৃত দেব নাথ বলেন, “কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “সার বিতরণের সময় ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিকাল পর্যন্ত ৫৮ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, সারের সুষ্ঠু সরবরাহ ও বাজার তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।