আশরাফুল ইসলাম ,তারাগঞ্জ (রংপুর):
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (ইউপি মেম্বার) মজুমদার রহমানের একটি ফেসবুক লাইভ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খলেয়া নন্দরাম প্রামানিক পাড়া এলাকার মৃত সাবাজ উদ্দিনের ছেলে এবং ইউপি সদস্য মজুমদার রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ('Md Majumdar Islam') থেকে সম্প্রতি কয়েকটি লাইভ ভিডিওতে যুক্ত হন। লাইভ বক্তব্যে তিনি উক্ত ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কুমারেশ রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। তবে ওই লাইভ বক্তব্যটিকে ঘিরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে একটি নির্দিষ্ট অংশকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি নিজেকে উক্ত ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক পদধারী দাবি করলেও বক্তব্য প্রদানকালে দলীয় ও রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পদের প্রতি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় না রেখে সরাসরি নাম ধরে সম্বোধন করেন। প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে এসে শীর্ষ নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে এমন ভাষার ব্যবহার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মজুমদার রহমান বলেন, "আমার বক্তব্য কোনো শীর্ষ নেতৃত্ব বা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে ছিল না। স্থানীয় নানা অনিয়ম ও ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকে কথাগুলো বলে ফেলেছি।"ভুক্তভোগী হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় জানান, "একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে উন্মুক্ত সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তি আক্রমণ করা এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার ক্ষুণ্ন করে কথা বলা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে স্থানীয়ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এঘটনায় তারাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহএকাধিক নেতাকর্মী জানান, "দলের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গঠনতন্ত্র মেনে চলা প্রত্যেকের দায়িত্ব। তিনি যদি দলের পরিচয় ব্যবহার করে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা অসম্মানজনক বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তবে বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।