রংপুর প্রতিনিধি
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণা এবং দ্রুত প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তাপাড়ের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
শনিবার (২২ আগস্ট) রংপুরের তিস্তা ভবন মিলনায়তনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।
সভায় উত্তর জনপদের কৃতী মুখ, তিস্তা আন্দোলনের সুহৃদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তি ফকরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ নদী, কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সংকট সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “আমরা আর প্রতিশ্রুতি চাই না, এখন চাই বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ।” তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। বর্তমান সরকারও এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এখন সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের সময় এসেছে।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের অর্থ একনেকে অনুমোদন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি ঘোষণা এবং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে হবে। একই সঙ্গে পাইলট প্রকল্প যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। পাইলট প্রকল্পকে বৃহত্তর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখতে হবে।
বর্ধিত সভায় বক্তারা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু নদীতীর সংরক্ষণ বা বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ, নাব্যতা এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই পাইলট প্রকল্পের পাশাপাশি পুরো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধাপভিত্তিক সময়সূচি, অর্থায়নের কাঠামো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সুস্পষ্ট কাঠামো জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুন নুর দুলাল, বখতিয়ার হোসেন শিশির, মাহমুদুল আলম, মশিয়ার রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় তিস্তাপাড়ের পাঁচ জেলার ১২ উপজেলার শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত
সভায় আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলন সফল করতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সম্মেলন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তিস্তাপাড়ের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও জনমত গঠনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।