Logo
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন | প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

দিনাজপুরে ৩৮ কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধার, আটক ৪

দিনাজপুরে ৩৮ কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধার, আটক ৪

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম বিক্রয় নিষিদ্ধ সাপের বিষ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে সাপের বিষের পাশাপাশি একটি প্রাইভেটকার, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা বিষসহ জব্দ করা যানবাহন ও অন্যান্য মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৮০০ টাকা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ১৩ আগস্ট দুপুরে চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব-১৩ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল এ অভিযান চালায়।

অভিযানকালে সন্দেহভাজন চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে তিনটি কাচের জারে রাখা আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—চিরিরবন্দর উপজেলার দামুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৩), দিনাজপুর সদর উপজেলার ছোট গুড়গোলা গ্রামের মো. সালাউদ্দিন সান্জু (৪১), ফুলবাড়ী উপজেলার খেতদিঘী গ্রামের মো. আনিছুর রহমান (৫৫) এবং বিরামপুর উপজেলার কুন্দনহাট গ্রামের উজ্জল আলী (৫৪)।

বিজিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিভিন্ন সময়ে তারা পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও তথ্য পেয়েছে বিজিবি।

বিজিবি আরও জানায়, এবার উদ্ধার করা বিষও দেশের বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং চক্রটির বিস্তৃতি কতদূর, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের পর আটক চারজনকে উদ্ধার করা বিষ ও জব্দ করা অন্যান্য মালামালসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একই দিন চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে উদ্ধার করা সাপের বিষ নিয়ে শুরু হয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। আদালতের নির্দেশে গত ১৯ আগস্ট হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে উদ্ধার করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নমুনাটি সাপের বিষ হিসেবে শনাক্ত হয়।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, মূল্যবান সম্পদ, বন্যপ্রাণীজাত পণ্যসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিজিবির এই অভিযানের ফলে চোরাচালান চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালান আটকের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।