লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
নয় বছর ধরে শরীরে বয়ে বেড়ানো এসিড হামলার ক্ষত শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল লালমনিরহাটের আদিতমারীর গৃহবধূ আমেনা খাতুনের (২৮)। ২০১৭ সালে গোপনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলছিল তার। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আমেনার মৃত্যুর ঘটনায় বিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে আবারও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার ভাই জাকির হোসেন। একই সঙ্গে প্রায় নয় বছর আগে দায়ের করা এসিড নিক্ষেপের মামলাটিও এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
জাকির হোসেনের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার বোনকে নির্যাতন করা হতো। আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার আফজাল হোসেন আপনের সঙ্গে আমেনার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের দাবি, ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কমলাবাড়ীতে আমেনার বসতঘরের শয়নকক্ষে তার গোপনাঙ্গে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। এতে গুরুতর দগ্ধ হন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি আমেনা।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১২ আগস্ট তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমেনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং এসিড হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে আমেনার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে লালমনিরহাট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, হাসপাতালে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।