নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি আর পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পালিত হয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন অরণ্যের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের শেষ মুহূর্তে গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন বা পোস্টার লাগানো বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায় লাল কার্ড। পরিবেশ রক্ষার এ প্রতীকী কর্মসূচি উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী ‘সবুজ উৎসব’ আয়োজন করে অরণ্য। সকাল ১০টায় ফিতা কেটে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম মন্ডল। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আরও চার শতাধিক ফলজ ও ভেষজ গাছের চারা।
শুধু বৃক্ষরোপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ ভাবনায় যুক্ত করতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান ও বৃক্ষ প্রদর্শনী। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ছাড়াও সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নিখিল চন্দ্র বর্মন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক নুর মোহাম্মদ আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রভাষক তরিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল কাদের, অরণ্যের উপদেষ্টা নুর আমিন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস ছোবহান জুয়েল, আবু জোবায়েদ সাগর ও প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি নিখিল চন্দ্র বর্মন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। গাছ শুধু প্রকৃতিকে সবুজ করে না, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মাটি সংরক্ষণ এবং বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অরণ্যের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুস ছোবহান জুয়েল বলেন, পরিবেশ রক্ষায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংগঠনটির উপদেষ্টা নুর আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে এমন আয়োজন এলাকায় পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে বিদ্যালয়ভিত্তিক এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গাছে পেরেক ঠুকে পোস্টার, ব্যানার বা বিজ্ঞাপন লাগানোর বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একযোগে লাল কার্ড প্রদর্শন করে গাছে পেরেক ঠোকার সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানায়। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের প্রতি মানুষের আচরণেও পরিবর্তনের এই বার্তাই হয়ে ওঠে এবারের সবুজ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।