Logo
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন | প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

ভেঙে পড়া কাঠের সেতুতে দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি

ভেঙে পড়া কাঠের সেতুতে দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ, দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ায় অন্তত ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি সম্প্রতি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত কাঠের সেতুটির একাংশ নদীতে ধসে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংস্কার বা স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে অনেক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছে। কেউ কেউ ভাঙা সেতুর অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করেও চলাচল করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এলাকাটি কৃষিনির্ভর হওয়ায় কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো হাট-বাজারে নিতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, “সেতু ভেঙে যাওয়ায় স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নৌকায় নদী পার হতে ভয় লাগে। দ্রুত একটি নিরাপদ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম সরকার বলেন, “সেতু ভেঙে যাওয়ায় নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। দ্রুত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা এবং একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ করা দরকার।”

এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নিরাপদ অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণনাথ চর এলাকায় একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, “কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।