বিরামপুর হাসপাতালের পুরনো গাছ এখন মরণফাঁদ

বিরামপুর হাসপাতালের পুরনো গাছ এখন মরণফাঁদ

বিরামপুর হাসপাতালের পুরনো গাছ এখন মরণফাঁদ
বিরামপুর হাসপাতালের পুরনো গাছ এখন মরণফাঁদ

বিরামপুর হাসপাতালের পুরনো গাছ এখন মরণফাঁদ-দিনাজপুরের বিরামপুর হাসপাতালের চারপাশের পুরনো গাছগুলো যেন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটু ঝড়-বাতাসে যে কোন সময় গাছগুলো ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।  এর ফলে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকছেন হাসপাতাল প্রাচীর সংলগ্ন আবাসিক এলাকার লোকজন।সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের দেওয়ালের পাশ দিয়ে বেড়ে উঠেছে ইউক্যালেক্টর, আম, বটসহ বিভিন্ন জাতের গাছ। গাছগুলোর বয়স প্রায় ৩০ বছর। এসব গাছ এবং গাছের ডালপালা হাসপাতালের চারপাশে গড়ে উঠা আবাসিক ঘর-বাড়ির উপড় ছড়িয়ে রয়েছে।

জানা গেছে, হাসপাতালের সীমানা দেওয়ালের প্রায় ২৫ টি বাড়ি আছে। এসব গাছের  ডালপালা সব সময় ভেঙে পড়ছে বাড়িগুলোর উপর। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তাদের ঘরে। কয়েকদিন আগেও একটি বটগাছ বাতাসে উপড়ে পড়ে। অল্পের জন্য বেঁচে যায় সেখানে থাকা লোকজন। বিষয়টি একাধিক বার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও কোনো ফল হয়নি।হাসপাতালের পাশে বসবাসকারী বানেছা বেগম নামে এক নারী  বলেন, ‘আমরা বিরামপুর হাসপাতালের পাশে অনেকদিন ধরে বসবাস করছি। গাছগুলোর বয়স অনেক এবং সেগুলো ঝড় হলে আমাদের ঘর-বাড়ির উপর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকতে হয় কখন যেন গাছ ভেঙে আমাদের উপর পড়ে।আবাসিক ওই এলাকার আরো কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,  গাছের ডালপালা আর পাতা পড়ে প্রতিনিয়ত আমাদের ঘর-বাড়ি নষ্ট হচ্ছে। ভয়ের মাঝেই আমরা বসবাস করছি। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলে বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠে।  সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের  আবেদন তারা যেন গাছগুলো জরুরি ভিত্তিতে কেটে ফেলার ব্যবস্থা করেন।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. তাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে কিছু পুরনো গাছ আছে। গাছগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে। হাসপাতাল সংলগ্ন আবাসিক এলাকার জন্য গাছগুলো বিপদজনক। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো। ’

বিরামপুর পৌর মেয়র আক্কাস আলী বলেন, ‘হাসপাতালের প্রাচীর ঘিরে অনেক পুরনো গাছ আছে। গাছগুলো বর্তমান আমার পৌরবাসীর জন্য বিপদজনক। আমি হাসপাতালের মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরবো। আশা করছি অচিরে গাছগুলো কেটে ফেলা হবে।

বিরামপুর (চরকাই) রেঞ্জার নীশি কান্ত মালাকার বলেন, ‘যদি সরকারি কোনো স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের গাছ মানুষের জন্য বিপদ জনক হয়ে থাকে কিংবা সরকারি অন্য কোন সম্পদ নষ্ট হতে পারে এই ক্ষেত্রে জরুরিভাবে কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কাটতে পারেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করলে, সেই আবেদন আমার কাছে আসবে। তখন আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গাছগুলোর দাম নির্ধারণ করে দেবো।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর বিষয় জেনেছি। আইনশৃঙ্খলা মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করে গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করবো।

বিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু বলেন, ‘আমার সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার কথা হয়েছে। আমার নিকট তারা আবেদন করবেন, আবেদন করার পর গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিরামপুর হাসপাতালের পুরনো গাছ এখন মরণফাঁদ

বিরামপুর হাসপাতালের পুরনো গাছ এখন মরণফাঁদ

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

রংপুর অফিসঃ সিটি পার্ক মার্কেট, সদর হাসপাতাল বিপরীত,ষ্টেশন রোড,রংপুর।। মেইল [email protected] মোবাইল- 01767414680  
Desing & Developed BY NewsSKy