April 14, 2021, 10:15 pm

স্যামসাং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড শপ এখন আর,এ,এম,সি শপিং কমপ্লেক্স এর পঞ্চম তলায়। শপ নংঃ- ২,৩,৪ প্রয়োজনেঃ- ০১৩২২৭১৪৮৪৭, ০১৮১৮৭০১৮৭২

হাতীবান্ধায় যৌতুকের জন্য পায়ের রগ কাটলেন স্বামী

Reporter Name
  • Update Time : Monday, March 29, 2021
  • 100 Time View

লালনিরহাটের হাতীবান্ধায় যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ছুরি দিয়ে দিলরুবা আক্তার টুম্পা (২৫) নামে এক গৃহবধূর পায়ের রগ কাটলেন স্বামী, দেবর ও শাশুড়ীর। এ সময় তাদের নির্যাতনের হাত রক্ষা পাননি ছোট্ট শিশু সন্তানও। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। বর্তমানে  তারা হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটি উপজেলার টংভাঙ্গা ইউপির পশ্চিম বেজগ্রাম এলাকায়।
অভিযুক্তরা হলেন, হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম বেজ গ্রামের মোখলেছার রহমানের ছেলে অছিউর রহমান প্রাণ(২৭), প্রাণের ভাই মুরাদ হোসেন মন ও তার মা মালতি লতা। এছাড়া প্রাণ এস আর ট্রাভেলসের সুপার ভাইজার।
আহত দিলরুবা আক্তার টুম্পা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের দক্ষিন গড্ডিমারী গ্রামের মৃত মোফাজ উদ্দিনের মেয়ে।
পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, প্রায় ৫ বছর আগে ভালোবেসে আদালতে বিয়ে করেন তারা। এরপর বিয়ের দুই বছর পরে তাদের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় ইবনে মেহমেদ। প্রথম দিকে প্রাণের মা মেনে না নিলেও সন্তান হওয়ার পর উভয় পরিবার একত্রিত হয়ে তাদের মেনে নেয়। ভালোই চলছিলো প্রাণ ও দিলরুবার সংসার। কিন্ত বাধ সাধে শাশুড়ি মালতি লতা। বিয়েতে কিছু না পাওয়ায় দিলরুবাকে বাবার বাড়িতে থেকে টাকা আনতে চাপ প্রয়োগ করেন মালতি। দিলরুবা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় নেমে আসে নির্যাতনের খড়ক। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ভাবে শালিসি বৈঠকও হয়। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায় না। চলতে থাকে স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতন।
এমতাবস্থায় গত শনিবার সন্ধ্যায় ২ লক্ষ টাকার জন্য টুম্পাকে মারধর করেন। এতে যোগ দেয় দেবর ও শাশুড়ি। চুলের মুটি ধরে টানা হেছড়া আর শুরু করে মারধর করেন তারা। এ পর্যায়ে শাশুড়ি আর দেবরের সহযোগীতায় স্বামী প্রাণ ধারালো ছুড়ি দিয়ে টুম্পার পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে টুম্পার পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে থানা পুলিশের সহযোগীতায় টুম্পাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
রবিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে সরজমিনে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মারধর আর ছুড়ি দিয়ে কেটে যাওয়া স্থানের ব্যাথার যন্ত্রনায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে দিলরুবা। পাশে শুয়ে ছটফট করছে ছোট্ট শিশু সন্তান ইবনে মেহমেদ। দিলরুবার ব্যান্ডেজ করা পায়ের চারদিকে রক্ত শুকিয়ে জমাট বদ্ধ হয়ে আছে। এ সময় দিলরুবার সাথে কথা হলে তিনি জানান, টাকার জন্য আমার স্বামী, দেবর ও শ্বাশুড়ি প্রায় মারধর করেন। শনিবার রাতে আমার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি  চুলের মুটি ধরে টানা হেছড়া আর মারধর করেন। এ পর্যায়ে শাশুড়ি আর দেবরের সহযোগীতায় স্বামী প্রাণ ধারালো ছুড়ি দিয়ে আমার পায়ের রগ কেটে দেয় বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে টুম্পা। তিনি আরও বলেন, আমার বাবা নেই। এক ভাই ঢাকায় কাজ করেন আরকে ভাই চাকুরী হারিয়ে প্রাইভেট কার চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। ওরা কোথা থেকে টাকা দিবে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে দিলরুবার স্বামী অছিউর রহমান প্রাণ ঘটনাটি অস্বিকার করে বলেন, বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাটারির এক পর্যায়ে আমি তাকে ধাক্কা মারলে সে পড়ে যায় এবং সুকেজের গ্লাসে পায়ে আঘাত লাগলে পা কেটে যায়। আমাকে এবং আমার পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য তার পরিবারের যোগসাজোসে সে এসব করেছে।

এ ব্যপারে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ এরশাদুল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, এখনো পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category