1. [email protected] : Rangpur24 :
সৈয়দপুরে রসুনের ক্ষেতে পঁচন রোগের আক্রমনে কৃষকরা দিশেহারা -
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

সৈয়দপুরে রসুনের ক্ষেতে পঁচন রোগের আক্রমনে কৃষকরা দিশেহারা

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬৭ Time View

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলতি রবি মৌসুমে রসুনের আবাদকৃত ক্ষেতে পঁচনসহ গাছের গোড়ায় কৃমি পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসায় কৃষি বিভাগের সহায়তা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রসুন চাষীরা। তারা স্থানীয়ভাবে সার ও কীটনাশক বিক্রয়ের দোকান থেকে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনে ব্যবহার করেও কোন সুফল না পেয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। লোকসানের আশঙ্কায় কৃষকদের মাথায় হাত।

উপয়ান্তর না দেখে অনেকে অপরিপক্ক অবস্থাতেই রসুন তুলে ফেলছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপথী কবিরাজপাড়ার মৃত সমসের আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম তার রসুন ক্ষেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত। এসময় তিনি জানান, এবছর ২৫ শতক জমিতে তিনি রসুনের আবাদ করেছি। কিছু দিন থেকে রসুন ক্ষেতে গাছের আগায় পঁচন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও গোড়ায় কৃমি পোকার আক্রমন ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে পরামর্শের জন্য উপ-সহকারী কৃষি অফিসারের খোঁজ করেও না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় কীট নাশকের দোকানদারদের পরামর্শে তাদের কাছ থেকে ওষুধ কিনে ব্যবহার করেছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফসল আবাদ করি। কিন্তু কখনই কৃষি বিভাগের দায়িত্বরত বিএসদের সহযোগিতা পাইনা। তারা কখনই আমাদের খোঁজ খবর নেন না। শুধু নামেই জানি যে আমাদের এলাকায় বিএস হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মোস্তাকিম রহমান নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু কোন দিনই তার দেখা পাইনি। তাই আবাদের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কোনরকম পরামর্শ বা সহায়তা আমরা পাচ্ছিনা। এখন রসুন ক্ষেতে পঁচন ও কৃমির আক্রমনে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। ওষুধ ব্যবহার করেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা।

ফলে এ আবাদ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছি। গতবারও একই জমিতে রসুন আবাদ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবার তাও হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি। একইভাবে অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতেও রসুন আবাদকারী কৃষকরা কৃষি বিভাগের সহায়তা না পাওয়াসহ ফসল রোগাক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রক্ষ্মোত্তর গ্রামের মেছের আলীর ছেলে মনোয়ার হোসেনও ৫৫ শতক জমিতে রসুনের আবাদ করেছেন। তিনিও একই রকম সমস্যায় পড়েছেন। তিনিও অভিযোগ করেন যে, বিএসদের দেখা না পাওয়ায় এ সমস্যা সমাধানের কোন সুরাহা পাচ্ছিনা। তবে স্থানীয়ভাবে সারের দোকান থেকে ওষুধ কিনে ব্যবহার করেছি।

তারা এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসারসহ কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কামারপুকুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বাসুদেব এর সাথে ০১৭১৫৭৪৯২৪২ নম্বরের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়। আমি আমার এলাকায় ঘুরে ঘুরে কৃষকদের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করে থাকি।

তিনি যে আমাকে পান না এটা তার মনগড়া কথা। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ শাহিনা বেগম জানান, কৃষকরা সাংবাদিকদের জানাতে পারে অথচ আমার কাছে কেন আসেনা? আমার উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা তাদের এরিয়ায় যথাযথভাবে কাজ করছেন। তারপরও যদি কারও বিরুদ্ধে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান ও সহযোগিতা দেয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © Rangpur24.com
Theme Customized By BreakingNews