January 21, 2021, 11:38 am

মেসার্স শিমুল ষ্টান প্লাজা – যাবতীয় রেডিমেট পোষাকের সমাহার

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে মানব্বন্ধন অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধি
  • Update Time : Sunday, January 3, 2021
  • 101 Time View

রংপুরের আদিবাসী সাঁওতাল, ওরাওঁসহ মুক্তিপাগল সাধারণ এবং মানুষ তীর-ধনুক, লাঠি-সোঠা, দা-কুড়াল, বর্শা-বল্লম ‘যার যা আছে’ তাই নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করতে গিয়ে এক নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।সে সময় যারা প্রান দিয়েছিলে সেই সব বীর শহীদদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে মানব্বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনের প্রধান সড়কে শহীদ পরিবারের আয়োজনে মানব্বন্ধনে শহীদ পরিবারের পক্ষে  বক্তব্য রাখেন, আমিনুর ইসলামসহ অনেকে। অবিলম্বে তাঁরা ঐসকল শহীদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না দিলে আগামীতে বড় ধরনের কর্মসূচী দিবে বলে জানান নেতৃবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে শহীদ পরিবারের নেতাকর্মীরা।

উলেখ্য ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কতৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাত্র একদিন পরই রংপুরের মুক্তিপাগল বীর জনতা ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল সে পথ ধরেই সূচিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রাম। একাত্তরের তিন মার্চ কিশোর শংকুসহ তিনজন শহীদ হওয়ার পর রংপুরের স্বাধীনতাকামী মানুষ সংগঠিত হতে থাকে। প্রস্তুতি গ্রহণ করে সশস্ত্র সংগ্রামের। এরই অংশ হিসেবে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও এর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বাধীনতাকামী মানুষ।

দিনক্ষণ ঠিক হয় ২৮ মার্চ। ঘেরাও অভিযানে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রংপুরের বিভিন্ন হাটে-বাজারে ঢোল পেটানো হয়। আর এ আহ্বানে অভূতপূর্ব সাড়া মেলে। সাজ সাজ রব পড়ে যায় চারদিকে। যার যা আছে তাই নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয় এ অঞ্চলের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছাত্র, কৃষক, দিনমজুরসহ সকল পেশার সংগ্রামী মানুষ।

রংপুরের আদিবাসীরাও তীর-ধনুক নিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে। এক্ষেত্রে মিঠাপুকুর উপজেলার ওরাঁও সম্প্রদায়ের তীরন্দাজ সাঁওতালদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তীর-ধনুক, বল্লম, দা, বর্শা নিয়ে তারা যোগ দিয়েছিল ঘেরাও অভিযানে।

কিন্তু পাকিস্থানী সেনাকর্মকর্তারা রংপুরের মানুষের ২৮ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট ঘেড়াও করার পরিকল্পনা আগেভাগেই জানতে পেরেছিল। তাই তারাও প্রস্তুত হয়েছিল ব্রাউনিং মেশিনগানে সজ্জিত গোটা দশেক জীপ নিয়ে ।

ঐদিন বিকেল তিন টার পর চারদিক থেকে আসা মুক্তিকামী মানুষের ঢল যখন ক্যান্টনমেন্টর কাছে চলে আসে তখনই একযোগে গর্জে ওঠে সবগুলো মেশিনগান। একটানা পাঁচ মিনিট গুলি চলে। পাখির মত লুটিয়ে পড়ে শত শত মানুষ। চারদিকে তাজা রক্তের বন্যা বয়ে যায়।

মেশিনগানের গুলিতে সঙ্গে সঙ্গেই যাদের মৃত্যু ঘটেছিল। কিন্তু আহত মানুষের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছিল চারিদিকের বাতাস। বর্বর পাকিস্থানী সেনারা নিহত আহত সব মানুষকে টেনে-হিচড়ে এক জায়গায় জড়ো করে তাদের উপর পেট্রোল ঢেলে আগুণ জ্বালিয়ে দেয়। জীবন্ত পুড়ে ছ্ইা হয় নিহত এবং আহত মানুষগুলো।

রংপুর শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত মডার্ন মোড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ “অর্জন” এবং নিসবেতগঞ্জের “রক্তগৌরব” ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চে রংপুরের মানুষের সেই দুঃসাহসিক গৌরবগাথা এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম এর অন্যান্য নিউজ