April 14, 2021, 11:46 pm

স্যামসাং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড শপ এখন আর,এ,এম,সি শপিং কমপ্লেক্স এর পঞ্চম তলায়। শপ নংঃ- ২,৩,৪ প্রয়োজনেঃ- ০১৩২২৭১৪৮৪৭, ০১৮১৮৭০১৮৭২

ঠাকুরগাঁওয়ে অত্যাধুনিক ‘পরিবেশবান্ধব’ ইট কারখানা

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, April 6, 2021
  • 26 Time View

সদর উপজেলার শিবগঞ্জ পারপুগী গ্রামে এই কারখানা তৈরি করেছে ‘রাজ্জাক গ্রুপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই কারখানায় ইট তৈরিতে আগুনে পোড়াতে হয় না; মেশিনের সাহায্যে চাপ প্রয়োগ করে ইট প্রস্তুত করা হয়।

কারখানার কাঁচামাল বালু আসে নদী থেকে; সিমেন্ট আসে বাজারের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা হয় পাথরকুচি এবং দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা হয় ফ্লাই অ্যাশ (কয়লার ছাই)।

সরেজমিনে দেখা যায়, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ‘ভাইব্রো ক্যাভিটি’ যন্ত্রে উৎপাদিত হচ্ছে ইট। স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অ্যাশ, বালু, সিমেন্ট ও পাথরকুচি এসে মিশে যাচ্ছে। এরপরই যন্ত্রের চাপে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ইট। ইট পোড়ানোর প্রয়োজন পড়ছে না।

কারখানার ব্যবস্থাপক আসলাম হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক কাজে হাবিবুল ইসলাম মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। সেসব দেশে অবকাঠামো নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ইটের ব্যবহার তার নজরে পড়ে। এরপর তিনি বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদনের পরিকল্পনা নেন।

তিনি জানান, গত বছরের ১৯ নভেম্বর এখানে ইট উৎপাদন শুরু হয়। এই কারখানায় ইট তৈরিতে আনুপাতিক হারে ৪০ শতাংশ ফ্লাই অ্যাশ, ৪০ শতাংশ বালু, ১৫ শতাংশ সিমেন্ট ও ৫ শতাংশ পাথরকুচি ব্যবহার করা হয়।

কারখানার ‘ভাইব্রো ক্যাভিটি’ নামের যন্ত্রে প্রতি ৮ ঘণ্টায় ২০ হাজার ইট তৈরি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।সম্প্রতি এই কারখানা থেকে ইট ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন শহরের কলেজপাড়ার সফিকুল ইসলাম।

তিনি  বলেন, “পরিবেশবান্ধন এই ইট দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছি। এর ফলে বাড়ির সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে; পাশাপাশি খরচও কম হয়েছে।”

রাজ্জাক গ্রপের চেয়ারম্যান হাবিবুল ইসলাম  বলেন, অন্যান্য ইটভাটাগুলোতে ইট তৈরির জন্য ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে আনা হয়। এরপর সেই মাটিকে ইটের রূপ দেওয়ার পর পোড়ানো হয়। আর জ্বালানি হিসেবে সেসব ইটভাটায় কাঠ, গাড়ির পুরোনো টায়ার ও রাবার পোড়ানো হয়।

“এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। পরিবেশ বাঁচাতে পরিবেশবান্ধব ইটের বিকল্প নেই। এই চিন্তা থেকেই এই কারখানা চালু করেছি। আর আমার কারখানা থেকে পরিবেশবান্ধন ইট তৈরি করছি।”

হাবিবুল ইসলাম জানান, এখানে ইট তৈরি করতে আগুনের তাপ প্রয়োজন হয় না। অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে পরিবেশবান্ধব ইট প্রস্তুত করে বাজারজাত করা হয়।

“পরিবেশবান্ধব এই ইট তৈরির কাঁচামাল হলো নদীর বালু,বাজারের সিমেন্ট, পাথরকুচি ও ফ্লাইঅ্যাশ। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাথরকুচি এবং দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র থেকে কয়লার ছাই সংগ্রহ করা হয়।”

তিনি আরও জানান, সাধারণ ভাটায় ১ নম্বরের ১ হাজার ইট তৈরিতে খরচ হয় কমপক্ষে সাড়ে ৮ হাজার টাকা, কিন্তু পরিবেশবান্ধব কারখানায় ১ হাজার ইট তৈরিতে খরচ হয় ৮ হাজার টাকা।

৩ থেকে ৪ একর জমি হলে পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণ করা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, এই কারখানায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ মিলে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়। আর ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক দিয়ে এই কারখানাটি পরিচালনা করা যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category