January 21, 2021, 8:24 pm

মেসার্স শিমুল ষ্টান প্লাজা – যাবতীয় রেডিমেট পোষাকের সমাহার

কুড়িগ্রামে শিক্ষক নন, তবুও তালিকাভুক্ত!

প্রতিনিধি
  • Update Time : Wednesday, January 6, 2021
  • 27 Time View

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় অর্ধশতাধিক নব্য জাতীয়করণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাক করে ভুয়া শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিনব প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষা বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ উপজেলা শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা গেছে, এ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৬৮টি। এর মধ্যে নব্য জাতীয়করণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫০টি। প্রতিবছর অনলাইনে (ই-প্রাইমারি সিস্টেম) এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোসহ শিক্ষার্থীদের তথ্য হালনাগাদ করা হয়। প্রতিটি বিদ্যালয়ের একটি করে আইডি এবং গোপন পাসওয়ার্ড রয়েছে। কিন্তু এসব আইডির পাসওয়ার্ড হ্যাক করে একটি প্রতারকচক্র উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক নব্য জাতীয়করণ বিদ্যালয়ে ভুয়া শিক্ষকের নাম তালিকাভুক্ত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুর্ব পাড়া গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন একরামুল হক প্রধান নামের এক ব্যক্তি। সেখানে তার পিতার নাম রফিকুল ইসলাম, ঠিকানা নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙা গ্রাম উল্লেখ করা হয়েছে। যোগদানের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২। এ বিষয়ে একরামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দাবি করলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয়টির অবস্থান সম্পর্কে কিছুই তথ্য দিতে পারেননি।

আরেকজন মৌসুমি রাণী বর্মা। নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনিও উপজেলার চর রামনিয়াসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। সেখানে যোগদানের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০০৪ উল্লেখ করেছেন। তিনি উলিপুর উপজেলার গোড়াই সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে একটি গণপাঠশালায় কর্মরত রয়েছেন।

মৌসুমি রাণীর স্বামী উৎপল কান্তি সরকার জানান, আমার স্ত্রী কোথাও আবেদন করেনি। তা ছাড়া ২০০৪ সালে আমাদের বিয়ে হয়নি। এমনটা কিভাবে হয়েছে সেটা আমার জানা নেই।

শুধু একরামুল কিংবা মৌসুমি রাণী বর্মায় নয়। উপজেলার গোড়াই দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রওশন আরা বেগম, মুন্সি পাড়া পুকুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারমিন বেগম, খোঁচাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরফিন নাহার, পশ্চিম কিশোরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাকলি বেগম, খারিজা লাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাহানারা বেগম ও শাহানাজ পারভীন, ডালিয়া পঞ্চানন পলাশ তলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী, গুনাইগাছ আকন্দবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঞ্জুমান আরা বেগমসহ এ রকম প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নব্য জাতীয়করণ এসব বিদ্যালয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রতারকচক্র এভাবে নিরীহ মানুষদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

গোড়াই দুগার্পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা ইয়াসমিন বলেন, আমার স্কুলে একজন অতিরিক্ত শিক্ষক তালিকাভুক্ত হয়েছেন। কিভাবে হয়েছেন সেটা বলতে পারি না। তবে অনেক সময় বাজারের কম্পিউটারে কাজ করি সেখান থেকেও এটা হতে পারে।

সহকারী শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম ফারুক বলেন, এ রকম কোনো নিয়োগ হয়নি। যারা অবৈধভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন তাদের শিক্ষক হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

উপজেলার শিক্ষা অফিসার নাদির উজ্জামান বলেন, একটি চক্র অসদুপায় অবলম্বন করে শিক্ষক তালিকাভুক্ত করেছেন। কিন্ত তারা শিক্ষক নন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, তারা কিভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন সেটা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলতে পরবেন। যারা নিয়মবহির্ভূতভাবে তালিকাভুক্ত হয়ে নিজেদের শিক্ষক হিসেবে দাবি করছেন সেটা অন্যায্য। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকরা আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম এর অন্যান্য নিউজ