January 22, 2021, 12:07 am

মেসার্স শিমুল ষ্টান প্লাজা – যাবতীয় রেডিমেট পোষাকের সমাহার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দিনকে দিন হাড়িয়ে যাচ্ছে খেজুরের গাছ ও রস

প্রতিনিধি
  • Update Time : Sunday, January 10, 2021
  • 68 Time View

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দিনকে দিন হাড়িয়ে যাচ্ছে খেজুরের গাছ ও রস। কয়েক বছর আগেও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামেই ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাডরের পাশে, পুকুর পাড়ে, বাড়ীর আঙ্গিনায় ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ।

কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। গাছ পরিস্কার করা, ছিলানো, হাঁড়ি লাগানো সহ নানা কাজে গাছিরা ব্যস্ত সময় পাড় করতো। কাক ডাকা ভোরে গাছিরা হাঁড়ি ভাঁড়ে করে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতো। হাক ছেড়ে ডাকতো ‘রস লাগবে গো রস, মিষ্টি খেজুরের রস’। গাছিদের এমন হাক ডাকে ঘুম ভাঙ্গতো গ্রামের শিশু-কিশোরদের। তারা ঘুম থেকে ওঠে মিষ্টি খেজুরের রস খাওয়ার বায়না ধরতো। গ্রামা লে শীতের সকালে খেজুরের তাজা রসের ক্ষীর, পুলি, পিঠা এবং পায়েস ছাড়া অতিথী আপ্যায়ন সম্পূর্ণ হতো না।
প্রকৃতির অপূর্ব এক দান মধু বৃক্ষ খেজুরের গাছ আর রস এখন সচরাচর চোখে পড়ে না। ফলে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রসের সাথে গুড়ও বিলুপ্তির পথে

উপজেলার প্রায় সকল গাছিরাই বংশানুক্রমে পাওয়া এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা ওমর আলি জানান, খেজুর গাছ সংকটের কারণে তার মতো অনেক গাছি আজ এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার বলেন, তাদের বাড়ীতে এখনো বেশ কয়টি খেজুর গাছ অবশিষ্ঠ আছে। কিন্তু গাছির অভাবে গাছ কাটতে পারি নাই। সন্তানদের খেজুরের রসও খাওয়াতে পারিনি।
উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপাল পুর গ্রামের আব্দুস সোবহান (৬৫) বলেন, খেজুরের রস, রসের পিঠা ও পায়েস খাওয়ার কথা আজও ভুলতে পারি না। এখন তো আর রস চোখেও পড়ে না। সে সব শুধুই স্মৃতি।

উপজেলার সচেতন মহল বলছেন অন্যান্য গাছের সাথে নির্বিচারে পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। যে পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে সে পরিমান লাগানো হচ্ছে না। এ ভাবে খেজুর গাছ হারিয়ে গেলে নতুন প্রজন্ম খেজুরের গাছ ও রসের ঐতিহ্যের কথা ভূলে যাবে। নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করে তা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোড় দাবী জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, পরিবেশ বান্ধব ও গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে খেজুর গাছ সংরক্ষন ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চারা রোপনের জন্য কৃষি বিভাগের পাশা পাশি তিনি সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম এর অন্যান্য নিউজ