January 25, 2021, 3:06 am

মেসার্স শিমুল ষ্টান প্লাজা – যাবতীয় রেডিমেট পোষাকের সমাহার

করোনায় কেমন চলছে সৌন্দর্যচর্চা ?

প্রতিনিধি
  • Update Time : Monday, January 4, 2021
  • 36 Time View

করোনার ছোবল পড়েনি এমন ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আঘাত হেনেছে  সৌন্দর্যচর্চা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। লকডাউন উঠে গেলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিতে হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। এসব নিয়ে লিখেছেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন ও শোভন সাহা।

ফ্যাশনে নানা রকম স্টাইলিশ মাস্ক এসেছে

কভিডের জন্য পার্লার বন্ধ ছিল কিছুদিন। করোনার কারণে অনেক দিন মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেননি। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বিউটি সেক্টরগুলোর খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে এখনো। লকডাউন না থাকলেও করোনাভাইরাসের আতঙ্ক রয়েই গেছে। যদিও আমরা শুরু থেকেই সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে অনুসরণ করছি। তারপরও খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ এখনো পার্লারে কম আসছেন। অনেক ছোট-বড় পার্লার বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরি হারিয়েছে বহু কর্মী। সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমাদের অনেক ক্লায়েন্টও। ঘরবন্দি সময়ে অনেকে নিজে নিজে বাড়িতে মেকআপ করাও শিখে গেছেন অনলাইনে ভিডিও দেখে। ফ্যাশনে নানা রকম স্টাইলিশ মাস্ক এসেছে। মাস্কের ব্যবহারে মুখ ঢেকে থাকায় মেয়েরা চোখের মেকআপকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি। তবে কভিড-পরবর্তী সবার চুল পড়ার সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে সেই সাথে দেখা দিয়েছে স্কিনে নানা সমস্যা। আর এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পার্লারে ভিড় করছে তারা।

সবাই এখন চোখের সাজে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন

রুপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন,কভিড সারা পৃথিবীর ব্যবসার টেকনিক বদলে দিয়েছে। যখন পুরো পৃথিবীতেই লকডাউন ঘোষণা করা হলো, তখন থেকে আমরা ধরে নিয়েছিলাম হয়তো বা এক বছরের মধ্যে ব্যবসা চালানো সম্ভব হবে না। আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, ভড়কে গিয়েছিলাম। তিন মাস পর স্বল্পপরিসরে ব্যবসা আবার চালু করি। এটা শুধু আমি একা না, আমাদের বিউটি সার্ভিস ওনার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটি আসে। তখন আমরা এমপ্লয়িদের সুস্থতার কথা ভেবে তাদের দুই ভাগে ভাগ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিই।

তারপর ক্লায়েন্টের সুস্থতার কথা চিন্তা করে আমি আমার মতো একটি সিদ্ধান্ত নিই। পরবর্তী সময়ে সেটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিই একটি ভিডিওর মাধ্যমে। ক্লায়েন্ট যখন আসবেন, তখন তার হাতের ব্যাগ বা পার্স যেকোনো জায়গায় রাখতে পারবেন না। আমরা তাদের একটি পলিথিন ব্যাগ দিই, যেটার মধ্যে তারা পারসোনাল ব্যাগ বা জিনিসপত্র রাখবেন। তাদের স্যান্ডেল বা জুতা ভেতরে নিয়ে আসতে পারবেন না। আমরা তাদের জন্য জুতার ব্যবস্থা করেছি এবং তাদের নিয়ে আসা জুতা আলাদা একটা ব্যাগে রাখার ব্যবস্থা করে দিই। যখন তারা কাজ শেষে ফেরত যান, তখন এখান থেকে দেওয়া পায়ের জুতা ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানিতে ফেলে দিয়ে যান।

ভেতরে প্রবেশের আগে কাপড় জীবাণুমুক্ত করা হয়,তাপমাত্রা মাপা হয় সেই সঙ্গে স্যনিটাইজার দেওয়া হয়। এরপর তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কাউন্টারে দাঁড়ানো এবং সেবা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

যে মেয়েটি ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দেবে, সেই মেয়েটির নাম লিপিবদ্ধ করা থাকছে খাতায়। তার পাশে যিনি সার্ভিস নিচ্ছেন, তার নাম লেখা থাকবে। সঙ্গে যে মুহূর্তে সার্ভিস নিচ্ছেন, সেই মুহূর্তে সেই কর্মীর তাপমাত্রা, নাম বিস্তারিত লেখা থাকছে এবং ক্লায়েন্ট যখন ঢুকেছিলেন, তখন ক্লায়েন্টের যে তাপমাত্রা ছিল সেটি ওখানে লেখা থাকছে। প্রতি ১৪ দিন পর প্রত্যেক ক্লায়েন্টকে ফোন করে তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমরা জেনে নিচ্ছি। এতে আমরা প্রত্যেক ক্লায়েন্টের খবরাখবর প্রতিনিয়ত জানতে পারছি, ক্লায়েন্টও আস্থা পাচ্ছেন।

তবে ডিসেম্বর থেকে ব্যবসা পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়া শুরু করেছে। তার কারণ হচ্ছে, ভোক্তারা আবার ভয় পাচ্ছেন। গেল বছর খুব বেশি সাজগোজ করে মানুষের কোথাও যাওয়ার সুযোগ কম হয়েছে। কিন্তু নিজের মন ভালো রাখার জন্য মানুষ সেজেছে, ছবি তুলেছে এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দিয়েছে। সেখান থেকে যেটি বুঝতে পেরেছি, সেটি হচ্ছে সবাই এখন চোখের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন; কারণ মাস্ক ব্যবহার করায় গাল ও ঠোঁট পুরোটাই ঢেকে থাকে।

যেটি খুব বেশি দেখা যায় তা হলো আই ব্রাউজ এবং আই মেকআপ। সেখানে ছিল অনেক বেশি শিমারি ও গ্লিটারি আই লুক। এ বছরও বোধ করি এমনই দেখা যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম এর অন্যান্য নিউজ