April 12, 2021, 6:22 am

স্যামসাং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড শপ এখন আর,এ,এম,সি শপিং কমপ্লেক্স এর পঞ্চম তলায়। শপ নংঃ- ২,৩,৪ প্রয়োজনেঃ- ০১৩২২৭১৪৮৪৭, ০১৮১৮৭০১৮৭২

অকারণে পেটে ব্যথা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, March 27, 2021
  • 59 Time View

শিশুর পেটে ব্যথা হলে মা-বাবা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কেননা ছোট শিশুরা পেট ব্যথা শুরু হলে কাঁদে এবং কখনো কখনো ব্যথায় কাতরাতে থাকে। নবজাতক থেকে শুরু করে স্কুলগামী বেশির ভাগ শিশুই কোনো না কোনো সময় পেট ব্যথায় ভোগে।

কারণ
শিশুদের পেট ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়। পেট ব্যথা বা পেট কামড়ানোর সাধারণ কারণগুলো হলো :

♦ পেটে জীবাণু সংক্রমণ বা গ্যাস

♦ খাবারে অ্যালার্জি

♦ ডায়রিয়া

♦ প্রস্রাবে সংক্রমণ

♦ টিউমার, অ্যাপেন্ডিসাইটিসসহ বিরল কিছু সার্জিক্যাল সমস্যা

♦ কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, কৃমি সংক্রমণ

♦ অকারণ বা মানসিক কারণ ইত্যাদি।

অকারণে পেটে ব্যথা
৩ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর ঘন ঘন পেট ব্যথার ১০ থেকে ১৫ শতাংশই কোনো রোগের জন্য নয়। একে ফাংশনাল এবডোমিনাল পেইন বলে। এ ধরনের ব্যথার নির্দিষ্ট কোনো চরিত্র নেই। মানসিক কারণে সাধারণত এমন সমস্যা হয়ে থাকে। এ ধরনের পেট ব্যথায় শিশুরা অত্যধিক মানসিক চাপে ভোগে। শিশু স্কুলে যেতে না চাইলে, পড়া ভালো না লাগলে, পরিবারে অশান্তি থাকলে, বন্ধুরা কোনো বিষয় নিয়ে উত্ত্যক্ত করলে, হঠাৎ বাসা পরিবর্তন বা বন্ধু পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে পেট ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই ব্যথা কিন্তু ইচ্ছাকৃত নয়, বরং তার মনের ভেতরের মানসিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে পেট ব্যথার মাধ্যমে।

মানসিক ও শারীরিক পেট ব্যথার পার্থক্য
♦ তিন বছরের নিচে শিশুর পেটে ব্যথা হলে তা সাধারণত রোগের কারণেই হয়ে থাকে।

♦ রোগের কারণে ব্যথা হলে শিশুরা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যথার জায়গাটা দেখাতে পারে। তবে মানসিক কারণে হলে সেভাবে দেখাতে পারে না, একেকবার একেক স্থানে দেখায়।

♦ পেট ব্যথার সঙ্গে জ-র, র‌্যাশ, হাড়ে ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে বুঝতে হবে অবশ্যই সেই ব্যথার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।

♦ ঘুমের সময় ব্যথা হলে এবং ব্যথার কারণে শিশুর ঘুম ভেঙে গেলে কখনোই তাতে মানসিক ব্যথার আশঙ্কা থাকে না।

গ্যাসজনিত ব্যথা
বড়দের মতো শিশুদেরও পেটে গ্যাস হয়। নবজাতকের পেটে গ্যাস হয় মায়ের দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে। শিশুরা বাতাস খেয়ে ফেললে পেটে গ্যাস হয়। কান্নার মাধ্যমে শিশুরা তখন অস্বস্তি প্রকাশ করে এবং মা-বাবার মনোযোগ আকর্ষণ করে। কিন্তু যদি শিশু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ক্রমাগত অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁদতে থাকে, তাহলে সেটা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সাধারণত পেট ব্যথা কোনো গুরুতর অসুস্থতা বা রোগের কারণে হয় না। তিন থেকে চার মাসের কম বয়সী শিশুরা তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাঁদতে থাকলে এবং প্রতিদিন বা সপ্তাহে চার-পাঁচ দিন সন্ধ্যার পর থেকে এবং প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা ধরে অবিরত কাঁদতে থাকলে তা সাধারণত তিন মাস মেয়াদি পেট ব্যথা। এটি সাধারণত জন্মের দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে দেখা যায় এবং তিন থেকে চার মাস বয়স হলে আর থাকে না। পরিপাকনালিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ নামের ব্যাকটেরিয়াল কলোনি গড়ে ওঠা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পরিপাকনালির অপরিপক্বতা নামে পরিচিত।

শিশুদের একই সঙ্গে নানা রকমের খাবার খাওয়ানো শুরু করলে গ্যাসজনিত ব্যথা দেখা দেয়। এ ছাড়া বড় শিশুরা অতিভোজন, মসলাযুক্ত বা তৈলাক্ত কিংবা ঝাল খাবার, আচার ইত্যাদি খেলে পেটে এসিডিটি হয়ে ব্যথা হয়। এ ধরনের ব্যথার ক্ষেত্রে শিশুর বুকে ও পিঠে হাত দিয়ে মালিশ করলে, তলপেটের দিকে চেপে ধরলে আরামবোধ হয়। তবে ব্যথা প্রকট হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য
যেসব শিশু গরুর দুধ বা বোতলের দুধ পান করে এবং ছয় মাসের পর অন্য কঠিন খাবার খেতে শুরু করে বা শুধু সুজি, চালের গুঁড়া খায় তাদের পেট ব্যথার অন্যতম কারণ কোষ্ঠকাঠিন্য। দুই বা তিন দিন ধরে ঠিকমতো পায়খানা না হলে তা পেটের ভেতর জমে থেকে ব্যথার সৃষ্টি করে। এ জন্য শিশুকে নরম খাবার দিতে হবে। অবস্থা জটিল হলে শক্ত খাবারের পরিবর্তে তরলজাতীয় খাবার, যেমন—সাগুদানা, মাতৃদুগ্ধ বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া কিছু ব্যায়াম করানো যেতে পারে। যেমন—সাইকেলের মতো শিশুর পা দুটিকে চালনা করা। বড় শিশুদের শাক-সবজি, আঁশযুক্ত খাবার ও ফলমূল খাওয়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টয়লেট করায় অভ্যস্ত করতে হবে।

খাবার বা দুধে অ্যালার্জি
শিশুর কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে তা খাওয়ানোর ফলে পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে গরুর দুধ বা গুঁড়া দুধের ল্যাকটোজেনের প্রতি অ্যালার্জি থাকে। অ্যালার্জি আছে বিষয়টা সন্দেহ হলে বা নিশ্চিত হলে তা খাওয়ানো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কৃমি
শিশুর কৃমি হলে বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারী হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা এবং কোনো কোনো কৃমিতে পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি হতে পারে। এ ছাড়া কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। নোংরা পরিবেশ, অনিরাপদ পানি পান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, খালি পায়ে হাঁটা কৃমি সংক্রমণের জন্য দায়ী। ওষুধ নিয়ম মেনে খেলে আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সহজেই কৃমি দূর করা যায়।

তিন মাস পর পর পরিবারের সবাই একটি করে অ্যালবেনডাজল বড়ি অথবা মেবেনডাজল পর পর তিন দিন খেতে হয়। সাত দিন পর দ্বিতীয় ডোজ খেতে হয়। শিশুদেরও একইভাবে কৃমির সিরাপ খাওয়াতে হবে। তবে দুই বছরের নিচে কোনো শিশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বয়সভেদে সমস্যা ও কারণ
দুই বছরের নিচে শিশুদের সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া প্রভৃতি কারণে পেট ব্যথা হয়। অন্ত্রে প্যাঁচ খাওয়া বা ইনটাসাসেপশন নামের জটিল সমস্যাও হয় থাকে। বড় শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ছাড়া কৃমি, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, প্রস্রাবে সংক্রমণ, অগ্ন্যাশয় ও যকৃতে কোনো সমস্যা সন্দেহ করা যেতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েশিশুদের মাসিকসংক্রান্ত সমস্যা ও প্রস্রাবের সংক্রমণের দিকে অধিক মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই বয়সের বালক-বালিকার বেলায় মানসিক চাপ ও আঘাত, এমনকি বিষক্রিয়ার কথাও মাথায় রাখতে হবে।

করণীয়
♦ নবজাতক ও ছোট শিশুদের প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুর ঢেঁকুর তোলানোর চেষ্টা করুন। শিশুর মাথা উঁচু করে সোজা করে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন এবং প্রতিবার খাওয়ানোর পর কাঁধে নিয়ে আস্তে আস্তে তার পিঠে থাপ্পড় দিতে থাকুন। এতে বাতাস বের হয়ে যায়।

♦ গ্যাসের সমস্যা এবং শিশুদের পেট ব্যথা উপশম করাতে হাঁটু বাঁকানো ব্যায়াম খুব কার্যকর। আপনার শিশুকে চিত করিয়ে শোয়ানোর পর পা দুটি হাঁটুর দিকে ভাঁজ করে পেটের দিকে ঠেলে দিন। এই ব্যায়ামটি দৈনিক চার থেকে পাঁচবার করালে ভালো হয়।

♦ ছোট শিশুদের প্রথম খাবারে অভ্যাস করার সময় ধীরে ধীরে একেবারে তরল, নরম খাবার, খিচুড়ি বা চাল, ডাল, সবজি, ছোট মাছ, মুরগির মাংস, ডিম মিশ্রিত খাবার দিন। কোনো খাবারে অ্যালার্জি আছে কি না খেয়াল করুন এবং প্রয়োজনে সেটি বাদ দিন। খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। এখন করোনাকালে শিশুদের ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস করান।

কখন হাসপাতালে নেবেন
ব্যথা যদি খুব তীব্র হয়, সঙ্গে জ-র থাকে, অনবরত বমি হয়, পেট শক্ত হয়ে যায়, মলের বা বমির সঙ্গে রক্ত দেখা দেয় বা পিত্ত বমি হয়, সে ক্ষেত্রে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ জানার আগে শিশুকে কিছুই খাওয়ানো উচিত নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category