রাতের আধারে টিন সেড ঘর নির্মাণের হিড়িক পীরগঞ্জে চতরা হাটের সিংগভাগ জায়গা দখলে !

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , রংপুর

9 February, 2019 -> 8:23 am.

রংপুরের পীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী চতরা হাটের সরকারি জায়গা জবর দখল করে ইমারত গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। হাটের জায়গা দিন দিন কমে আসছে প্রভাবশালীদের কবলে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে সরকারি ভাবে হাটের ৯ একর ৩০ শতাংশ জায়গার বেশীরভাগই প্রভাবশালীরা জায়গা দখল করে ইমরাত নির্মান করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। জোর যার জমি তার এই ভিত্তিতে প্রভাবশালীরা একাধিক ইমারত নির্মান করে ভাড়া দিয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় জনগন ও অনেক ব্যবসায়ীই বলেন হাটের জায়গা দখলের সামনে থেকে নের্তৃত্ব দিচ্ছেন প্রভাবশালী সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজু, অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভাটিকামারী গিলাবাড়ী গ্রামের করম উদ্দিন ছেলে এরশাদুল ইসলাম, একই গ্রামের নারায়ন চন্দ্রের ছেলে সুপদ চন্দ্র, ইছাহাক আলী ছেলে আঃ লতিফ, ইদ্রিস আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম,আঃ গনি মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম, নিশ্চিত বাটি গ্রামের অমুল্য চন্দ্রের ছেলে পবিত্র চন্দ্র, সরলিয়া গ্রামের সোলায়মান এর ছেলে লোকমান হোসেন, আগা চতরার মতিয়ার রহমান,এছাড়াও মিষ্টি হাটিতে মোখলেছারের ছেলে ডিস ব্যবসায়ী হাটের জায়গায় দখল করে টিনসেড ঘর নির্মান করে গিলাবাড়ী গ্রামের নেপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে জুতা ব্যবসায়ী স্বপন চন্দ্র সরকারকে ভাড়া দিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা জানান হাট ইজারাদার মোটা অংকের টাকা খেয়ে তাদের টিনসেড ঘর নির্মান করার জন্য মৌখিক ভাবে অনুমতি দিয়েছেন। তৎকালীন সরকার ফখর উদ্দিন আহম্মেদের সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও ধীরে ধীরে আবারও সক্রিয় হচ্ছে ভুমিদস্যুরা। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার হাটের জায়গায় ছাউনী দিলে ধীরে ধীরে তা ব্যবসায়ীরা দখল করে নিচ্ছে হাট ইজারাদাররা চেষ্টা করেও থামাতে পারছেন না দখলদারদের। সরকার থেকে ৫২৪টি স্থপনা দোকান আকারে করার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারনে তা ডিসি অফিসে ফাইল বন্দী হয়ে আছে। হাটের ইজারাদার সাহারুল প্রধানের সাথে কথা হলে তিনি জানান; হাটের জায়গা দখলের কারনে হাট ডাকার টাকা তুলতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি, লোকশান গুনতে হবে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা। স্থানীয়রা নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক অনেকেই বলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজু হাটের জায়গা দখল করে অলংকা কসমেটিক্স, ধানের গোডাউন সহ হাটের একাধিক জায়গা দখল করে রাম রাজত্ব কায়েম করছেন স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান চতরা হাটে আমিই শুধু না আরও শতাধিক ঘর আছে যা সরকারী জায়গায় ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তহশিলদার এবং ডিসি অফিসে আবেদন করা আছে, তবে কোন বৈধতা এখন পর্যন্ত কেউ দেননি। হাট ব্যাবসায়ী এবং স্থানীয় জনগন এই ঐতিহ্যবাহী হাটটি রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ভুমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উল্লেখ্য যে; হাটে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) ক্রয়কেন্দ্র ছিল। আদমজী পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে ক্রয়কেন্দ্রটি অব্যবহৃত পড়ে থাকে। চতরা হাটে ধান, পাট ও ভুট্টার পৃথক আড়ত আছে। এখনও বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে আসেন। কেননা এ হাটে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম। সবজিসহ যাবতীয় কাঁচা পণ্য পাওয়া যায়। সব ধরনের পণ্যই ফরমালিনমুক্ত ও টাটকা। হাটবারে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক সবজি ও ধান কিনে নিয়ে যান পাইকাররা। পাট ও ভুট্টার মৌসুমে জমে এ দুটি আড়ত। বিদ্যুৎসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা থাকায় বাইরের পাইকাররা আসেন হাটে। চতরা হাট ঘিরে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, ছয়টি কিন্ডার গার্টেন ও চতরা ডিগ্রি কলেজ গড়ে উঠেছে। কলেজে বাংলা ও ইতিহাস বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎসহ আছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি.এম. এ মমিন জানান সংশিষ্ট হাট ইজারাদার ও তহশীলদার সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব জানান এ ব্যাপারে ইউএনও সাথে কথা বলেন বলে তিনি জানান।