রংপুরে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের মানববন্ধন

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , রংপুর

9 February, 2019 -> 3:46 am.

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে গতকাল ৯ ফেব্র“য়ারী সকাল ১১ টায় “তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন” এর উদ্যোগে রংপুর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহবায়ক পলাশ কান্তি নাগ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নদী গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ, রংপুর সরকারী কলেজের অধ্যাপক চিনু কবির, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওমর ফারুক, ইউনাইটেড কমিউনিষ্ট লীগের সংগঠক আশরাফুজ্জামান মতিন, নিপীড়ণ বিরোধী নারীমে র আহবায়ক নন্দিনী দাস, শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সবুজ রায়, শ্রমিক নেতা রেদোওয়ান আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সবুজ হাসান সাগর। বক্তারা বলেন, ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে তিস্তার পানি প্রত্যাহারের কারণে গোটা উত্তরা ল মরুভূমির দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিস্তায় পানি না থাকায় কারণে কৃষি উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহাত হচ্ছে। হাজার হাজার হেক্টর ফসলের জমি লুকিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার মৎসজীবী ও মাঝিরা বেকার হয়ে পড়েছে। তিস্তা পাড়ের জীবন প্রকৃতি ধংসের মুখে। নদীতে পানি প্রবাহ দূর্বল থাকায় বালুপড়ে নদীগর্ভ বালু দিয়ে ভরাট হচ্ছে। ফলে বর্ষাকালে নদীভাঙ্গন ও বন্যার কবলে পড়ে হাজার হাজার একর জমি নদী গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে, ফসল, ঘরবাড়ি, জনপদ ভেসে যাচ্ছে। বক্তারা আরো বলেন, ভারত সরকার একতরফাভাবে তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক নদী আইন লংঘন করেছে। তারা আমাদের সাথে বৃহৎ রাষ্ট্রসুলভ আচরণ করছে, সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। এই অবস্থা শুধু তিস্তার ক্ষেত্রেই নয় ভারত থেকে আসা ৫৪ টি নদীর পানি প্রবাহ তারা একইভাবে নিয়ন্ত্রণ কিংবা অন্যায়ভাবে প্রত্যাহার করছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত শাসকশ্রেণীর দলগুলি যারা ক্ষমতায় ছিল- কেউ বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেনি। পানি সম্পদ রক্ষার কথাও চিন্তা করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির মতো সাম্রাজ্যবাদী ভারতের শাসকদের সাথে নতজানু ও অন্যায় সমঝোতা করে চলছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে। গতকাল দিল্লীতে বাংলাদেশ- ভারত দুই দেশের ৫ম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ পরামর্শক কমিশন- জেসিসি বৈঠকে তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে ভারত আশ্বাস দিয়েছে। এ ধরণের আশ্বাসের কথা ইতিপূর্বেও অনেকবার শোনা গেছে। শুধু আশ্বাস নয়, আমরা তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন চাই। বক্তারা, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে শাসকদলগুলোর দিকে তাকিয়ে না থেকে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।