ভালো থেকো আমার ভালবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , সারা বাংলা

31 January, 2019 -> 2:57 am.

ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এক তরুণ চিকিৎসক। বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা ২০ মিনিটে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ (৩২) নামের ওই চিকিৎসককে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আত্মহত্যা আগে আকাশের শেষ স্ট্যাটাস ছিল ‘ভালো থেকো আমার ভালবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।’ এর আগে ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে ডা. আকাশ ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে ‘পরকীয়ায়’ জড়িত স্ত্রীর ছবি, স্কিন শর্ট ও ভিডিও দিয়ে তাদের ৭ বছরের দীর্ঘ প্রেম, বিয়ে এবং বিয়ের পরের সময় নিয়ে বিস্তর লিখে আরও একটি স্টাস্টাস দেন। জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার বরকল বাংলাবাজার এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে ডা. আকাশের সঙ্গে তানজিলা চৌধুরী মিতুর পরিচয় ২০০৯ সাল থেকে। ২০১৬ সালে বিয়ে হয় তাদের। ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে আকাশ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়। প্রচণ্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে। আমরা ঘুরে বেড়াই, প্রেম করে বেড়াই। আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত। তিনি লেখেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের বিয়ে হয়, বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায়, আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ, আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে ক্যানসেল করতে পারিনি লজ্জাতে।’ “পরে একদিন ওর ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের এক ব্যাচমেটের সাথে হোটেলে সেক্সের শতশত ছবি। আমিতো বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে ক্ষমা চাইল, যে আর কখনো এমন হবেনা। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১ব ছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল, সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল। সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা। কিন্তু জানুয়ারী ২০১৯ জানতে পারি মিতু বিদেশে রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে, মদ খাচ্ছে,প্যাটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে। আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করনা, মিথ্যা বলনা।” আত্মহত্যার আগে আরও লিখেন, “আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশে তো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম, আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম। তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল না লাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও, চিট করনা, মিথ্যা বলনা। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবেনা এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম। ভিতর বাহির যদি এক হত। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম। আমার শাশুড়ি দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে সমাধান হত। আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে মিতুকে নিয়ে থাকতে। আমার শশুর আর শাশুড়িকে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ, যাকে ৯ টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি। আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেকো। মরার আগে কেউ মিথ্যা বলেনা, আর বাইরে থেকে মানুষের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পারে সত্য কিন্তু সে ভাল অভিনেত্রী, ভাল চিটার। যাদের ইচ্ছা বিলিভ করবে, আর যাদের ঈচ্ছা নাই করবেনা। তবে কাউকে ভালবেসে চিটার গিরি করনা।” ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলামনা। মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলেনা’ লেখেন আকাশ।