তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিকরা সিলিকোসিস ঝুঁকিতে

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , পঞ্চগড়

17 January, 2019 -> 10:22 am.

দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবার্তী উপজেলা তেঁতুলিয়া পাথরের রাজ্য নামেও বেশ পরিচিত। তেঁতুলিয়ায় পাথর ভাঙা মেশিনের ধূলোয় হাজার হাজার পাথর শ্রমিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও এতে নেই কোন সচেতনতা। প্রতিদিন প্রাণঘাতী ব্যাধি সিলিকোসিস ঝুঁকিতে পড়ছেন প গড় জেলার তেঁতুলিয়ার উপজেলার খেটে খাওয়া পাথর শ্রমিকরা।বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক উপজেলায় পাথর শিল্পে জড়িত মালিক-শ্রমিক কেউই স্বাস্থ্য সম্পর্কে তেমন সচেতন না হওয়ায় প্রাণঘাতী ব্যাধি সিলিকোসিসসহ ভয়াবহ রোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন শ্রমিকরা। এই এলাকার শ্রমিকদের একটি বড় অংশ পাথর ভাঙার কাজে যুক্ত। পাথর শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে আছেন প গড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এমন অনেকেই আছেন যাদের জীবিকার পুরোটাই পাথরের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু পাথর উত্তোলন ও ভাঙার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ ও পরিকল্পনা না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন পাথর শ্রমিকদের বিরাট অংশ। সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, সিপাইপাড়া, তিরনই, খয়খাটপাড়া, সর্দারপাড়া, তেঁতুলিয়া, শালবাহান, বুড়াবুড়ীর বালাবাড়ী, ভজনপুর,দেবনগড়,নিজবাড়ি, ময়নাগুড়ি এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার পাথর ক্রাশিং মেশিনে সারা বছরে পাথর ভাঙা হয়। বিভিন্ন আকৃতির পাথর এ এলাকার ভূমি থেকে উত্তোলন এবং ভারত থেকে আমদানি করা হয়। মেশিনের মাধ্যমে এসব পাথর ভাঙার সময় যে গুড়া ও ধূলো নির্গত হয় তা চারপাশে ছেয়ে যায়। কিন্তু ধূলোর মধ্যে কাজ করার সময় মুখে মাক্স না লাগিয়ে কাজ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। জানা যায়, এদের অনেকেই নানা রোগ ব্যাধিতে ভুগছেন। অন্য কোনো কাজ না পাওয়ায় জীবিকার তাগিদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত পাথর ভাঙার কাজ করছেন এসব শ্রমিকরা। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাথর ভাঙা মেশিনের উচ্চ শব্দ আর ধূলা-বালুর মধ্যে কাজ করতে হয় তাদের। রাতে মাথা ব্যথা ও নিদ্রাহীনতায় ভোগেন অধিকাংশ শ্রমিক। পাথর থেকে উৎপন্ন এসব ধূলা শ্রমিকদের নাক ও মুখ দিয়ে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে। শ্রমিকদের অনেকেই দীর্ঘদিন কাজ করার পর শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বরসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বাংলাবান্ধা এলাকার পাথর শ্রমিক শাহজাহান আলী জানান "সংসার চালাতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় আমাদের। সারাদিন ধূলোর মধ্যে কাজ করার পর শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় আমাদের"। শ্রমিকরদের জন্য এখনি কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে শ্রমিকদের এই বিরাট অংশ সিলিকোসিস সহ ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে তেঁতুঁলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম শাহিন জানান, প্রাণঘাতী ব্যাধি সিলিকোসিস থেকে শ্রমিকদের নিরাপদ থাকার জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালাসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়"।