ব্রেকিং নিউজ-
পাঁচবিবি সমিরণ নেছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত** শনিবার রংপুরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ** কুড়িগ্রামে ৪০তম জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগীতার উদ্বোধনী ** পীরগঞ্জে পাষান্ড স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার নাবালিকা গৃহ বধু ** রাণীশংকৈলে পুকুর খনন করতে গিয়ে ২টি বিষ্ণু মুর্তি উদ্ধার** রংপুরে বখাটেদের হুমকিতে স্কুলে যেতে পারছে না ১০ম শ্রেণীর ছাত্রীর** রংপুরে রিপোর্টার্স ইউনিটির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ** রনজিৎ দাসের একক চিত্র প্রদর্শনী ‘রুপসী রংপুর’ সমাপনী** রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ ** রংপুরে দারিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, শিক্ষা সামগ্রী ও ঋণ বিতরণ**

ঠাকুরগাঁওয়ে টমোটো চাষে সফল চাষী

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , ঠাকুরগাঁও

17 January, 2019 -> 10:16 am.

ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের আব্দুল হালিম (৫৫) হলেও এলাকার ছোট বড় সকলেই চিনে টমোটো হালিম নামে। কারণ ২২ বছর যাবত তিনি এলাকায় শীতের মৌসুমে আগাম জাতের টমোটো চাষ করে সফল হয়ে বেশ পরিচিতি অর্জন করেছেন। আব্দুল হালিম সদর উপজেলার আখানগর খেকিডাঙ্গা এলাকার মৃত ইয়াশিন আলীর ছেলে। সখের বসে ১৯৯৬ সালে বাবার পৈত্তিক পুকুর পাড়ে ২ শতক জমিতে পরীক্ষা মূলক ভাবে আগাম জাতের টমোটোর চাষ শুরু করেন তিনি। পরে সফলতা পেলে আস্তে আস্তে টমোটো চাষের জমির পরিমাণ বাড়াতে থাকে হালিম। এবছর তিনি ২ একর জমিতে আগাম জাতের টমোটো চাষ করে ইতোমধ্যে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। বাজারে আগাম টমোটোর চাহিদা ও দাম ভাল পেলেও বর্তমানে দাম কিছুটা কম তারপরেও ফলন দেখে বেশ খুশি আব্দুল হালিম। হালিমের চাষাবাদ দেখে টমোটোর পাশাপাশি আগাম শীত কালিন সবজি চাষে ঝুঁকেছেন আশ পাশের চাষিরাও। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আলুর পরিমাণ উল্লেখ্য যোগ্য। তবে হাতে গোনা দুই চার জন টমোটোর চাষ করেছেন। হালিমের পরিমাণ সব চেয়ে বেশি। আব্দুল হালিম বলেন, সখের বসে আগাম টমোটোর চাষ শুরু করলেও এখন আমার প্রধান পেশায় পরিনত হয়েছে। প্রতি বারের ন্যায় এবারও ২ একর জমিতে আগাম টমোটোর চাষ করেছি। মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৯৫ হাজার টাকা বিক্রি করে পেয়েছি। প্রথমে স্থানীয় বাজারে ৪০ টাকা প্রতি কেজি টমোটো বিক্রি করলেও এখন ১০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখনও গাছে যে, পরিমাণ টমোটো আছে আশা করি বাজার স্থিতি থাকলে আরো দেড় লাখ টাকা পাবো। আগে পরিবার নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটলেও এখন নিজে ভাল চলছি সাথে এলাকার ২-৪ জনকে নিয়তি কাজ দিতে পারছি। সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পেলে উৎপাদন আরো বাড়াতে পারবো। আব্দুল হালিম আরো বলেন, শীত কালে আগাম টমোটো চাষ বেশি ঝুঁকি সেই সাথে বেশি লাভের আশায় চাষ করি। তবে টমোটো পাকাতে কিছুটা ঝাঁমেলা আছে। গাছ থেকে পরিপক্ক কাঁচা টমোটো সংগ্রহ করে ২-১ দিন স্তুপ করে ঢেকে রাখতে হয় না হলে ভাল রং আসে না। আর রং না আসলে বাজারে চাহিদা কম থাকে। কৃষিতে সিনজেন্টার বিপুল প্লাস ও সফল জাতের টমোটোর চাষ করে থাকি ফলন ও গুনগত মান অনেক ভাল। নাম আব্দুল হালিম (৫৫) হলেও এলাকার ছোট বড় সকলেই চিনে টমোটো হালিম নামে। টমেটো উৎপত্তির কেন্দ্রস্থল দক্ষিণ আমেরিকা হলেও অনেক বিজ্ঞানী মেক্সিকো দেশটিকে টমেটোর উপত্তিস্থল মনে করেন। টমেটো একটি অতি প্রয়োজনীয়, জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর সবজি। ভিটামিন এ এবং সি-এর অন্যতম উৎস। কাঁচা ও রান্না করে-এ দুইভাবেই টমেটো খাওয়া যায়। টমেটো বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয় যেমন জ্যাম, জেলি, সস্, কেচাপ, আচার, সালাদ ইত্যাদি। টমেটো এদেশে রবি বা শীতের ফসল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। রাতের তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর নিচে থাকলে তা গাছের ফুল ও ফল ধারণের জন্য বেশি উপযোগী। গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস টমেটোর ভালো ফলনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। রাতের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর কম হলে টমেটোতে ফল হয় না। আলো-বাতাসযুক্ত উর্বর দো-আঁশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ সব মাটিতেই টমেটোর ভালো জন্মে। মাটির অম্লতা ৬-৭ হলে ভালো হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করে মাটি শোধন করতে হয়। টমোটো দীর্ঘমেয়াদী একটি ফসল। বীজ বোনা থেকে শুরু করে গাছের প্রথম ফল পাকা পর্যন্ত কমপক্ষে ১শ দিন সময় লাগে এবং ফলধারণ জাত ভেদে ৩০-৬০ দিন স্থায়ী হয়। এ জন্য রবি মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ নিতে হলে মৌসুম আসার আগেই চাষের আয়োজন করতে হয়। বর্ষাকালের চাষের জন্য এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এবং আগাম জাতের ক্ষেত্রে জুলাই থেকে আগস্ট মাস এবং শীতকালীন চাষের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চারা উৎপাদনের জন্য বীজ তলায় বীজ বপন করতে হয়। চারা তৈরির দুই মাস আগে বীজ বপনের জন্য বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হয়। বীজতলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব সার ও অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হয়। ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, চাষিরা যাতে আগাম সবজি চাষে ঝুঁকেন সে জন্য উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শুনেছি আখানগর এলাকায় আব্দুল হালিম র্দীঘদিন যাবত সফল ভাবে আগাম টমোটোর চাষ করে আসছেন। কয়েক দিনের মধ্যে তার টমোটো ক্ষেত পরির্দশনে যাবো।