ঠাকুরগাঁও উপজেলা নির্বাচনের ৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড় ঝাঁপ

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , ঠাকুরগাঁও

15 January, 2019 -> 9:24 am.

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ এর রেশ কাটতে না কাটতেই পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯ জমে উঠেছে। সারা বাংলাদেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নৌকার কান্ডারী হতে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতারা জনগণের কাছে । উপজেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য আওয়ামীলীগের নেতারা বন্ধ পরিকর। গত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির কাছে হেরে যায় আওয়ামীলীগের প্রাথী। এর ফলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ হয় বলে অনেকে মনে করেন। তাই এবারের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির কাছ থেকে উদ্ধার করতে বদ্ধ পরিকর আওয়ামীলীগ। ইতিমধ্যে শোনা যাচ্ছে আগামী মার্চ মাসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেকেই। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থীরা শুরু করেছেন দৌড় ঝাঁপ। এই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই এবার উপজেলা নির্বাচন জমে উঠবে বলে অনেকেই ধারনা করছেন। উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় আওয়াামী লীগ থেকে অনেকেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচনের দিন-তারিখ ঠিক না হলেও প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এলাকার ভোটাদের কাছে তাদের প্রার্থিতা হওয়ার খবরও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। উপজেলা সর্বত্রই এখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা-সমালোচনা। নির্বাচনে একক প্রার্থীকে সমর্থন দিতে দলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থী হতে আগ্রহী অনেকেই জানিয়েছেন তারা নিজ নিজ দলের সমর্থন পেলে নির্বাচনে অংশ নিবেন। আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নড়েচড়ে বসেছেন। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া আগ্রহ প্রকাশ করেছেন গতবারের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও ভূল্লী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী (ভূট্টো), সদর উপজেলা সাধারর সম্পাদক ও রাজাগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার, জেলা পরিষদের সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশনুল হক তুষার। তবে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে প্রার্থীর সংখ্যা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। তবে বর্তমানে ওই চারজন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। তবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারনা না করলেও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। আর তারা এসব সামাজিক অনুষ্ঠানে কৌশলে আগামী উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা হওয়ার ঘোষনা দিয়ে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। আগামী উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীরা ব্যক্তি ইমেজ, দলীয় পরিচয়, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিষয়গুলো দলীয় নেতাকর্মীদের অবহিত করছেন। আগামী উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন বলে তারা জানান। জানা গেছে, আগামী মাসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হবে এমন খবরে দলীয় নৌকা প্রতীক পেতে চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থীরা এখন থেকে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিরব প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা। এই উপজেলায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে। বরাবরই উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য লড়াই করেন। আর এতে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না এমটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। আগামী উপজেলা নির্বাচনে লড়তে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই রয়েছেন মাঠে। উপজেলা নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ার কথা রয়েছে। যদি দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে ঠাকুরগাঁও সদরে এটাই হবে উপজেলা পরিষদের প্রথম দলীয় প্রতীকের নির্বাচন।