ব্রেকিং নিউজ-
ঠাকুরগাঁয়ে তিন দিন পর নিখোঁজ গৃহপরিচারিকা উদ্ধার ** লালবাগ রেলওয়ে বস্তির ভুমিহীনদের অবিলম্বে সরকারী খাসজমিতে পুনর্বাসনের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ** জনতা ব্যাংক লিঃ রংপুরে মহিলা গ্রাহক সেবা সপ্তাহ পালিত** রংপুরে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধন ঘোষনা করেন – প্রধানমন্ত্রী** হাতীবান্ধায় পেঁপের বাম্পার ফলন** ডোমারে একই স্থানে কর্মী সম্মেলন-ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে উত্তেজনা** লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই সহদর আটক** রংপুর এক্সপ্রেসের ৪৫ যাত্রীর জরিমানা** কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন** রংপুরে ক্রিকেট লীগের ৪র্থ রাউন্ড কাল শুরু**

রংপুরে পার্চিং ব্যবহারে পোকা দমন পদ্ধতি জনপ্রিয়

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , রংপুর

12 October, 2018 -> 10:28 am.

পার্চিং ব্যবহার করে পোকা দমন পদ্ধতি রংপুর অঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। কমছে পরিবেশ দূষণও। জীববৈচিত্র্য পাচ্ছে নির্মল পরিবেশ। জানা যায়, খেতে পোকা-মাকড় দমনে কৃষিবান্ধব পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম হলো পার্চিং পদ্ধতি। স্বল্প খরচে ধানের ক্ষেতে গাছের ডাল, ধৈঞ্চা কিংবা বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে পাখি বসার ব্যবস্থা করাকে পার্চিং বলে। এ পদ্ধতি অনুযায়ী ধানখেতে গাছের ডালে কিংবা বাঁশের খুঁটিতে বসে ধানের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় খায় পাখিরা। ডেথ ও লাইভ পার্চিং পদ্ধতির মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকর কীট দমন করে কৃষকরা। ধানের খেতে ধৈঞ্চা লাগিয়ে সেখানে পাখিদের বসবার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হলো লাইভ পার্চিং এবং বাঁশের খুঁটি কিংবা গাছের ডালপালার মাধ্যমে পাখিদের বসার স্থান করাকে ডেথ পার্চিং বলে। মাটির জন্য লাইভ পার্চিং ব্যবস্থা বেশি উপকারী হলেও পার্চিং-এর দুই পদ্ধতিই কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ধৈঞ্চার পাতা পড়ে তা মাটিতে পচে জৈব সার তৈরি হয়। যা মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রংপুর নগরীর বাহার কাছনা মাছহাড়ী এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ধানখেতের মধ্যে কিছু দূর পরপর বাঁশের খুঁটি পুঁতে রেখে ইংরেজির টি-আকৃতি করে পাখিদের বসার জায়গা করেছে কৃষক। সাহেবগঞ্জ এলাকার কোথাও কোথাও খেতের মধ্যে সবুজ ধৈঞ্চা গাছ লাগানো দেখা গেছে। বাঁশের খুঁটিতে, ধৈঞ্চা গাছে ফিঙে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল এসব পাখি বসে ধানের খেত থেকে পোকামাকড় ধরে খায়। যখন রোদের তাপ কম থাকে বিশেষ করে সকালে আর বিকেলে ঝাঁকে ঝাঁকে এসব পাখি পার্চিং করা জায়গায় বসে পোকা-মাকড় ধরে খায়। বাহার কাছনা মাছাড়ী এলাকার কৃষক আবু বক্কর, আনোয়ার হোসেন, ফিরোজ ইসলামসহ অন্যরা জানান, ধানে যে মাজরা পোকা লাগে, সেগুলোর ডিম নষ্ট করার জন্য ডাল পুঁতে পাখির বসার জায়গা করে দিয়েছি। এখানে পাখি বসে মাজরা পোকার ডিমগুলো খেয়ে নেয়। কীটনাশক ব্যবহার করলে ক্ষতিকারক পোকাও মারা যায়, উপকারী পোকাও মারা যায়। পার্চিং করার ফলে পাখিরা ক্ষতিকর পোকাগুলো ধরে ধরে খায়। পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। এলাকার অধিকাংশ মানুষই এখন পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আমাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমে গেছে। এছাড়া পাখিদের আনাগোনায় বেশ ভালো লাগে তাদের বলে মন্তব্য করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চল সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ১০ থেকে ৩০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি করে পোকা-মাকড়। এর হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে আরও ১০ শতাংশ। পার্চিং পদ্ধতির ফলে কৃষকরা যেমন ফসলের পোকা-মাকড় দমন করতে পারছেন তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসছে। ধান ফসলের প্রতি ৫ শতকে ১টি করে পার্চিং ব্যবহার করতে হয়। একর প্রতি ১৮টি থেকে ২০টি পার্চিং ফসল রোপণের পরপরই স্থাপন করতে হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পািচালক ড. সারওয়ারুল হক জানান, এ বছর জেলায় প্রায় শতভাগ জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, উঠান বৈঠক, মাঠ পরিদর্শন, সেমিনারে কৃষকদের বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডাল, খুঁটি, কিংবা ধৈঞ্চার গাছ রোপণ করে পার্চিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। খুব সহজে, কম খরচে পরিবেশবান্ধব পোকা-মাকড় দমনের পদ্ধতিতে কৃষকরা সহজে তাদের মাঠে ব্যবহার করতে পারেন। এ পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে কৃষকদের ধানের ক্ষেতে কীটনাশকের ব্যবহার অনেকটা কমে গেছে। এতে করে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমে গেছে। সেই সাথে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সেটি থেকে পরিবেশের যে ক্ষতি হতো সেটিও কমে গেছে। যারা সমন্বিত মাছ ও ধান চাষ করেন সেখানে পানি দূষণ হচ্ছে না। রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় এবার পার্চিং পদ্ধতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৫টি। এর মধ্যে অর্জন হয়েছে ৫ লাখ ৭৪২টি। অর্জনের শতকরা হার ৮৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সকল কৃষক মাঠ পার্চিং-এর আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উদ্যান তত্ত্ববিদ মেজবাহুল ইসলাম জানান, জমির কাছে পাখিদের জন্য উঁচু জায়গায় বসার স্থান করে দেয়া হয় পার্চিং ব্যবস্থায়। এছাড়া পার্চিংয়ের মাধ্যমে পোকার বংশবিস্তার কমানো যায়। পোকার বসতি তৈরি করার সুযোগ নষ্ট করে ফেলে পাখিরা। এছাড়া পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈবপদার্থ যোগ করে জমির উবর্রতা শক্তি বৃদ্ধি করে। ফিঙ্গে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল- এসব পাখি পাচিং-এ বসে পোকা ধরে খায়। একটি ফিঙে পাখি সারাদিনে কমপক্ষে ৩০টি করে মাজরা পোকার মথ, ডিম, কিড়া, ও পুত্তলি খেয়ে থাকে। একটি পাখির দ্বারা প্রতি মাসে কমপক্ষে ২ লাখ ৭০ হাজার পোকা ধ্বংস করা সম্ভব হয়। এছাড়া পাখিদের বংশবিস্তারে এটি একটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। রংপুর কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা আবু সায়েম জানান, পার্চি পদ্ধতির ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমেছে। পাখিরা মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, ধানের স্কিপার পোকার মথ ধরে খায়। লার্ভা বা কিড়াগুলোর মধ্যে শিষ কাটা লেদা পোকা, সবুজ শূড় লেদা পোকার কিড়া খায়। খাটো শূড় ঘাস ফড়িং, লম্বা শূড় ঘাস ফড়িং, উড়চুঙ্গা এসব ফড়িংগুলোও খায়।সংবাদে আব্দুর রহমান মিন্টু, রংপুর