ব্রেকিং নিউজ-
ঠাকুরগাঁয়ে তিন দিন পর নিখোঁজ গৃহপরিচারিকা উদ্ধার ** লালবাগ রেলওয়ে বস্তির ভুমিহীনদের অবিলম্বে সরকারী খাসজমিতে পুনর্বাসনের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ** জনতা ব্যাংক লিঃ রংপুরে মহিলা গ্রাহক সেবা সপ্তাহ পালিত** রংপুরে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধন ঘোষনা করেন – প্রধানমন্ত্রী** হাতীবান্ধায় পেঁপের বাম্পার ফলন** ডোমারে একই স্থানে কর্মী সম্মেলন-ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে উত্তেজনা** লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই সহদর আটক** রংপুর এক্সপ্রেসের ৪৫ যাত্রীর জরিমানা** কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন** রংপুরে ক্রিকেট লীগের ৪র্থ রাউন্ড কাল শুরু**

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন রংপুর-১ গঙ্গাচড়া

ফরহাদুজ্জামান ফারুক

ষ্টাফ রিপোর্টার , রংপুর

12 October, 2018 -> 12:44 am.

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি প্রায় তিন মাস। এরই মধ্যে রাজনৈতিক পল্লীতে শুরু হয়েছে নির্বাচনী ট্রেনের টিকেট পেতে হুমড়ো দৌড়। কেউ কেউ দলের আগাম সবুজ সংকেত পেয়ে আছেন বেশ ফুরফুরে মেজামে। তেমনই একজন রংপুর- ১ (গঙ্গাচড়া ও রসিকের আংশিক) আসনের বর্তমান এমপি মসিউর রহমান রাঙ্গা। যিনি কিনা একাধারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তার এই জয়ের মধ্য দিয়ে একসময়ের অবহেলিত গঙ্গাচড়া প্রথমবারের মতো একজন প্রতিমন্ত্রী পেয়ে যান। তার মাধ্যমে বদলে যেতে থাকে তিস্তানদী বিধৌত গঙ্গাচড়া। একসময়ের মঙ্গাকবলিত গঙ্গাচড়া এখন আগের অবস্থায় নেই। মসিউর রহমান রাঙ্গা তার জাদুর কাটির ছোয়ায় উন্নয়নের চাঁদর বিছিয়েছেন এখানে। প্রতিমন্ত্রী হয়েও ফ্রি সময় পেলেই ছুটে আসেন নির্বাচনী এলাকাতে। খোঁজখবর রাখেন সাধারণ মানুষের। কখনো কখনো মেঠোপথ ধরে হেটে হেটে যান কৃষকের কাছে। নতুবা তিস্তাপাড়ে বসে স্বপ্ন দেখেন রাক্ষুসে নদীর শোষণ দমনের। গঙ্গাচড়ার নাড়ির সাথে যোগসূত্র স্থাপন করায় মসিউর রহমান রাঙ্গা এখন আমজনতার রাঙ্গা হিসেবে পরিচিত। তার হাত ধরে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে এই আসনে। একারণে অনেকেই মুখেই শোনা যায় ‘রাঙ্গা মানে চাঙ্গা’। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও গঙ্গাচড়ার মানুষরা রাঙ্গাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন। তবে গত সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের ব্যানারে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পার পেয়ে গেলেও এবার সেই সুযোগের সম্ভাবনা নেই এখানে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা উঠে পড়ে নেমেছেন মাঠে। বহিরাগত ঠেকাও স্লোগানে নিজেদের পক্ষে জোয়ার তুলতে গিয়ে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর প্রচারণায় আওয়ামীলীগে তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জনসাধারণও আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দে। সেইদিক থেকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। এখানে বর্তমানে কোন্দলমুক্ত দল হিসেবে ভোটারদের মন জয়ে এগিয়ে আছেন এরশাদের লাঙ্গল। জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, মহাজোট হোক আর নাই হোক নির্বাচনে ব্যালেট যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ের মালা গলে পড়তে জটিল অংক কষতে হবে না তাদের আস্থাভাজন রাঙ্গাকে। বর্তমান জরিপে ভোটের মাঠে জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকা রাঙ্গা ব্যালেট যুদ্ধে জয়ী হলে এটি হবে তার জন্য হ্যাটট্রিক। ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সালের ভোট যুদ্ধে এই আসনটি বরাবরই জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। জাতীয় সংসদের ১৯নং আসনটিতে (রংপুর-১ আসন) ১৯৯১ সালে এরশাদের লাঙ্গল কাঁধে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন করিম উদ্দিন ভরসা, ১৯৯৬ সালে সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু, ২০০১ সালে মসিউর রহমান রাঙ্গা, ২০০৮ সালে এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মসিউর রহমান রাঙ্গা। দ্বিতীয়বারের মতো এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী পরিষদে জায়গা হয় তার। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর রংপুরের পিছিয়ে পড়া উপজেলা গঙ্গাচড়াকে উন্নয়নের মোড়কে সাজিয়ে তোলেন তিনি। শত ব্যস্ততার মাঝে প্রতিমাসেই ছুটে আসেন তার নির্বাচনী এলাকাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সুসম্পর্ক ও দারুণ সখ্যতার কারণে রাঙ্গা এখানে ১২৯ কোটির বরাদ্দ আনতে পেরেছেন তিস্তা নদী শাসনের জন্য। গেল পাঁচ বছরে গঙ্গাচড়াতে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারে ব্যাপক অনুদান দিয়েছেন তিনি। বদলে দিয়েছেন এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। নতুন নতুন রাস্তা, কালভার্ট, ব্রীজ, ছোট ছোট সেতু নির্মাণ করেছেন। মাইলের পর মাইল কাচা রাস্তাকে পিচঢাকা রাস্তা করে মূল সড়কের সাথে সংযুক্ত করেছেন। তার মাধ্যমে অভূতপূর্ব উন্নয়নের সমন্বয় ঘটেছে এই উপজেলাতে। শীতার্থ ও বন্যার্ত মানুষের পাশে দাড়ানোর পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ন্যাশনাল সার্ভিস চালু, বিধবাভাতা, বয়ষ্কভাতা, হতদরিদ্রদের পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। জনবান্ধন এমপি হিসেবে তার জনপ্রিয়তা এখানে ঈর্শ্বনীয়। তাই মহাজোটের ব্যানারে আবারো জাতীয় পার্টি নির্বাচনে গেলে এই আসনে রাঙ্গার বিকল্প কাউকে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে যদি একক নির্বাচন হয় অথবা কোন ছাড় না দেয়ার নীতি থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তারপরও জয়ের জন্য বেশি হাসফাস করতে হবে না জাতীয় পার্টির রাঙ্গাকে। স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাদের দাবি, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর-১ গঙ্গাচড়া সংসদীয় আসনের সীমানা বৃদ্ধি করে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮নং ওয়ার্ড অন্তর্ভূক্ত করেছে। একারণে এই আসনে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮৫ হাজার। রংপুর আ লিক নির্বাচন কমিশন অফিসের সূত্র মতে, বর্তমানে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার। এদিকে রংপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদটি জাতীয় পার্টির দখলে থাকায় গঙ্গাচড়া আসনে যুক্ত হওয়া সিটির ১ থেকে ৮নং ওয়ার্ডের ভোটাররা রাঙ্গার পক্ষেই বেশি তৎপর থাকবেন বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা। লক্ষীটারী ইউনিয়নের কৃষক সবুর আলী বলেন, প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা হামার উন্নয়নের জন্য খুব কাজ করছেন। প্রায় প্রায় ঢাকাত থাকি আসি হামার খোঁজখবর নিয়্যা গেইচে। তার মতো ভালো এমপি হয়না। রাঙ্গা হামার গঙ্গাচড়ার প্রধান প্রধান সমস্যাগুল্যার সমাধানের পথ খুঁজি বাইর করছে। গেল পাঁচ বছরে অনেক উন্নয়ন হইছে। এবার তায় ভোটোত জিতলে হামরা তাক ফুল মন্ত্রী হিসেবে পামো। বর্তমানে গঙ্গাচড়াতে যে নির্বাচনী হাওয়া বইছে তাতে আওয়ামীলীগের তিন থেকে চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদেরকে নৌকার মাঝি হিসেবে জানান দিতে শুরু করেছেন প্রচারণা। এতে করে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গ্রুপিং। যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোটারদের ভিতরেও। স্থানীয় ভোটারদের দেয়া তথ্য মতে, এ আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সাথে ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো জামায়াতে ইসলামীর। আওয়ামীলীগ সব সময় তৃতীয় অবস্থানে থাকত। তবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়াসহ সক্রিয় রাজনীত বন্ধ হওয়ায় এখানে এখন আর আগের জামায়াত নেই। বর্তমানে উন্নয়নের ¯্রােতে দেশকে এগিয়ে নেয়ার মন্ত্রে উজ্জীবিত আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জোরেশোরে। এতে করে জাতীয় পার্টির সাথে লড়াই করার মত অবস্থান এখানে সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করছেন নৌকার সমর্থকরা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন সুজনের নাম শোনা গেলেও তেমন কোন প্রচারণা নেই গঙ্গাচড়াতে। তবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিতরের প্রস্তুতি ঠিক রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামসুল আলম বলেন, গঙ্গাচড়ায় জাতীয় পার্টি ৯০ দশকের মতো আবারো ফিরে এসেছে। জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করলেও এই আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। আর জোট হলে তো বিজয় ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। অন্যদিকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনকে করতে প্রচারণার মাঠে থাকা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রবিউল ইসলাম রেজভী, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম রাজু এবং আওয়ামীলীগের আরেক সমর্থন প্রত্যাশী সিএম সাদিককে ঘিরে দ্বিধাদ্বন্দে স্থানীয় আওয়ামীলীগের কর্মীরা। মহাজোট থেকে জাপা বেরিয়ে এলে এখানে আওয়ামীলীগের নৌকায় বৈঠা পেতেন পারেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু। হিসেব উল্টাপাল্টা হলে মনোনয়ন দৌড়ে টিকে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম রাজুও। নির্বাচনের ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। এখানে স্থানীয় লোকের এমপি হবার সুযোগ হয়নি। বহিরাগত দ্বারা গঙ্গাচড়ার মানুষ যুগের পর যুগ শাসিত হয়ে আসছে। এবার জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। স্থানীয় প্রার্থীকেই জয়ী করবেন। সেই হিসেবে নৌকার মাঝির গলেই বিজয়ের মালা উঠবে বলেও তার বিশ্বাস। ##