ব্রেকিং নিউজ-
ঠাকুরগাঁয়ে তিন দিন পর নিখোঁজ গৃহপরিচারিকা উদ্ধার ** লালবাগ রেলওয়ে বস্তির ভুমিহীনদের অবিলম্বে সরকারী খাসজমিতে পুনর্বাসনের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ** জনতা ব্যাংক লিঃ রংপুরে মহিলা গ্রাহক সেবা সপ্তাহ পালিত** রংপুরে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধন ঘোষনা করেন – প্রধানমন্ত্রী** হাতীবান্ধায় পেঁপের বাম্পার ফলন** ডোমারে একই স্থানে কর্মী সম্মেলন-ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে উত্তেজনা** লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই সহদর আটক** রংপুর এক্সপ্রেসের ৪৫ যাত্রীর জরিমানা** কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন** রংপুরে ক্রিকেট লীগের ৪র্থ রাউন্ড কাল শুরু**

ঐক্য ধরে রাখার অঙ্গীকার ১৪ দলের

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিষেশ বুলেটিন

9 October, 2018 -> 11:06 am.

নাম ‘জনসভা’। কিন্তু পরিণত হলো ‘জনসমুদ্র’। লোকে লোকারণ্য রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর আর গণকপাড়া। রাজশাহী ১৪ দলের এই মহাসমাবেশ থেকে দলের নেতারা অঙ্গীকার করলেন, নিজেদের ঐক্য ধরে রাখার। তারা বললেন, দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। আর তাই ১৪ দলের ঐক্য ধরে রাখারও কোনো বিকল্প নেই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীর নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়। তাহলেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার বিকালে সাহেববাজারে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু দুপুর থেকেই নেতাকর্মীদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই হারায় পুরো এলাকা। একে একে বক্তব্য দিতে থাকেন ১৪ দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা। সন্ধ্যার আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য শুরু করেন ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন; তাই আবার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বিএনপি ভোট ছাড়ায় ক্ষমতায় যেতে চায়। এ জন্য তারা নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে। কিন্তু নির্বাচন হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না। নাসিম বলেন, আমরা বিনা খেলায় গোল দিতে চাই না, মাঠে খেলে গোল দিতে চাই। বিশ্বকাপে মেসি, নেইমার গোল মিস করতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনা গোল মিস করবে না। সংবিধান অনুযায়ী সঠিক সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ না নেয়, তাহলে তাদের বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ১০ বছর দল ক্ষমতায় আছে। মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মীদের ভুল হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনা কাউকে ক্ষমা করেননি। ভুল করলে শাস্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ভুল নেই। তাই জনগণ আবার তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবেন। দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাবেন। নাসিম বলেন, ১৪ দলের ভেতর কোনো বিভেদ নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি বৈতরণী পার হবে। রাজশাহীতে ফজলে হোসেন বাদশা এমপি আছেন। তার নেতৃত্বে শহরের উন্নয়ন হয়েছে। অন্য রাজশাহীর আসনগুলোতেও এমপিরা উন্নয়ন করেছেন। তাই আগামী নির্বাচনেও ১৪ দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মানুষ তাদের নির্বাচিত করবে। জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ১৪ দলের বিরুদ্ধে একটা অপশক্তি কাজ করে। তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। বিভেদ ধরানোর চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে ১৪ দলকে সতর্ক থাকতে হবে। নানক বলেন, রাজশাহী নৌকার দুর্জয় ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তাই রাজশাহীর মানুষ শেখ হাসিনার প্রার্থীকে বিজয়ী করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠুভাবেই শেষ করবে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হলে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগে কোনো বিভেদ নেই। ১৪ দলেও কোনো বিভেদ নেই। নির্বাচন এলেই সেটা আমরা দেখতে পাই। খালিদ বলেন, জনসভায় এতো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে রাজশাহীতে নৌকার জোয়ার এসেছে। এই জোয়ারের কারণেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জনসভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও বিশেষ অতিথি ছিলেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আমরা এগিয়ে যাব নাকি আবার পিছিয়ে পড়ব। রাজশাহীর উন্নয়ন হয়েছে ১৪ দলের নেতৃত্বে। তাই ১৪ দলের প্রার্থীকেই আবার নির্বাচিত করতে হবে। তা না হলে রাজশাহীও পিছিয়ে পড়বে। সৃষ্টি হবে জঙ্গিবাদ, যেমন সৃষ্টি হয়েছিল বাংলা ভাই। পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাও জনসভায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে ১৪ দলের যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। ঐক্য বেঁচে থাকবে। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। জনগণের সামনে কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। আগামীর সরকারও হবে শেখ হাসিনার সরকার। সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশে একদিকে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি। অন্যদিকে পাকিস্তানের মতাদর্শ। ভাবতে হবে-আমরা স্বাধীনতা চাই নাকি পরাধীনতায় নিমজ্জিত হতে চাই। স্বাধীনতাবিরোধীরা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। কিন্তু ১৪ দল সজাগ আছে। এটা কখনো হতে দেয়া হবে না। ১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আবার তাকে প্রধানমন্ত্রী বানাবে। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়াও তার বক্তব্যে ১৪ দলের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অপশক্তিকে পরাজিত করতে হলে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে গেছে। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ১৪ দলের প্রার্থীকেই আবার নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। তা না হলে সরকারের গৃহিত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প থেমে যাবে। দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। জনাকীর্ণ ওই সমাবেশ থেকে তাকে সিটি মেয়র নির্বাচিত করার জন্য রাজশাহীবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। জনসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, রাজশাহীর সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, আয়েন উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আখতার জাহান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা, নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেণী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জনসভায় ওয়ার্কার্স পার্টির নগর সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, ন্যাপের জেলা সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান খান আলমসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও জাসদের আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী জনসভা পরিচালনা করেন।