ব্রেকিং নিউজ-
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করা হবে মোতাহার হোসেন** শেখ কল্লোল আহম্মেদের ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকীতে রিপোর্টার্স ক্লাবে দোয়া মাহফিল** রংপুর ৬ আসনে ড, শিরিন শারমিনের নির্বাচনী প্রচারনা শুরু ॥ মানুষের ঢল ॥ ** বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে রংপুরে জয়িতাগনকে সংবর্ধনা ** নীলফামারী-৪ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী ** নীলফামারীতে নারী শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার** রংপুরের শ্যামপুরে এতিমখানায় কোম্বল বিতরন** হাতীবান্ধায় ট্রাকের ধাক্কায় ঝরে গেল এক নারীর প্রাণ** পলাশবাড়ীতে আওয়ামী লীগের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত** ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি আটক**

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নিজের সন্তানের উপবৃত্তি বহাল রেখে নিয়মিত মেধাবী ছাত্রীর উপবৃত্তি বাতিল

শাকিল খান

প্রতিনিধি , নীলফামারী

9 October, 2018 -> 7:30 am.

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিছ বেগম নিজের সন্তানের নামে উপবৃত্তি সচল রাখলেও ২য় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী মৌমিতা রায়,রোল নং (০১) এর উপবৃত্তি বাতিল করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,বগুলাগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিছ বেগম তার নিজের সন্তান মাউনকে শিশু শ্রেণীর ছাত্র দেখিয়ে মায়ের নামের স্থানে তার এ্যাডভোকেট বোন ফাতেমা বেগমের নাম উল্লেখ করে উপবৃত্তি উত্তোলন করেন। যাহার মোবাইল নম্বর ০১৭৩১৫৫৬৩৬৩ ও উপবৃত্তি আইডি নং ১৬২১২৭৯৪। অথচ মাউন এখনও স্কুলে যাওয়ার মত তার বয়স হয়নি বলে জানিয়েছেন তার এক নিকট আত্মীয়। অপরদিকে তার আর এক মেয়ে মেহোজা রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল ও কলেজের ২য় শ্রেণীতে অধ্যায়ন করলেও তাকে ১ম শ্রেণী দেখিয়ে এবং মেহোজার মায়ের নামের স্থলে তার নানীর নাম আনোয়ারা ব্যবহার করে উপবৃত্তি উত্তোলন করা হয়। মেহোজার উপবৃত্তি আইডি নম্বর ১৬২১২৮১০ ও মোবাইল নম্বর ০১৭৭৩৫৬৬৩৫৮। বিষয়টি সংবাদকর্মীরা জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক তার সন্তানের নাম উপবৃত্তির তালিকা থেকে নাম কর্তন করেন। নিজের সন্তানের উপবৃত্তি উত্তলণের বিষয়টি প্রধান শিক্ষক সজ্ঞানে করলেও তার স্কুলের ২য় শ্রেণীর নিয়মিত মেধাবী ছাত্রী মৌমিতা রায়ের নামটি উপজেলা শিক্ষা অফিসে পূর্বাক্রোশের জের ধরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে তার উপবৃত্তি বাতিল করা হয়। সম্প্রতি উপবৃত্তি প্রদানের সময় রূপালী ব্যাংক শিওর ক্যাশের মাধ্যমে মৌমিতার মায়ের মোবাইল নম্বরে টাকা না আসলে মৌমিতার মা বাসবী রানী প্রধান শিক্ষকের কাছে উপবৃত্তির টাকা পায়নি বলে জানায়। প্রধান শিক্ষক বিলকিছ বেগম টাকা না পাওয়ার বিষয়টি জেনে সাময়িক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করে অফিসে খোঁজ নেয়ার কথা বলে তাকে বিদায় দেন। পরে এ বিষয়ে মৌমিতা রায়ের মা বাসবী রানী আবার জানতে চাইলে তিনি নানান ব্যস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। পরে মৌমিতার মা উপজেলা শিক্ষা অফিসে নিজেই খোঁজ নিয়ে দেখেন যে,মৌমিতা রায়কে অনুপস্থিত দেখিয়ে তার নাম উপবৃত্তির তালিকা থেকে প্রধান শিক্ষক নিজেই বাতিল করে দেন। বিষয়টি জানার পর থেকে ২য় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী মৌমিতা রায় এখন স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে অনিহা প্রকাশ করছেন। তার মাকে নিয়মিত ভাবে প্রশ্ন করছেন আমার উপবৃত্তির টাকা কবে আসবে। তার মা কোন জবাব দিতে না পেরে মৌমিতার সামনে চোঁখের পানি ফেলছেন। পরে মেয়ের অভিযোগ ও কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বাসবী রানী নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসে গত ২৩জুন একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে জেলা শিক্ষা অফিস কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার ওসমান গণির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন অভিযোগ এখনও হাতে পাইনি। আমি বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানাবো। দীর্ঘদিন থেকে মেয়ের অভিযোগ শুনে ব্যাথা নিয়ে মেয়েকে মিথ্যা শান্তনা দিয়ে যাচ্ছেন বাসবী রানী। তিনি বলেন, অন্যায় ভাবে তার মেয়েকে মেধায় আঘাত দিয়ে পড়ালেখা থেকে দুরে রাখতে প্রধান শিক্ষক এমনটা করেছেন বলে তিনি জানান। কিন্তু এক সপ্তাহ থেকে মিমাংসার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে চলেছেন সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান। বাসবী রানী বলেন,প্রধান শিক্ষক কখনো আমার মেয়ের নাম ভুলে কেটে দেয়নি। তিনি স্বজ্ঞানে আমার মেয়েকে অনুপস্থিত দেখিয়ে আমার মেয়ের উপবৃত্তি থেকে বাদ দিয়েছেন। আমি এর তদন্ত পূর্বক বিচার কামনা করছি। এ ব্যাপারে বগুলাগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ সন্তানের নামে উপবৃত্তি উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন,আমি অন্য একজন মৌমিতার নাম কাটতে গিয়ে বাসবী রানীর মেয়ে মৌমিতার নাম বাদ পরেছে। আমি তাকে উপবৃত্তির টাকা দিতেও চেয়েছি। তবে তিনি স্বীকার করে বলেন,আমার মেয়ে ও ছেলে আমার স্কুলে না পড়লেও উপবৃত্তি নিয়েছি এবং অন্যান্য শিক্ষকদের সন্তানদের উপবৃত্তি দিয়েছি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান বলেন,বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার শরিফা আখতার বলেন,বিষয়টি অত্যান্ত ষ্পর্শ কাতর ও অমানবিক বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।