ফিরে দেখা: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিষেশ বুলেটিন

9 October, 2018 -> 4:24 am.

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ, বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা মামলায় রায় ঘোষণার জন্য কাল ১০ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগষ্টের ওই ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার অনুষ্টিত হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার এ তারিখ ধার্য করে আদেশ দেয় আদালত। টানা ১১৯ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৯ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে ৯০ কার্যদিবস। রাষ্ট্রপক্ষে অন্যতম আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল বলেন, পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার কার্যক্রম অনুষ্টিত হয়েছে মোট ১৪৫৪ কার্যদিবসে। এছাড়া আসামীরা বিভিন্ন আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ২৯৪ কার্যদিবস সময় ক্ষেপন হয়। ঘটনা: রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে ওই দিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ জঘন্যতম নজিরবিহীন ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় হতাহত: তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ভয়াবহ ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। মামলা দায়ের: বর্বরোচিত ও নৃশংস ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনার পরদিন ২২ আগষ্ট পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার বাদী মতিঝিল থানা পুলিশের ওই সময়ের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শরীফ ফারুক আহমেদ। অভিযোগ পত্র: ঘটনার প্রায় চার বছর পর ২০০৮ সালের ৯ জুন অভিযোগপত্র (চার্জসিট) দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ মামলা অধিকতর তদন্তের আদেশ হয় ২০০৯ সালের ১২ আগষ্ট। তদন্ত শেষে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয় ২০১১ সালের ২ জুলাই। অভিযোগ গঠন: প্রথম অভিযোগপত্রের আলোকে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। সম্পূরক অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার পর অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১২ সালের ১৮ মার্চ। আসামী সংখ্যা: ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা যাতে আসামী সংখ্যা মোট ৫২ জন (ইতোমধ্যে অন্য মামলায় তিন আসামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এখন আসামী ৪৯ জন)। একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অপর একটি মামলায় আসামী সংখ্যা ৩৮জন। ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আনা মামলায় ৫২ আসামী হচ্ছেন-১. মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম ওরফে আব্দুল মান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর) ২. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি ৩. শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল (অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর) ৪. মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর ৫. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল ৬. মো.জাহাঙ্গীর আলম ৭. হাফেজ মাওলানা আবু তাহের ৮. শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল ৯. হোসাইন আহম্মেদ তামিম ১০. আব্দুস সালাম পিন্টু ১১. মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ১২.আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক ১৩. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ১৪. মো.উজ্জল ওরফে রতন ১৫. হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ১৬. মো.লুৎফুজ্জামান বাবর ১৭. মেজর জেনারেল (অব:) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ১৮. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আব্দুর রহিম ১৯.আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর) ২০. মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম ২১. মো. আব্দুল মাজেদ ভাট ২২. আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ২৩.মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব ২৪. মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির ২৫. মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ. ২৬. অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি মো: আশরাফুল হুদা ২৭. অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি শহুদুল হক ২৮. অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি খোদা বক্স চৌধুরী ২৯. রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:) ৩০. আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এ,এস,পি ৩১. মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এ,এস,পি ৩২.লে.কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক ৩৩.মাওলানা মো.তাজউদ্দিন ৩৪.মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন ৩৫.আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন ৩৬.মো. খলিল ৩৭.জাহাঙ্গির আলম বদর ৩৮.মো.ইকবাল ৩৯.আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার ৪০. লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ৪১. তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া ৪২.হারিছ চৌধুরী ৪৩.কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ৪৪.হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ ৪৫. লে.কর্নেল (অব:)সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার ৪৬.মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর) ৪৭.মুফতি শফিকুর রহমান ৪৮.মুফতি আব্দুল হাই ৪৯.রাতুল আহাম্মদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু ৫০. ডি,আই,জি, খান সাঈদ হাসান ৫১.পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খান ৫২.আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ কমিশনার। এদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি মো: আশরাফুল হুদা, অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি শহুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:), আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এ,এস,পি , মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এ,এস,পি , লে.কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক. লে.কর্নেল (অব:)সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার , মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর), ডি,আই,জি, খান সাঈদ হাসান ও পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খানসহ এ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২১ আগষ্টের একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অভিযোগ আনা হয়নি। আসামীদের মধ্যে ৩৮ জন উভয় মামলায়ই আসামী। এর মধ্যে এখন হত্যা মামলায় ৪৯ জন ও বিষ্ফোরক আইনের মামলায় ৩৮ জন আসামী। সাক্ষ্যগ্রহণ তথা বিচার শুরু : ২০১২ সালের ৯ জুলাই। সাক্ষ্য শেষ : মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয় ২০১৭ সালের ৩০ মে। সাক্ষী সংখ্যা : এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামীপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অপরদিকে আসামীপক্ষ ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জেরা করেছে। যুক্তিতর্ক শুরু: ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুরু করে টানা ২৫ কার্যদিবস ফ্যাক্টস-এর আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর টানা ৮৭ কার্যদিবস আসামীপক্ষ ফ্যাক্টস্ এর আলোকে যুক্তিতর্ক পেশ করেছে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষ আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ করেছে। যুক্তিতর্ক টানা ১১৯ কার্যদিবস শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে মোট ২৯ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে মোট ৯০ কার্যদিবস। জবানবন্দি: মামলার সাক্ষীদের মধ্যে ঘটনার বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ১৪ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন-আবু হেনা মো. ইউসুফ , অতিরিক্ত আই,জি,পি এস.এম মিজানুর রহমান , মেজর জেনারেল সাদেক হাসান রুমি , লে.কমান্ডার মিজানুর রহমান , মেজর (অব:) মো. আতিকুর রহমান , নাহিদ লায়লা কাকন, মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ , আইজিপি আব্দুল আজিজ সরকার, মেজর (অব:) সৈয়দ মনিরুল ইসলাম , লে: কর্নেল আফজাল নাছির ভূইয়া , মাওলানা আব্দুর রশিদ , মনোয়ারা সুলতানা। আসামীদের মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে ১৩ আসামীর ১৪টি। তারা হলেন-১. মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম ওরফে আব্দুল মান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর ২টি জবানবন্দি) ২. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি ৩. শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল (অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর) ৪. মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর ৫. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল ৬. মো.জাহাঙ্গীর আলম ৭.মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ৮.আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক ৯. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ১০. মো.উজ্জল ওরফে রতন ১১. মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম ১২. মো. আব্দুল মাজেদ ভাট ১৩. আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ। আসামী গ্রেফতার ও পলাতক: ২১ আগষ্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামীর অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ৩ আসামী হলেন- জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ সাহেদুল আলম বিপুল। এখন ৪৯ আসামীর বিচার অনুষ্টিত হয়েছে। এর মধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। এখন ৩১ আসামী কারাগারে রয়েছেন। এরমধ্যে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্যের দিন পর্যন্ত ৮ আসামী জামিনে ছিলেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। আসামীরা হলেন-বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষের যুক্তিতর্ক পেশ ও শুনানি শেষ হলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত বলেন, “দীর্ঘদিন বিচার কার্যক্রম শেষে এখন শেষ পর্যায়ে এসেছে। রায় ও আদেশের জন্য ১০ অক্টোবর বুধবার দিন ধার্য করা হলো।” আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার প্রধান কৌসুঁলি ছিলেন সৈয়দ রেজাউর রহমান। এছাড়া আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল, রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি মো.আবু আব্দুল্লাহ্ ভুঁইয়া, এডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামলও শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করেন এডভোকেট ফারহানা রেজা, এডভোকেট আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত জিহাদ, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ। প্রসিকিউশনের অন্যতম সদস্য এডভোকেট ফারহানা রেজা বাসস’কে বলেন, মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার পর পলাতক ১৮ আসামীর বিষয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিসহ সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। এরমধ্যে যাদের বিষয়ে আইনে সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার মতো ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের ১৪ জনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিল। এ আইনজীবীরা পলাতকদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন। আসামীরা হলেন-মাওলানা তাজউদ্দিন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ব্যবসায়ী মো.হানিফ, মহিবুল মুত্তাকীন, আনিসুল মুরসালিন, মুফতি শফিকুর রহামন, রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু, জাহাঙ্গির আলম বদর, মো. খলিল, মো.ইকবাল, মাওলানা লিটন ও মুফতি আবদুল হাই। ফারহানা রেজা বলেন, পলাতক ১৮ জনের মধ্যে চারজন আসামীর বিষয়ে “রাষ্ট্র নিযুক্ত” আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারা হচ্ছেন-আসামী সাবেক সেনা কর্মকর্তা এটিএম আমিন ও সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান খান ও খান সাঈদ হাসান। এ চার আসামীর আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ সাজা তথা মৃত্যুদন্ড হতে পারে এমন কোন ধারায় অভিযোগ গঠন হয়নি। তাই তারা ‘স্ট্যাট ডিফেন্স বা রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী’ সুবিধা পাননি। তিনি বলেন, গ্রেফতার ও পলাতক মিলিয়ে মোট ৪৫ আসামীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ৩১ জন কারাগারে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে এই মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। নিরীহ জজ মিয়াসহ কয়েক নিরীহকে মামলায় জড়িত করার চেষ্ঠা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এই মামলার অভিযোগপত্রে জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্টিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তে আসামির তালিকায় যোগ হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে দেশের ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন। এ হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। তিনি যেভাবে চালাতেন, সেভাবে কাজ হত। তার আশ্বাস ও সহযোগিতায় ২১ আগষ্ট হামলায় প্রশাসনিক সহাযোগিতা নিশ্চিত করা হয়। এ মামলার সকল আসামীর মোটিভ ছিল এক ও অভিন্ন।