ইয়াবা উৎপাদন, পরিবহন, বিপণনের পাশাপাশি সেবন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিষেশ বুলেটিন

8 October, 2018 -> 9:32 am.

পাঁচ গ্রামের বেশি ইয়াবা উৎপাদন, পরিবহন, বিপণনের পাশাপাশি সেবন করলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন করার প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে সরকার। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এই অনুমোদনের কথা জানান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ইয়াবার বিষয়ে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। আইনে ৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহন, বিক্রি, সেবন, চোরাচালানে যুক্ত থাকলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বনিম্ন সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ৫ গ্রামের কম ইয়াবা বহনে সর্বনিম্ন ৫ বছর ও সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড। এছাড়াও উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ দণ্ড জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের আগের আইনটি ১৯৯০ সালে করা। ২৮ বছরের পুরনো আইনটির সঙ্গে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সব আইনের সমন্বয় করে নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন আইনে এই সময়কালে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া হেরোইন-কোকেনসহ সমজাতীয় ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত মাদকদ্রব্য ২৫ গ্রাম বা তার বেশি পরিমাণে বহনে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২৫ গ্রামের কম বহনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের এবং সর্বনিম্ন ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সচিব জানান, যদি কোনও পানীয়তে ০.৫ শতাংশ বা এর বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে তবে সেটি বিয়ার হিসেবে গণ্য হবে। এই জাতীয় পণ্য বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্সের কোনও শর্ত ভঙ্গ করলে, লিখিত মুচলেকা প্রদান সাপেক্ষে এক লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, শিসাবার ও ডোপ টেস্টের মত বিষয়গুলো আইনে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় নেই এই আইন যা কভার করবে না। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।মাদক সেবন, মাদকব্যাবসা, মাদক পাচার এবংমাদকের গডফাদারদের সম্পর্কে তথ্য গোপনে RAB ও পুলিশকে জানান। আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে মাদক প্রতিরোধ করি। এছঅনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।