ব্রেকিং নিউজ-
ঠাকুরগাঁয়ে তিন দিন পর নিখোঁজ গৃহপরিচারিকা উদ্ধার ** লালবাগ রেলওয়ে বস্তির ভুমিহীনদের অবিলম্বে সরকারী খাসজমিতে পুনর্বাসনের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ** জনতা ব্যাংক লিঃ রংপুরে মহিলা গ্রাহক সেবা সপ্তাহ পালিত** রংপুরে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধন ঘোষনা করেন – প্রধানমন্ত্রী** হাতীবান্ধায় পেঁপের বাম্পার ফলন** ডোমারে একই স্থানে কর্মী সম্মেলন-ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে উত্তেজনা** লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই সহদর আটক** রংপুর এক্সপ্রেসের ৪৫ যাত্রীর জরিমানা** কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন** রংপুরে ক্রিকেট লীগের ৪র্থ রাউন্ড কাল শুরু**

বই লিখতে সাহায্য নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেন এস কে সিনহা

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিষেশ বুলেটিন

5 October, 2018 -> 2:54 am.

তৃতীয় শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে সাহায্য করতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনায় ব্যর্থ হয়ে সরকারের উপর প্রতিশোধ নিতেই বিতর্কিত একটি বই প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। বইটির লেখক নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এস কে সিনহা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি বইটি এককভাবে লিখেননি। বইটি লিখতে তিনি অন্যের সাহায্য নিয়েছেন । অর্থাৎ একটি বিশেষ মহলের সহায়তায় সরকারকে বিব্রত করতে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বইটি লিখেছেন । বইটিতে তিনি সরকারের সমালোচনা করলেও কেন আপিল বিভাগের বিচারকরা তার সাথে কাজ করতে রাজি হননি বা কেন তিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করেছেন সেটির কোন ব্যাখ্যা দেননি এস কে সিনহা। নিজের দোষ ঢাকতে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে একতরফাভাবে দোষারোপ করে গেছেন। সূত্রের খবরে জানা গেছে, দেশের কয়েকটি স্বনামধন্য পত্রিকার সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক বিতর্কিত এই বই লিখতে সিনহাকে সাহায্য করেছেন। এই বইয়ের লেখক তথা ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করতেই সরকারের বদনাম করে এই বইটি লিখেছেন এস কে সিনহা। বইটির মোড়ক উন্মোচন অনু্ষ্ঠানে সিনহা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম এর কয়েকজন মিত্র ছাড়া কেউ উপস্থিত ছিলেন না। বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি নিজ মুখেই স্বীকার করেন যে বই লিখতে তিনি অন্যের সাহায্য নিয়েছেন। এদিকে ষড়যন্ত্রের বই প্রকাশ করে জামায়াত-বিএনপির অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে আরাম-আয়েশে দিন পার করছেন এস কে সিনহা। নিউ জার্সির প্যাটারসন এলাকার জেসপার স্ট্রিটে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বিনিময়ে চারতলার একটি বাড়ি ছোটভাই অনন্ত সিনহার নামে কিনেছেন এস কে সিনহা। চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি বাড়িটি কিনেছেন। বিতর্কিত সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহার বিষয়ে মতামত যাচাইয়ে দেখা যার তার অপকর্মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ সজাগ রয়েছে এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছে। এই বিষয়ে আব্দুস সাত্তার নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, এস কে সিনহার বিদায় অনেক লজ্জার। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে কোন বিচারপতিকে দুর্নীতির দায় নিয়ে বিদেশ পালিয়ে যেতে দেখিনি। সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তিনি বিদেশের মাটিতে বসে ষড়যন্ত্রের বইটি প্রকাশ করেছেন। নাইমুল কবির নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, এস কে সিনহা মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে মুখরোচকভাবে বইটি লিখেছেন। এই সমাজে মিথ্যাকে বেশি বেশি গ্রহণ করা হয় সেই বিবেচনায় তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েই বইটি প্রকাশ করেছেন। তার কারণে বাংলাদেশের বদনাম হয়েছে। এমন মানুষকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে বিচারের সম্মুখীন করা উচিত। আবদুল মালেক নামের একজন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বলেন, এস কে সিনহার ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ বিদেশের মাটিতে ছোট হয়েছে। এস কে সিনহা স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নীতি-নৈতিকতার বিসর্জন দিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। পয়সার জন্য একটা মানুষ কিভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় সেটি এস কে সিনহাকে দেখলেই বোঝা যায়। সিনহার কাজকর্ম দেশের মানুষ সন্দেহর দৃষ্টিতে দেখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ কায়সার বলেন, একজন প্রধান বিচারপতির সাথে যখন তার সহকর্মীরা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেন, তখনই বুঝতে হবে তার গ্রহণযোগ্যতা কেমন ছিল। তার নীরবে দেশত্যাগের অর্থ হলো তিনি দুর্নীতি করেছেন, তার কাজে ত্রুটি ছিল, তার মধ্যে অসততা ছিল। সিনহা বাংলাদেশকে নিয়ে নাটক করেছেন। প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সময়ে আইনের অসম্মান করে ইচ্ছামত কাজকর্ম করেছেন তিনি। তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন দেশের বাহিরে বসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। মূলত বিএনপি-জামায়াত ও দেশ বিরোধী চক্রের প্ররোচণায় পড়ে অর্থের লোভে তিনি এই কাজটি করেছেন। শুনেছি তার একাউন্টে কোটি কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। মিথ্যার সাহায্য নিয়ে, কয়েকজন দক্ষ মিথ্যুকের সরাসরি সহায়তায় তিনি বইটি লিখেছেন। এতে কোন সন্দেহ নেই। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।