সিনহার অবসর কেলেঙ্কারী ও দেশত্যাগের নেপথ্যে

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিষেশ বুলেটিন

5 October, 2018 -> 2:50 am.

বাংলাদেশের ইতিহাসে এস কে সিনহা সব থেকে বেশি আলোচিত ও সমালোচিত প্রধান বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় যেন থামছেই না। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও মন্তব্য করে নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেন সিনহা। নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধান নিয়ে সরকারের নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ বিচারাঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছিল। এরপর সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও নানা রকম বিতর্কের জন্ম দেন সিনহা। সবচেয়ে বেশি টানাপড়েন দেখা দেয় অধস্তন আদালতের বিচারকদের আলাদা আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি তৈরি নিয়ে। এ বিষয় নিয়ে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন মন্তব্য করেও বেশ আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন। সমালোচনার মধ্যেই গত ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা হঠাৎ করেই এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। নিজে অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটির দরখাস্ত দিলেও গত ১৩ অক্টোবর রাতে দেশ ছাড়ার আগে তিনি তার বাসভবনের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসুস্থ নই। বিচার বিভাগের স্বার্থে আবার ফিরে আসব।’ পরের দিন ১৪ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসতে চাননি আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। এ অবস্থায় সিনহার দেশে ফেরা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নাটকীয় নানা ঘটনার পর বিধি লঙ্ঘন করে বিদেশে থেকেই হঠাৎ পদত্যাগ করেন প্রধান এস কে সিনহা। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন আগে নিজের আত্মজীবনীর আড়ালে একটি বিতর্কিত বই প্রকাশ করে আবারো নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন এস কে সিনহা। সিনহার নামে প্রকাশিত ”এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেমোক্রেসি” নামের বইয়ে তিনি সরকার ও সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সংস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি উক্ত বইয়ে পদত্যাগ এবং দেশ ত্যাগের জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। সিনহার অভিযোগ কতটুকু সত্য তা নিয়ে সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কথা বলেছেন সুপ্রিমকোর্ট-এর প্রাক্তন বিচারপতি ও এস কে সিনহার সহকর্মী বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।