ব্রেকিং নিউজ-
মংলা-বুড়িমারী বন্দরে সেবা দিতে শতভাগ দুর্নীতি : টিআইবি** দেশের উন্নয়ন বার্তা জনগণের মাঝে তুলে ধরার আহবান স্পীকারের ** বিরামপুরে মায়ের সাথে অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা** গোবিন্দগঞ্জে মিথ্যা মামলা দিয়ে জমি জোবর দখলে নিতে হুমকির অভিযোগ** গোবিন্দগঞ্জে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে চলছে গুচ্ছ গ্রামের নির্মানাধীন ঘরের কাজ ** রংপুরে তাজহাট থানার ওসির সাথে পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত** জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহে কৃমি নাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে ১লাখ ৪০ হাজার শিশুকে -রসিক মেয়র ** খালেদার বড়পুকুরিয়া মামলার চার্জ শুনানি পেছাল** বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রংপুর জেলা শাখার ত্রি বার্ষিক সন্মেলন অনুষ্ঠিত ** রংপুর বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সভা আজ বিকেলে **

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়তে পরীক্ষার দুই মাস পর পরিচয়পত্র বিতরণ

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , রংপুর

14 September, 2018 -> 12:04 pm.

এবার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) নিয়ে এক রকম তামাশার জন্ম দিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। দুই মাস আগে মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে দেয়া হলো পরিচয়পত্র। সেসব কার্ড আবার নানা ভুলে ভরা। বাবা-মায়ের নামের ভুল, উপজেলা এক তো জেলা অন্য- এমন নানা ভুলের আইডি কার্ড পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটায় সিন্ডিকেট কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ করা শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করেন উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। পরে ভুলের কথা জানতে পেরে কার্ডগুলো ফেরত দিতেও বলেন তিনি। একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়ে গণমাধ্যমে শিরোনাম হওয়াই যেন বেরোবির নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই বিতর্কের বেশির ভাগের কেন্দ্রে নাম আসে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর। ক্যাম্পাসে নিয়মিত না আসা, বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত না মেনে কর্মকর্তা নিয়োগ, তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, রাতের বেলায় ক্লাস নেয়া, নিজের কোর্সের পরীক্ষা অন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তার মাধ্যমে গ্রহণ করাসহ নানা অভিযোগে খবর হয়েছেন উপাচার্য। এবার যোগ হলো মাস্টার্স পরীক্ষার দুই মাস পর শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুলে ভরা আইডি কার্ড বিতরণ। শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১২ জুলাই তাদের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এর দুই মাস দুই দিন পর তাদের আজ (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটায় আইডি কার্ড নিতে ডাকা হয়। পৌনে তিনটায় কার্ড বিতরণ করতে আসেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের গলায় আইডি কার্ড পরিয়ে দেন তিনি। পরে নিজেদের আইডি কার্ডে ভুল দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ উপাচার্যকে বিষয়টি জানান শিক্ষার্থীরা। এ সময় সংশ্লিষ্টদের আইডি কার্ড সংশোধন করে দিতে বলেন তিনি। অধিকাংশ আইডি কার্ডে কারও নামের বানানে, কারও বাবা-মায়ের নামে, কারও গ্রাম, ডাকঘর এমনকি জেলার নামে ভুল রয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। আইডি কার্ডগুলোর মধ্যে একজনের উপজেলা লেখা হয়েছে গাইবান্ধা সদর, কিন্তু জেলার নাম লেখা সিরাজগঞ্জ। আরেকটি কার্ডে উপজেলা পাঁচবিবি ঠিক থাকলেও জেলার নাম লেখা হয়েছে লালমনিরহাট। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এক শিক্ষার্থীর কার্ডে জেলার নাম রংপুর, দিনাজপুরের ঘোরাঘাটের শিক্ষার্থীর কার্ডে জেলার নাম রংপুর, আদিতমারী উপজেলার সাথে জেলার নাম কুড়িগ্রাম লেখা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ কার্ডেই জেলার নাম লেখা হয়েছে রংপুর। এদিকে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা হয়েছে ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এমএসসি শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি বিতরণ’। শিক্ষার্থীদের বিস্ময়- ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্স শ্রেণি এমএসসি হয় কী করে! কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাস্টার্স পরীক্ষার দুই মাস পর কার্ড দিয়েছে। এই কার্ড দিয়ে ‘আমরা কী করব’। আর সবার আইডি কার্ডেই ভুল। তারা বলেন, কার্ডে উপজেলা গাইবান্ধা সদর লেখার পর কীভাবে জেলা সিরাজগঞ্জ লেখা হয় তা বুঝে আসছে না। কোনো অশিক্ষিত মানুষও অন্তত এই ভুল করবে না। ওই ব্যাচের শিক্ষার্থী এইচ এম নুর আলম বলেন, ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের, নাকি এমএসসি শিক্ষার্থীদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করবে। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা কীভাবে এমএসসি হয়। এটা কোন ধরনের অজ্ঞতা!’ আপাতত ছাত্রত্ব শেষেও কার্ড নিতে ঢাকায় কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে ক্যাম্পাসে এসেছেন একজন। তিনি বলেন, ‘এই আইডি কার্ডের কোনো দরকার নেই। কিন্তু সনদ তোলার সময় লাগতে পারে। তাই ছুটি নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুরে আসলাম। এসে যে কার্ড পেলাম তাতে তিনটি ভুল। এটা আমাদের সাথে তামাশা করা হলো।’ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত যাদের মাঝে আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে তাদের অনেকের কার্ডেই ভুল রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুল দেখা গেছে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডি কার্ড প্রস্তুতকরণ কমিটির আহ্বায়ক ড. রশীদুল ইসলাম বলেন, কার্ডগুলো অনেক আগেই প্রস্তুত হয়েছিল। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে বিতরণ করা হয়নি। কার্ডে ভুল থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কিছু কার্ডে ভুল হয়েছে। সংশোধন করে দেয়া হবে।