শিরোনাম-
কুড়িগ্রাম উলিপুরে স্কুল শিক্ষিকা অপহরনের চেষ্টা** 'হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল' রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় রেজাউল করিম রাজু ** দিনাজপুরে গোর-এ শহিদ ময়দানে ঈদের জামাত ৯টায়** ঠাকুরগাঁওয়ে চাচার হাতে ভাতিজি খুন** রংপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা** রংপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত দীপ্ত টিভির সাংবাদিকের সুস্থতার জন্য ওয়াদুদ আলীর দোয়া কামনা ** রংপুরে ঈদের প্রধান জামাত সাড়ে ৮টায়** যেভাবে কোরবানির পশুর যত্ন নিতে হবে** লালমনিরহাট ২ বিএনপি র মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় ইন্জিনিয়ার কামাল এগিয়ে** লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের বিভ্ন্নি গ্রামে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় **

রংপুরে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা

অনলাইন নিউজ

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , রংপুর

11 August, 2018 -> 1:31 am.

রংপুরের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালে নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও নার্স। এখানকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্রও সন্তোষজনক নয়। এসব হাসপাতাল গলাকাটা ফি নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু এসব তো নৈমিত্তিক ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় লোকবল ছাড়াও রয়েছে ওষুধ সঙ্কট যন্ত্রপাতির অভাবসহ নানা সঙ্কট। রংপুর সিটি কর্পোরেশন সহ রংপুরের ৮টি উপজেলায় ইদানীং সরকারি নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন চটকদার নামের এসব বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা আর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে দালালদের দৌরাত্ম্য। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রংপুরে উচ্চবিত্তের জন্য চিকিৎসা সুবিধা বাড়লেও নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। চিকিৎসা ব্যয় কম থাকায় তাদের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। কিন্তু এগুলোতে চিকিৎসা সেবার মান এতটাই নিম্নমুখী যে, মানুষ নিরুপায় না হলে সহজে সেদিকে পা বাড়াতে চায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এখানকার সরকারি চিকিৎসা খাতটি দিন দিন প্রাইভেট সেক্টরের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়। সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর এক গবেষণায় দেখা যায়,বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্য সমস্যার পরামর্শ এবং সেবা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষদের শতকরা ২৩.৪ ভাগ ওষুধের দোকান বা ফার্মেসিতে যায়, শতকরা ১৯.৭ ভাগ মানুষ পরামর্শ ও ওষুধের জন্য গ্রাম্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়, শতকরা ১৬.২ ভাগ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে এমবিবিএস বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়, শতকরা ৯.০ ভাগ মানুষ প্রাইভেট ক্লিনিকে যায়। অপরপক্ষে শতকরা ১২.১ ভাগ মানুষ উপজেলা হাসপাতাল, শতকরা ৯.০ ভাগ মানুষ জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায় এবং শতকরা ৪.১ ভাগ মানুষ সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যায়। এদিকে আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়,শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যান এবং মাত্র শতকরা ১৫ ভাগ মানুষ শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে এমবিবিএস ডাক্তারের কাছে যান।এ চিত্ৰ রংপুর সহ পুরো দেশের। সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার আনাচে-কানাচে, গভীর গ্ৰামাঞ্চলের ভিতরে প্রকাশ্যেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন শত শত হাতুড়ে ডাক্তার। নামের আগে ডাক্তার বসিয়ে নানা ডিগ্রী লিখে দেখছেন হাজার হাজার রোগী। এলাকার সচেতন মানুষের অভিযোগ ও দাবি, গ্রামের মানুষ সহজ-সরল। তাদের বিভিন্ন কৌশলে আয়ত্ত করে এসব হাতুড়ে ডাক্তার হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। কেউ কেউ ফার্মেসি খুলে লিখেছেন জেনারেল মেডিসিন প্রাক্টিশনার ডাঃ অমুক। আমরা চাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্ৰাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।ছবি প্রতিকী