শিরোনাম-
কুড়িগ্রাম উলিপুরে স্কুল শিক্ষিকা অপহরনের চেষ্টা** 'হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল' রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় রেজাউল করিম রাজু ** দিনাজপুরে গোর-এ শহিদ ময়দানে ঈদের জামাত ৯টায়** ঠাকুরগাঁওয়ে চাচার হাতে ভাতিজি খুন** রংপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা** রংপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত দীপ্ত টিভির সাংবাদিকের সুস্থতার জন্য ওয়াদুদ আলীর দোয়া কামনা ** রংপুরে ঈদের প্রধান জামাত সাড়ে ৮টায়** যেভাবে কোরবানির পশুর যত্ন নিতে হবে** লালমনিরহাট ২ বিএনপি র মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় ইন্জিনিয়ার কামাল এগিয়ে** লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের বিভ্ন্নি গ্রামে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় **

ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্ভোগে গুচ্ছগ্রামের ৫০ পরিবার

অনলাইন নিউজ

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , ঠাকুরগাঁও

11 August, 2018 -> 12:34 am.

ঠাকুরগাঁওয়ের ধর্মপুর গ্রামে নদীর চরে নির্মাণ করা হয়েছে একটি গুচ্ছ গ্রাম। সেখানে বসবাস করতে শুরু করেছে ৫০টি পরিবার। চরের মাঝে বাড়ি-ঘর তৈরি করায় জুলাই মাসে তাপদাহে নাকাল হয়েছে এসব পরিবারের লোকজন। অন্যদিকে বর্ষার সময় তাদের বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে ডুবে যাবে বলেও আশঙ্কা করছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। নদীগর্ভে গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে দ্বিমত ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মতামত গ্রহণ না করায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিশিষ্টজনদের। এই গুচ্ছ গ্রামে ঘর পেয়ে মাথা গোজার ঠাঁই হলেও এখানকার নানা অ-ব্যবস্থাপনায় দুঃচিন্তায় পড়েছেন আশ্রয় পাওয়া পারিবারগুলো। সদর উপজেলার ধর্মপুর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা মমতা রানী বলেন, আমরা আগে ঢোলারহাট ধর্মপুর গ্রামে জালাল উদ্দিনের বাড়িতে ছিলাম। ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে সরকার নদীর ধারে অসহায় পরিবারের জন্য একটি গুচ্ছ গ্রাম তৈরি করে দিয়েছেন। তখন আমি স্বামী-সন্তান নিয়ে এখানে এসে একটি ঘর নেই। আমাদের তো আর জায়গা-জমি নেই, আমরা আর অন্য কোথায় যাবো। সদর উপজেলার ধর্মপুর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা রাহেনা বেগম জানান, স্বামী ইসমাইল একজন দিনমজুর। আমাদের বাস্তুভিটা না থাকায় বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতেই ছিলাম। রাহেনার দুই ছেলে-মেয়ে ও শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে সংসারে ৬ জন মানুষ। শ্বশুর রহিজল আলী তিন বছর ধরে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত। টাকার অভাবে তার চিকিৎসাও বন্ধ, আর ছেলে মেয়ের লেখাপাড়ার খরচ দিতে না পেরে তাও বন্ধ আছে। শুধু রাহেনা নয়, তাদের মতো মমতা রানী, আঞ্জুয়ারা বেগমসহ ৫০টি পরিবারের অবস্থা একই। আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, আমরা রাতে ঘুমাতে পারিনা। কখন নদীর পানি বেড়ে যাবে, আর কখন বা রানীগঞ্জের স্লুইস গেট খুলে দেবে। আমরা আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছি। কয়েকদিন আগে নদীতে দুইটি ছোট বাচ্চা পড়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করা হয় বলে প্রাণে রক্ষা পায়। এছাড়াও দিনে বেশি গরম পড়লে বালুর ওপর দিয়ে হাঁটা যায় না মরুভূমির অবস্থায় পরিণত হয় এবং ঘরগুলোতে থাকাও যাচ্ছে না খুব কষ্টে জীবনযাপন করতেছি। এই গুচ্ছ ঘরের ভিটায় মাটি ভরাট না করে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় নদীর দু’পাশ থেকে। আর সেই বালুর ওপরেই নির্মাণ করা হয় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে একটি করে টিনের ঘর। সঙ্গে দেওয়া হয় একটি বন্ধু চুলা, টয়লেট আর ৬টি নলকূপ। অসহায় পরিবারগুলো ঘরে উঠেই পড়েছে তাপদাহের কবলে। প্রখর রোদ, টিনের গরম আর তপ্ত বালুর উত্তাপে ঘর ছাড়া হয়েছিল তারা। আর এখন বর্ষার পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে ভিটার বালু। গুচ্ছ গ্রামের ইসমাইল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে ঘর প্রতি দলিল হস্তান্তরের জন্য ৭শ’ টাকা আদায় করেছে সংশ্লিষ্টরা। আর ঘরের ভেতরে পার্টিশন না দেওয়ায় এক রুমেই ৫-৭ জন সদস্য নিয়ে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। সংশ্লিষ্টরাও এই গুচ্ছগ্রাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, ২৯ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী সফরে এসে ৩৩টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন তার মধ্যে ধর্মপুর গুচ্ছগ্রাম একটি। আমরা দেখেছি এখানে ৫০টি পরিবার খুব কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছে। বন্যা হলে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আর প্রচণ্ড রোদ হলে বালুর তাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। তবে আমরা মনে করি গুচ্ছগ্রামটি নদীর বালুচরে নির্মাণ করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলার দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি তসলিম উদ্দীন প্রধান বলেন, সরেজমিনে দেখলাম মধুপুর টাঙ্গন নদীর বালুর চরে ৫০টি পরিবারের জন্য একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারের খাস জমি থাকতে বালুর চরে কেন এই গুচ্ছগ্রাম করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত আমার মনে হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান জানান, নদীতে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের স্থান নির্বাচন করা সঠিক হয় নাই। বন্যার সময় ঘর বাড়ি তলিয়ে যাওয়া ও প্রাণহানি আশঙ্কা রয়েছে। আর এ গ্রামটি নির্মাণের সার্বিক দায়িত্বে থাকা সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসলাম মোল্লা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামতে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঠাকুরগাঁও পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, নদীতে গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণের ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো মতামত চাওয়া হয়নি। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্মপুর গ্রামে টাঙ্গন নদীর চরে নির্মাণ কাজ শুরু হয় গুচ্ছ গ্রামটির। ৫০টি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় ৭৫ লাখ টাকা। ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরে এলে ৩৩টি প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের মধ্যে এটিও একটি ছিল।