ব্রেকিং নিউজ-

বদরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা চাকুরী করি, বেতন পাই

10 August, 2018 -> 8:20 am.

রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ঝিমিয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের ‘চাকুরী করি, বেতন পাই’ মনোভাবের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষক ৩০ কিলোমিটার দুরে রংপুর নগরীতে পরিবার নিয়ে থাকেন। একারণে শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিতির সময় ঠিক না থাকলেও দুপুরের পর ফেরার সময় ঠিকই থাকে। ১জন শিক্ষা অফিসার ও ৭জন সহকারী শিক্ষা অফিসার ঠিক মতো স্কুল গুলো তদারকি করেন না। ফলে শিক্ষকদের ইচ্ছে মতো চলছে বদরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো। প্রতিবছর সরকারের দেয়া শ্লিপ ও শেখন-শেখানোর জন্য বরাদ্দকৃত ৪৫ হাজার টাকার কোন হদিস থাকে না। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণের। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলায় ১শত ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মোট ৯শত ৫জন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৬টি ও সহকারী শিক্ষকের ৩৪টি শুন্যপদ রয়েছে। মোট শিক্ষার্থী প্রায় ৩৪ হাজার। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ রুম, মিড-ডে মিল ও স্কুল ফিডিং চালু রয়েছে। সরেজমিনে, কয়েকটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে,শিক্ষার্থীরা ক্লাশ রুমে হইহুল্লোর করছে। শিক্ষকরা অফিস রুমে বসে খোশগল্পে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ক্লাশ রুম ছেড়ে গল্প করছেন কেন? এমন প্রশ্নে একজন শিক্ষক বলেন, টিফিনের সময় হচ্ছে তাই অফিসে বসে গল্প করছি। এখনো টিফিন হতে ২৫ মিনিট বাকী আছে? প্রশ্নটির উত্তরে অন্য এক শিক্ষক বলেন, ভাই ‘চাকুরী করি বেতন পাই’। এমনি তো দেয় না। সব সময় ক্লাশে থাকতে ভালো লাগে না। প্রতি বছর বিদ্যালয় গুলোকে শিক্ষা উপকরণ কেনা এবং শেখন-শেখানোর জন্য ৪৫ হাজার টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। টাকা গুলো কি ভাবে ব্যয় করা হয় ? এমন প্রশ্নে কয়েকজন সহ-কারী শিক্ষক জানান, হেড স্যার জানেন। আমরা জানি না। আবুল কালাম নামের একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, সরকার পাকা বিদ্যালয় করে দিয়েছে। বিএ পাশ, এমএ পাশ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু আমাদের সন্তানরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত পড়ালেখা শিখছে না। সরকারের কোন দোষ নাই। সব দোষ দায়িত্বহীন শিক্ষকদের। রাকিবুল ইসলাম নামের একজন অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক শহর থেকে দেড় ঘন্টা জার্নি করে গ্রামের স্কুলে আসেন। আবার দুুপুরের পর চলে যায়। এই কারণে অলসতা, দায়িত্বহীনতা, পাঠদানে অনিয়ম ও ফাঁকি দেয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসারও সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ কোন দায়িত্ব পালন করেন না।। এরা সবাই ফাঁকিবাজ। এদের কাছ থেকে মানস্মত শিক্ষা আশা করা যায় না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড.তুহিন ওয়াদুদ বলেন, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নত অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ থাকার পরও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, শ্রেণিকক্ষে কম উপস্থিতি, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরী হচ্ছে না। এটি গভীর প্রভাব ফেলছে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে। এ থেকে উত্তরণে শুধু শিক্ষক নয়, শিক্ষার্থী এবং তার অভিভাবকের সমস্বিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি। বদরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো। গত বছর প্রায় ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। আগামীতে শিক্ষকদের দায়িত্ব জ্ঞান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরব ভূমিকা পালন করা হবে। জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তাজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করে পাঠদান করবে। এর ব্যত্যয় হলে নিয়ম অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।