জাতির পিতার শক্তি-সাহসের উৎস ছিলেন বঙ্গমাতা

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিষেশ বুলেটিন

8 August, 2018 -> 8:43 am.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার জন্য প্রেরণা, শক্তি এবং সাহসের এক উৎস ছিলেন বঙ্গমাতা। বুধবার (০৮ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা এবং জাতির পিতার সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে বঙ্গবন্ধু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গমাতাকে স্বামী-সংসার অন্তঃপ্রাণ বাঙালি নারী, শোষিত-নিপীড়িত জনসাধারণকে মুক্তির চেতনায় জাগিয়ে তোলার সংগ্রামে স্বামীর পাশে থাকা সহযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বঙ্গমাতার পরামর্শ জাতির পিতাকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, তার (বঙ্গমাতা) সম্পর্কে মানুষ খুব সামান্যই জানে। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে ও প্রচার বিমুখ ছিলেন। তাই বঙ্গমাতার অবদান লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে গেছে। জাতির পিতার সংগ্রাম ও দল পরিচালনায় বঙ্গমাতার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলখানায় দেখা করতে গেলে আব্বা তার মাধ্যমেই দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর পেতেন। আব্বার দিক-নির্দেশনা আম্মা নেতাকর্মীদের পৌঁছাতেন। আব্বা কারাবন্দী থাকলে সংসারের পাশাপাশি সংগঠন চালানোর অর্থ আমার মা যোগাড় করতেন। শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের একটি বড় সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তার অবর্তমানে একদিকে যেমন সংসারের দায়িত্ব পালন অন্যদিকে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দলকে সংগঠিত করা, আন্দোলন পরিচালনা করাসহ প্রতিটি কাজে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমার মা চাইলে স্বামীকে সংসারের চার দেয়ালে আবদ্ধ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি কখনও ব্যক্তিগত-পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে তাকাননি। বঙ্গমাতা একজন প্রকৃত গেরিলা ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৬ দফা আন্দোলনের সময় সবথেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, কারাবন্দীদের মুক্তির জন্য ৭ জুনের হরতাল সফল করা, সেটাও সফল হয়েছিল বেগম মুজিবের প্রচেষ্টায়। তিনি নিজ বাসা থেকে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সেখান থেকে স্যান্ডেল আর বোরখা পরে জনসংযোগে বেরিয়ে পড়তেন। তিনি বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় বেগম মুজিব পুলিশ ও গোয়েন্দা চক্ষুর আড়ালে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। বিচক্ষণতার সঙ্গে ছাত্রদের তিনি নির্দেশনা দিতেন এবং অর্থ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেন। এমনকি নিজের গহনা বিক্রি করেও অর্থ যুগিয়েছেন। ইউনেস্কো কতৃর্ক ওয়ার্র্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই দিন নানা জনে নানা পরামর্শ দিচ্ছে। মা বাবাকে বলেছিলেন তোমার যা মনে আসে তাই তুমি বলবে। তুমি রাজনীতি করেছো, কষ্ট সহ্য করেছ, তুমি জান কী বলতে হবে। কারও কথা শোনার দরকার নাই। শুধু মনে রাখবে, এই লাখো জনতা যেন হতাশ হয়ে না যায়। আবার পাকিস্তানিরা যেন গোলাগুলি করে এদের শেষ করে দিতে না পারে। স্কুল কলেজের প্রথাগত শিক্ষা অর্জন করতে না পারলেও বেগম মুজিব স্বশিক্ষিত ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আম্মার উৎসাহেই জাতির পিতা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ লিখেছিলেন এবং জাতির পিতার ডায়েরিগুলো বঙ্গমাতাই সংরক্ষণ করে রাখেন, যা পরবর্তীতে পুস্তক আকারে প্রকাশ হয়। বঙ্গমাতার সাদাসিধে জীবন যাপনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনদিন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকতে চাননি, যদি ছেলে-মেয়েরদেরও চোখ উপরে উঠে যায়। বঙ্গমাতা বিলাসিতাকে কখনও প্রশ্রয় দেননি। ছেলেমেয়েদের সেই আদর্শেই গড়ে তোলেন। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেগম ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহিলা ও শিশুমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেবেকা মোমেন এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম।