পঞ্চগড়ে স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , পঞ্চগড়

8 August, 2018 -> 2:59 am.

অসামাজিক কার্যকলাপে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে শিকল দিয়ে বেঁধে তালাবদ্ধ ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামী আশরাফুলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান হাট ইউনিয়নের গোবরাগছ গ্রামে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ জানান, বিয়ের পর থেকে টাকা জোগাতে অসামাজিক কাজ করতে চাপ দেয় স্বামী আশরাফুল। তাতে রাজি না হওয়ায় শিকল দিয়ে বেঁধে তালাবদ্ধ ঘরে আটকে রেখে গত ৭ দিন ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতন সইতে না পেরে জখম শরীর নিয়ে কৌশলে শিকল ছিঁড়ে বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে পালিয়ে যান তিনি। সেখানকার স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওই গৃহবধূ আরো জানান, তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের সনাতন ধর্মীয় হত দারিদ্র এক কৃষকের মেয়ে। ১ বছর আগে কাজের খোঁজে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ওমরখানা ইউনিয়নে গেলে গোয়ালবাড়ি গ্রামের সাইদুলের বাড়িতে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান হাট ইউনিয়নের গোবরাগছ গ্রামের আশরাফুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কিছুদিন পর নিজ ধর্ম ও মা-বাবাকে ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে আশরাফুলকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই আশরাফুল টাকা রোজগার করার জন্য তাকে অসামাজিক কাজ করতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে আশরাফুল। এ সময় তাকে বাঁচাতে বাড়ির সদস্যসহ এলাকার কেউ এগিয়ে আসেনি। অভিভাবকহীন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। ভাল চিকিৎসা আর দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ, মানবাধিকার কর্মী, ব্র্যাক কর্মী, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহিন। এ সময় মানবাধিকার ও ব্র্যাক কর্মীরা অভিযুক্ত আশরাফুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার পরামর্শ দেন। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা বলেন, এটি খুবই অমানবিক ঘটনা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার জন্য তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার শোনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নির্যাতিতার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাকে থানায় এসে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।