বঙ্গমাতার ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেক্স

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , বিষেশ বুলেটিন

8 August, 2018 -> 12:06 am.

বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী ৮ আগস্ট। জাতির পিতার পাশে থেকে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তানী শাসনকালে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাবন্দী করা হলে এই মহীয়সী নারীকেও অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালেও অসীম সাহস, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। বাঙালি জাতির গর্ব বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় বিপথগামী সেনা অফিসারদের হাতে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যদের সঙ্গে নিহত হন। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ছাত্র সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করবে। আগামীকাল বনানী কবরস্থানে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে কোরআন পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মৃতি স্বর্ণপদক, বৃত্তি, স্মৃতি বক্তৃতা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন। প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামাদ, ট্রেজারার এবং ট্রাস্ট ফান্ড সভাপতি প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন। এছাড়া বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মৃতি বক্তৃতা দেবেন। হল প্রভোস্ট ড. জাকিয়া পারভিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বঙ্গমাতা বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের নেপথ্য কারিগর: রাষ্ট্রপতি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল জাতির পিতার সহধর্মিণীই নন, বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে তিনি নেপথ্য কারিগর। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্ম। তার ডাকনাম ছিল রেণু। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা। যে-কোনো পরিস্থিতি তিনি বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও সাহস নিয়ে মোকাবিলা করতেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী হওয়ায় পর তার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সেই কঠিন সময়গুলো স্বামীর পাশে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। পরিবারের দেখাশোনার পাশাপাশি স্বামীর মুক্তির জন্য মামলা পরিচালনা, দলের সাংগঠনিক কাজে পরামর্শ ও সহযোগিতা দান সবই তাকে করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের নেপথ্যেও ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। তারই পরামর্শে বঙ্গবন্ধু হৃদয় থেকে উৎসারিত অলিখিত এ ভাষণ প্রদান করেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বাঙালির অহংকার, নারী সমাজের প্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তাই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কেবল জাতির পিতার সহধর্মিণীই নন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে তিনি নেপথ্য কারিগর। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বামী-পুত্র-পুত্রবধূসহ নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে তিনি ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে নির্মমভাবে শহিদ হন। জাতির ইতিহাসে সে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। বঙ্গমাতা আমাদের মাঝে না থাকলেও তার রেখে যাওয়া আদর্শ সবসময় আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’