শিরোনাম-
কুড়িগ্রাম উলিপুরে স্কুল শিক্ষিকা অপহরনের চেষ্টা** 'হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল' রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় রেজাউল করিম রাজু ** দিনাজপুরে গোর-এ শহিদ ময়দানে ঈদের জামাত ৯টায়** ঠাকুরগাঁওয়ে চাচার হাতে ভাতিজি খুন** রংপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা** রংপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত দীপ্ত টিভির সাংবাদিকের সুস্থতার জন্য ওয়াদুদ আলীর দোয়া কামনা ** রংপুরে ঈদের প্রধান জামাত সাড়ে ৮টায়** যেভাবে কোরবানির পশুর যত্ন নিতে হবে** লালমনিরহাট ২ বিএনপি র মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় ইন্জিনিয়ার কামাল এগিয়ে** লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের বিভ্ন্নি গ্রামে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় **

কিশোরগঞ্জে অস্তিত্ব্যবিহীন দাখিল মাদ্রাসা এমপিও ভুক্তির পথে। দেখার কেউ নেই !

শাকিল খান

প্রতিনিধি , নীলফামারী

7 August, 2018 -> 8:46 am.

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে অস্তিত্ব্যবিহীন দক্ষিণ বড়ভিটা “বাইতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা”র কাঁচা-পাকা অবকাঠামোর চিহ্ন না থাকলে ও এমপিও ভুক্তির পথে প্রচার চালিয়ে অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাইতুল উলুম এতিমখানা মাদ্রাসা টি সাড়ে ৮৭ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্টিত। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ ইং সালে স্থাপিত হয়। যা অত্র এলাকার জনগণ ও সরকারী সাহায্য ও অনুদানে পরিচালিত। উক্ত এতিমখানার আশরাফ আলী তৎকালীন সভাপতি থাকাকালীন সময়ে এতিমখানা মাদ্রাসার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির দলিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে গচ্ছিত ছিল। সেই সুবাধে আশরাফ আলী মোটা অংকের টাকা তথা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হবার উদ্দেশ্যে দূর্ণীতির আশ্রয় নিয়ে এতিমখানা মাদ্রাসার কমিটির সাথে আলোচনা সভা না করে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে এতিমখানা মাদ্রাসার নামে রেজিস্ট্রিমূূলে দানকৃত জমির মূল দলিলে এতিমখানা শব্দটি ফ্লুটকালি ব্যবহার করে ঐ শব্দটির উপর ‘দাখিল’ শব্দটি বসিয়ে দলিলের ফটোকপি করে। তখন দলিলের ফটোকপিতে ‘বাইতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা’ নামে জাল-ভুয়া-অবৈধ্য কাগজপত্র তৈরী করে নিজে নিজেই গেজেটেড অফিসারের স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে সত্যায়ন দেখিয়ে জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করে জামায়াতি কায়দায় ধোকা দিয়ে স্বীকৃতি লাভ করে এবং একই কায়দায় এমপিও ভুক্তির আওতায় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। এ বিষয়ে অস্তিত্ববিহীন দাখিল মাদাসা সুপার আব্দুল মতিন জানান, আমি রংপুর গংগাচড়া থানার নোয়ালী দাখিল মাদ্রাসায় সহ-সুপার হিসেবে কর্মরত। ফলে মাদ্রাসার বিষয়ে জানতে হলে বর্তমান নজরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সুপারের সাথে কথা বলতে বলেন। মাদ্রাসার অস্তিত্ব নাই অথচ ডাইরেক্টরেট অফ ইন্সপেকশন এন্ড অডিট (ডিআইএ) অনলাইন অডিট এন্ড পিয়ার ইন্সপেকশন সিসটেম-এর তালিকায় সিরিয়াল নং- ৪২, ইন নং- ১৩১৫৭৫ তে এই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায় । এটা কিভাবে সম্ভব করেছেন, জানতে চাইলে বলেন, অনেকটা তিস্তার পানি চুক্তির মতোই। কারণ হিসেবে জানান, তিস্তায় পানি থাক আর না থাক তিস্তার পানি চুক্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে পানি আছে। ভারপ্রাপ্ত সুুপার নজরুুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে জানান, আমি বাইতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় চাকুরী নিয়ে সর্বশান্ত হয়েছি। আমার জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ.টি.এম নুরুল আমিন অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, এই দাখিল মাদ্রাসা কতৃপক্ষের হাত এত শক্তিশালী যে, উপর থেকে সব কাজ করে। তারা আমাদের সাথে কোন বিষয়ে যোগাযোগ করে না। ঐ দাখিল মাদ্রাসায় মোটা অংকের টাকায় চাকুরীতে নিয়োগ পাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক গর্ব করে বলেন, বাংলাদেশে যদি ১ টি দাখিল মাদ্রাসা এমপিও ভুক্ত হয়, সেই প্রতিষ্ঠানটি হলো আমাদের এই দাখিল মাদ্রাসা। আর এমপিও পাওয়ার সাথে সাথেই মাদ্রাসার অবকাঠামো তৈরী করা হবে। এ ব্যাপারে বাইতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি আশরাফ আলী জানান, বর্তমানে আমার মাদ্রাসার অবকাঠামো নেই এবং মাদ্রাসার অস্তিত্ব না থাকায় আমরা পার্শবর্তী রনচন্ডী ইউনিয়নে বসুনিয়া পাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় আমার এই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম চালাই। মোটা অংকের টাকায় নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। বসুনিয়া পাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোজাফ্ফর এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি পাঠদানের বিষয়টি অস্¦ীকার করেন। মাদ্রাসা সম্পর্কে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলার রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, এই নামে কোন দাখিল মাদ্রাসা আমার ইউনিয়নে নেই। যে মাদ্রাসা রয়েছে, তার নাম “বাইতুল উলুম এতিমখানা (মাদ্রাসা)। যারা দাখিল মাদ্রাসার নাম ভাঙ্গিয়ে অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছে তারা বাটপার ও জাহান্নামী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ-এর সাথে কথা হলে তিনি জানান বিষয়টি দেখবেন।