শিরোনাম-
কুড়িগ্রাম উলিপুরে স্কুল শিক্ষিকা অপহরনের চেষ্টা** 'হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল' রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় রেজাউল করিম রাজু ** দিনাজপুরে গোর-এ শহিদ ময়দানে ঈদের জামাত ৯টায়** ঠাকুরগাঁওয়ে চাচার হাতে ভাতিজি খুন** রংপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা** রংপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত দীপ্ত টিভির সাংবাদিকের সুস্থতার জন্য ওয়াদুদ আলীর দোয়া কামনা ** রংপুরে ঈদের প্রধান জামাত সাড়ে ৮টায়** যেভাবে কোরবানির পশুর যত্ন নিতে হবে** লালমনিরহাট ২ বিএনপি র মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় ইন্জিনিয়ার কামাল এগিয়ে** লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের বিভ্ন্নি গ্রামে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় **

ঠাকুরগাঁওয়ে পনির উৎপাদনে উজ্বল দৃষ্টান্ত মাসুমা খানম

অনলাইন নিউজ

রংপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম , ঠাকুরগাঁও

7 July, 2018 -> 1:13 am.

চাইলে মানুষ সব কিছু করতে পারে। এজন্য চাই অদম্য চেষ্টা,আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল। তেমনই এক দৃষ্টান্ত উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুর শাহপাড়া এলাকার মাসুমা খানম। তিনি নিজ উদ্বোগে গড়ে তুলেছেন গরুর দুধ থেকে পনির তৈরির কারখানা। যা থেকে তিনি নিজে যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি সমাজের পিছিয়ে পরা অসহায় ও নির্যাতিতা নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছেন। প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা মাসুমা খানমের সফলতার গল্পটা একটু ভিন্ন। মাসুমা খানম জানান, বছর সাতেক আগেও তিনি একজন সাধারণ গৃহিনী ছিলেন। সে সময় সংসারের চার ছেলের লেখাপড়া ও অন্যান্য খরচ বহন করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বড় ছেলে তারিকুল ইসলামের পরামর্শে বছর ছয়েক আগে ২০১২ সালে স্থানীয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র আড়াই হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। তা থেকে সাতাশ লিটার দুধ কিনে শুরু করেন পনির উৎপাদন। সে পনির বিক্রি করে যে টাকা লাভ হতো তার সমস্তটুকুই কারখানায় ব্যয় করতেন তিনি। এভাবে পনির উৎপাদন বাড়াতে থাকেন তিনি। মাসুমা খানম আরো জানান, বর্তমানে তার এ কারখানায় প্রতিদিন প্রায় বাইশ শত লিটার দুধের দ্বারা তৈরি হচ্ছে দুইশত কেজি পনির। যার বাজার মূল্য একলক্ষ টাকা। স্বাস্থ্যসন্মত উপায়ে তৈরি এসব পনির রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্রি হচ্ছে। অন্য জেলার ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে রাখেন। আর এভাবেই ধীরে ধীরে এই পনির পাল্টে দিয়েছে তাঁর জীবনের গতি। পনির বিক্রি করে লাভের টাকা দিয়ে তিনি নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন একটি গরুর খামার। সেখান রয়েছে বিভিন্ন জাতের চৌদ্দটি গরু। তা থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড়শত লিটার দুধ পান তিনি। মাসুমা খানমের ইচ্ছা তার এই পনির কারখানাটি আরো বড় পরিসরে গড়ে তুলবেন। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি পনির উৎপাদন হবে। আর সে পনির দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। মাসুমা বেগমের বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম বলেন, অনার্স পাস করে তিনি ঢাকায় মার্স্টাস পরীক্ষার জন্য যান। সেখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ পান। সে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সামগ্রী বাজারজাত করতেন তিনি। আর সে প্রতিষ্ঠানের কারখানায় পনির তৈরি করা শেখেন তিনি। কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে দেন এবং পরবর্তীতে মা মাসুমা খানমকে সে পনির তৈরির পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। বর্তমানে নিজস্ব কারখানায় যে পনির উৎপাদন হয় তা তিনি বাজারজাত করেন। মাসুমা খানমের এই পনির কারখানায় একদিকে যেমন তিনি নিজে লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে তার দ্বারা উপকৃত হচ্ছে স্থানীয় ছোট ছোট গরু খামারি ও অসহায় নির্যাতিত মহিলারা। মাসুমা খানম সমাজের অসহায়, দু:স্থ ও নির্যাতিতা প্রায় পয়তাল্লিশ জন নারীকে তার কারখানায় কাজ দিয়ে তাদের স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছেন। কারখানার শ্রমিক নিশ্চিন্তপুর এলাকার শাহিনা আক্তার জানান, তিনি স্বামী পরিত্যাক্তা নারী। এক সময় দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হতো। গত দুই বছর আগে তিনি এই কারখানায় আসেন এবং মাসুমা খানমের কাছে চাকরি চাইলে তিনি তাকে কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজে রাখেন। বর্তমানে কারখানায় কাজ করে যা পান তা দিয়ে সংসারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়া চালান তিনি। একই এলাকার নিহার বেগম জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামীকে কিছু দুষ্কৃতিকারী হত্যা করে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার জীবনে কালো অধ্যায় শুরু হয়, অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। তাই নিজের পায়ে দাড়াতে মাসুমা খানম তাকে সহযোগীতা করেন এবং তার কারখানায় কাজ দেন। কারখানার আরেক শ্রমিক আরজিনা বেগম বলেন, বছর তিনেক আগে এই কারখানায় কাজ নেন। তার স্বামী এক সময় রিক্সা চালাতো। কিন্তু স্বামী অসুস্থ হওয়াতে আর তেমন কাজ কর্ম করতে পারেন না। সেসময় সংসারের হাল ধরতে তিনি এই কারখানায় কাজ নিয়েছেন। তার তিনটি সন্তান রয়েছে। এই কারখানায় কাজ করে মাসে যা বেতন পান তা দিয়ে তিন সন্তানের লেখাপড়া ও খাওয়া খরচ হয়ে যায় তার। স্থানীয় গরু খামারী নিজাম হোসেন টিপু বলেন, তিনি প্রতিদিন এই কারখানায় পঞ্চাশ থেকে ষাট লিটার দুধ দেন। এই কারখানা না থাকলে তার এই দুধ বাজারে খুচরা বিক্রি করতে অনেক সময় লাগতো এবং বেশ কষ্টও হতো। একই কথা জানান, খামারি সানাউল হক ও অন্যান্য আরো বেশ কয়েকজন ছোট খামারি। মাসুমা খানমের এই উদ্বোগ শুধু ঠাকুরগাঁওয়ে নয়, সারাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক মো. আখতারুজ্জামান। তার এই খামারকে বাণিজ্যিকভাবে আরো প্রসারিত করতে ও মাসুমা খানমের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপান্তর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের এই পনির একদিন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হবে এটাই প্রত্যাশা করেন মাসুমা খানম। এ জন্য সরকারের সাহায্য নয়, শুধু সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।